logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু বিক্রি হয়নি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
|  ০১ আগস্ট ২০২০, ১২:৪৩ | আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৪
Yeast Sacrifice Eid
ছবি সংগৃহীত
মহামারী করোনা ভীতি এবং আর্থিক সংকটের কারণে কুরবানি দিতে না পারায় জেলায় এবার অবিক্রিত গরু রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার।

জেলায় এবার কুরবানির জন্য  এক লাখ ৪৭ হাজার গরু প্রস্তত করেছিল খামারি ও কৃষকরা। এ লক্ষ্যে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণও করেছেন তারা কিন্তু করোনার প্রভাব ও বিভিন্ন জেলায় বন্যা, অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাট-বাজারগুলোতে আশানুরুপ খুচরা ও পাইকারি গরু ব্যবসায়ী না আসায় ক্রেতা সংকট ও দরপতনে দেশীয় গরু বিক্রি করতে পারেনি কৃষক ও খামারিরা।

অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে বেশি লাভের আশায় দেশীয় গো-খাদ্য কিনে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন জয়পুরহাটের ছোট বড় বেশ কিছু খামারি এবং এলাকার দরিদ্র ও গৃহস্থ পরিবারের প্রায় ১২ হাজার খামারি ও কৃষক।  আটা, গম, ভুসি, খড়, ঘাসসহ অন্যান্য গো-খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে খরচ বেশি হলেও করোনার কারণে চরম আর্থিক সংকট এবং ফেরত গরুকে নতুন করে খাবার জোগান দেওয়া এতোসব দুশ্চিন্তায় গরুর খামারিরা ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান হলেও গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার নতুনহাট, পাঁচবিবি গরুর হাট, হোপের হাট, দুর্গাদহ গরুর হাট, আক্কেলপুর তিলকপুর ও গোপীনাথপুর গরুর হাট, কালাইয়ের পুনট গরুর হাট, ক্ষেতলাল গরুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে জানা যায়, হাট-বাজারগুলোতে ঢাকা, চট্টগাম, নোয়াখালী , কুমিল্লা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আশানুরুপ পাইকারি গরু ব্যবসায়ী না আসায় হাট-বাজারগুলোতে বড় গরুর চাহিদা ছিল খুবই কম। ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা ছিল খুবই বেশি।

করোনার বিস্তার, বিড়ম্বনা ও গো-হাটের ভিড় এড়াতে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও অনেক খামারি অনলাইনে পশু কেনা-বেঁচা করলেও তা সাড়া ফেলেনি।

এদিকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে আসা অসংখ্য ভারতীয় গরু ছাড়াও ৩-৪ মাস আগে থেকে ভারতীয় গরু সংগ্রহ করে লালন-পালনকারীরাও খরচের চেয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা কম বলায় তা আর বিক্রি করেননি।

পাঁচবিবির বালিয়াতৈর এলাকার আব্দুল খালেক জানান, দুই জোড়া শাহীওয়াল জাতের বাছুর আড়াই বছর ধরে লালন-পালন করেছেন। বেশ কিছুদিন আগে বাড়িতেই গরু দুটির দাম বলেন  এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরে  এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু দুটি বিক্রি করেছেন।

পাঁচবিবি কোরিয়া বাজার এলাকার মিনহাজ হোসেন বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুর তিন বছর লালন পালন করে  এক লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। গরু লালন-পালন করতে প্রায় খরচই হয়েছে  এক লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দিনাজপুরের হাকিপুর থানার আব্দুল ওহাব, মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন, ভূটিয়াপাড়ার নাজমুল, চেঁচড়ার নাজমুলসহ অনেক খামারি বলেন, দাম ঠিকমতো না পাওয়ায় গরু বিক্রি করতে পারিনি। গরু নিয়ে বিপদে আছি।

আক্কেলপুর পৌরসভার গ্রামের বাসিন্দা ছাইদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে কুরবানি দিয়ে আসছি। এ বছর করোনার কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছি। তাই নিজ বাড়িতে পালন করা একটা ষাঁড় গরু হাটে বিক্রি করে কুরবানি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্ত দাম না পাওয়ায় আর বিক্রি করা হয়নি।

জয়পুরহাট পৌর এলাকার পল্লব হোসেন ও শান্তিনগর এলাকার আবু তাহেরসহ অনেক ক্রেতা বলেন, করোনায় আর্থিক সংকটের কারণে ৬০ হাজার টাকায় ছোট গরু কিনেছি।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসেসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও জয়পুরহাট জেলা ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাদমান আলিফ মীম রায়হান বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে এমন সময়ে অনলাইনে গরু বিক্রি উদ্যোগ নিয়েছে যেসময় কোনও সাড়া নেই। এই উদ্যোগটি আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। বাইর থেকে পাইকার না আসায় মাত্র আমার ফার্ম থেকে ১৫টি ছোট ধরনের গরু বিক্রি করতে পেরেছি। ২৫ মণ মাংসের গরুসহ ৩৫ টি বড় গরু বিক্রি করতে পারেনি। এই গরুগুলোতে যে খরচ হয়েছে তার চেয়ে ২০-৩০ হাজার কমে গরুর দাম বলে। মাংস হিসেবে বিক্রি করলেও দাম বলার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হবে।

জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমান আরটিভি নিউজকে জানান, জেলায় কুরবানি উপযোগী পশু এক লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি প্রস্তুত করেছিল খামারিরা। কুরবানির পারও ২৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা ছিল। কিন্ত করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু না যাওয়া ও অর্থনৈতিক কারণে অনেকেই কুরবানি দিতে না পারায় প্রায় ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত রয়ে গিয়েছে খামারিদের। সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে খামারিদের প্রণোদনার জন্য।

জেবি

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২০৬৬৪৯৮ ১৫৩০৮৯ ৩৫১৩
বিশ্ব ২০৫৫৩৩২৮ ১৩৪৬৫৬৪২ ৭৪৬৬৫২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়