Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:০৯

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ

Arju Akhter (30).
আরজু আক্তার

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভুল চিকিৎসায় আরজু আক্তার নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেডে সরকারি ডাক্তারের ভুল অপারেশনের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত হলেন- উপজেলার বাজ হিজলতলী গ্রামের মুকুল হোসেনের স্ত্রী আরজু আক্তার (৩০)।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর ) সকাল ৯টায় প্রসূতি আরজু আক্তার দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক কুহু মুৎসুদ্দীকে দেখাতে গেলে তিনি প্রসূতির পেটের বাচ্চা বড় হয়ে গেছে এবং জরুরীভাবে অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পরামর্শ দেন। এসময় তাকে হিমোগ্লোবিনসহ বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করাতে বলেন। ওই সময় প্রসূতির কোন অভিভাবক পাশে না থাকার কারণে সে বাড়িতে চলে যায়।

পরে বিকেলে তার স্বামীকে সাথে নিয়ে এসে ওই ক্লিনিকে এসে ভর্তি হয়ে যাবতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং চিকিৎসক পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে রোগীর শরীরে রক্ত শূন্যতার কথা জানান। রাতে রক্ত সংগ্রহ করে দুই ব্যাগ রক্ত প্রসূতির শরীরে দেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর চিকিৎসক কুহু মুৎসুদ্দী কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার করেন। এতে সন্তান সুস্থভাবে ভূমিষ্ট হলেও প্রসূতির শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এসময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ওই চিকিৎসক উপায়ন্তর না দেখে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দেড় ঘন্টা পর রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বজনরা এনাম মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং আইসিইউ ইউনিটে ভর্তি করেন। এসময় রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য ওই হাসপাতালে পুনরায় আরেকটি অপারেশন করা হয়। পরদিন বুধবার ভর্তি থাকা অবস্থা সে মারা যায়।

নিহতের স্বামী মুকুল হোসেন জানান, দেওয়ান ডিজিটাল ক্লিনিকের চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় পরে তা কোনক্রমে বন্ধ করতে না পারায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রীর মতো কারো যেন অকাল মৃত্যু না হয়, আর কারো সন্তান যেন এতিম না হয়। ডাক্তারসহ যারা এ ঘটনায় দায়ী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।

দেওয়ান ডিজিটাল ক্লিনিকের ম্যানেজার দেওয়ান আসাদুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

অভিযুক্ত চিকিৎসক কুহু মুৎসুদ্দী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রক্তে হিমোগ্লোবিন কম ছিল যার ফলে দুই ব্যাগ রক্ত প্রসূতির শরীরে ঢুকানো হয়, হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক অবস্থায় আসলে অপারেশন করি। কিন্তু আধা ঘন্টা পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অবস্থা আশংকাজনক হয়। পরে দুই ব্যাগ রক্তসহ রোগীকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

জিএ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS