smc
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭

সবজি বিক্রেতা থেকে পাথর ব্যবসায়ী হাসান কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

|  ০৩ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৮ | আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৪৮
Hasan, a stone trader, went missing, rtv news
মো. হাসান
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীকে কৌশলে ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার পাথর বাকি নিয়ে প্রতারণার করার অভিযোগ উঠেছে মো. হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

হাসানের বিরুদ্ধে আদালতে তিনটি মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. হাসান জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার শামসুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসান নামে ওই যুবক পূর্বে স্থানীয় বাজারে তার বাবার সঙ্গে ছোট্ট একটি সবজির দোকান করলেও পরবর্তীতে সে আঁখি অ্যান্ড অপু টেড্রার্স নামে একটি ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসাবে কাজ শুরু করেন।কিন্তু কাজের বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়ম করার অপরাধে গেলো ২০১৭ সালে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।

এদিকে কয়েক দিন যেতেই না যেতে সে  হয়ে উঠে পাথর ব্যবসায়ী। শুরু করে ব্যবসার নামে প্রতারণা। প্রথম দিকে ওই যুবক কৌশলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ মূল্যে পাথর ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করতেন।পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকার মূল্যে পাথর বাকিতে ক্রয় করে  এবং সেই পাথরের টাকা পরিশোধ করতে টালবাহানা শুরু করে। শুধু তাই নয় তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের তার নিজের একাউন্টের স্বাক্ষরিত চেকের পাতায় বিভিন্ন অংকের টাকা উল্লেখ করে পরে সেই চেক ব্যবাসায়ীদের কাছে জামানত হিসেবে হস্তান্তর করে লাখ লাখ টাকার পাথর ক্রয় করে।তবে তার ব্যাংক একাউন্টগুলোতে নেই কোন টাকা।

তাছাড়া হাসান নামে ওই যুবকের কাছে ব্যবসায়ীরা তাদের পাওনা টাকার জন্য গেলে হাসান বিভিন্ন সমস্যা ও মিথ্যা আশ্বাস দেয়।তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এমনকি তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাচ্ছে না ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। কারণ তিনি কয়েক দিন যেতে না যেতেই ফোন নম্বর পরিবর্তন করেন। আর এভাবেই পাওনা টাকার জন্য গেলো দুই থেকে আড়াই বছর ধরে উত্তোলনের জন্য হাসানের কাছে দৌড়াচ্ছে প্রায় দুই ডজন ব্যবসায়ী। ফলে ভুক্তভোগী এ ব্যবসায়ীরা হাসানের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়েছে পড়েছেন।

এদিকে প্রতারক হাসানের বিরুদ্ধে মোফাজ্জল হোসেন ও সোলেমান পাশা, তফিজুল ইসলাম নামে তিন ব্যবসায়ী গেলো ২০১৮ সালের দিকে পৃথকভাবে তিনটি মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর  আগে হাসান মোটা অংকের টাকায় পাথর ক্রয় করে। পরে টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। এমনকি ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকার চেক প্রদান করলেও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। তাছাড়া মামলার পূর্বে পাওনা টাকা উত্তোলনের জন্য হাসানকে আদালতের মাধ্যমে নিগ্যাল নোটিশ করলেও আদালতকে অবমাননা করে নোটিশের কোনও জবাব বা পাওনা টাকা পরিশোধ করতেও স্বীকার হয়নি। এভাবে একাধিক ব্যবসায়ীর লাখ লাখ টাকার পাথর নিয়ে এখন সেই পাথরের টাকা পরিশোধ করতে হাসান শুরু করেছে টালবাহানা।      

এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা এলাকার পাথর ব্যাবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান নামে ওই প্রতারক আমার কাছে গত দুবছর আগে পাথর বাকি নিয়ে টাকা দিচ্ছে না। টাকার জন্য যোগাযোগ করা হলে হাসান দেখাও করে না ফোনও ধরছে না৷ শুধু আমি নই আমার মতো ২০ থেকে ২২ জন ব্যবসায়ীরা কাছে লাখ লাখ টাকার পাথর বাকি নিয়ে তাদের পথে বসিয়েছে’।

মোফাজ্জল হোসেন নামে আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, হাসান আমার কাছে সাত লাখ বিশ হাজার টাকার পাথর  বাকি নিয়ে টাকা দিচ্ছে না। গত দুই বছর ধরে সে আমার পাওনা টাকা না দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে। তিনি আমাকে তার তার ইসলামী ব্যাংকের একটি চেক দিলে সে চেকের টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে তার অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই বলে  ইসলামী ব্যাংক নিশ্চিত করে।

পরে আমি আমার পাওনা টাকা না পাওয়ায় আদালতে গিয়ে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। মামলটি চলমান রয়েছে।

একই কথা জানান,হাসানের প্রতারণার ফাঁদে পড়া সোলেমান পাশা নামে আরেক ব্যবসায়ী। তিনি বরিশাল থেকে এসে বাংলাবান্ধায় এসে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে তার ব্যবসা ভালোই চলছিল। এ সময় হাসানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠলে হাসান সুযোগের সৎ ব্যবহার করে ১৫ লাখ টাকার পাথর বাকি নিয়ে তাকেও ধরিয়ে দেয় ব্যাংকের চেকের পাতা।তিনিও তার পাওনা টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদালতে যেতে বাধ্য হয়।

এ বিষয়ে সোলেমান পাশার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমার কাছে হাসান পাথর বাকি নিয়ে আমার পাওনা টাকা দুই বছর ধরে আটকে রেখেছে। আমি এখন পথে বসেছি। বন্ধ হয়ে গেছে আমার ব্যবসা। আমি আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আগামী চার অক্টোবর আদালত রায়ের দিন ধার্য করেছেন।আমি আদালতের কাছে আশাবাদী আমার পাওনা টাকা উত্তোলন ও হাসানের উপযুক্ত বিচার করবেন আদালত।    

তবে এদিকে হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. হাসান তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমার কাছে কেউ টাকা পাবে না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় তিনি ক্যামেরা দেখে দ্রুত পালিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে যান।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর( পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, হাসান নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তবে একটি মামলার রায় আগামী চার অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করেছে আদালত ৷

জেবি

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৪০৩০৭৯ ৩১৯৭৩৩ ৫৮৬১
বিশ্ব ৪,৪৩,৫৭,৬৭১ ৩,২৫,০৫,১৫৫ ১১,৭৩,৮০৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়