smc
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

আশ্বিনের বন্যায় ডুবেছে কৃষকের স্বপ্ন

  কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

|  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০২ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:২৩
Farmers in Kurigram, are worried about Ashwin's floods., rtv news
কুড়িগ্রামে ফসলের ক্ষেতে বন্যার পানি
আশ্বিনের বন্যায় কুড়িগ্রামের কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। বেড়েছে দুশ্চিন্তা। বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলের রোপা আমন বানের পানিতে ডুবে গেছে। এমনিতে তিন দফা বন্যায় ক্ষেতের ফসল  এবং আমন চারার বীজতলা হাড়িয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো এ জেলার কৃষকেরা। বিভিন্ন জেলা থেকে চড়া দামে চারাধান কিনে ক্ষেতে রোপণ করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় ছিলো কুড়িগ্রামের কৃষক। সে আশায় গুঁড়েবালী ঢেলে দিলো অসময়ের আশ্বিনের বন্যা। এর আগে দুই সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টিপাতে নিম্নভূমিতে লাগানো রোপা আমন তলিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তার ওপর বন্যা দুই মিলে কৃষকের স্বপ্ন পানিতে ডুবেছে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপরে সক্রিয় রয়েছে মৌসুমী জলবায়ু। এ কারণে  এক সেপ্টেম্বর বাংলা ১৭ ভাদ্র থেকে প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়ে আসছে।  এক আশ্বিন মধ্য রাত থেকে তা মুষলধারে ঝড়ছে। দুই আশ্বিন বিকেল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত আবহাওয়া এরকম থাকতে পারে।

এই টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বেড়েছে জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকমার, গঙ্গাধর, শংকোষসহ সকল নদ-নদীর পানি। দুই কূল ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে প্লাবিত করেছে নিম্নাঞ্চল। দেখা দিয়েছে বন্যা। অসময়ের এ বন্যায় ইতিমধ্যে তলিয়েছে কৃষকের রোপা আমন, শাকসবজি, মাসকালাইসহ চিনাবাদাম ক্ষেত। এ পরিস্থিতিতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক।

নাগেশ্বরীর তেলীপাড়ার জিয়াউর রহমান (৪০), ভৈসতুলি পাড় এলাকার আমজাদ হোসেন (৫৫), নুর ইসলাম (৪৪), বেরুবাড়ী ইউনিয়নের নামদানীটারী গ্রামের হোসেন আলী (৫০), আশরাফুল আলম (৪৫), কালীগঞ্জের মন্নেয়ারপাড় গ্রামের খলিলুর রহমান (৪৩), আবেদ আলী (৬৬), নিজাম উদ্দিন (৬২), কেদার ইউনিয়নের শফিওর রহমান (৪০), বল্লভের খাষ ইউনিয়নের বাচ্চু মিয়াসহ (৬০) বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, এবারে আগের তিন দফা বন্যায় রোপা আমন বীজতলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় পিছিয়ে যায় চাষাবাদ। পরবর্তীতে বেশি দামে রোপা আমন চারা কিনে ওই জমিতে লাগাতে হয়েছে। সেগুলোও চতুর্থ দফা বন্যায় তলিয়ে গেছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। যা তাদের পক্ষে সামলানো কষ্টকর। ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের আব্দুল করিম (৪৫) বলেন, গত বন্যায় সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লালশাক আর মূলা শাকের চাষ করেছিলাম দুই বিঘা ক্ষেতে অতি বৃষ্টি আর বানের পানিতে সব তলিয়ে নষ্ট গেছে। আবার ক্ষতির মুখে পড়লাম।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান জানান, নদনদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে দুই হাজার ১০৪ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে আমন ১৮৪০ হেক্টর, মাসকালাই ১২৭ হেক্টর, শাকসবজি ১২৭ হেক্টর ও বাদাম ১০ হেক্টর।

অপরদিকে চতুর্থ দফার এ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পরেছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। সেইসঙ্গে চলছে তীব্র ভাঙন। শুক্রবার সকালে ধরলা নদীর পানি ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমরসহ অন্যান্য নদনদীর পানিও বেড়েছে। পানি বাড়ায় ধরলা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা, যাত্রাপুরের নুরানী মাদরাসা পাড়া, হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব। দুধকুমার নদের ভাঙনের কবলে পড়েছে নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ফান্দের চর, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ইসলামপুর, চরবলদিয়ার কয়েকটি গ্রাম। ভাঙনে বিলিন হচ্ছে শতশত হেক্টর আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি।

কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, উজানে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রামের মানুষ চতুর্থদফা বন্যার কবলে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। এই মুহূর্তে তীব্র স্রোতের কারণে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেবি

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৯৪৮২৭ ৩১০৫৩২ ৫৭৪৭
বিশ্ব ৪,১৫,৭০,৮৩১ ৩,০৯,৫৮,৫৪৬ ১১,৩৭,৭০৩
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়