logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

বিজিএমইএ ভবন সিলগালা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১০ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:০১
রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে গড়ে উঠা তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

রাজউকের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম রায়হানুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার পর ভবনটি সিলগালা করা হয়।

এসময় তিনি জানান, সিলগালা করার পর বিদ্যুৎ, টেলিফোনসহ সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। খুলে নেয়া হবে গ্লাসগুলো। এরপর ডিনামাইট ডেমোলেশনের মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

মঙ্গলবার সকালে বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করতে রাজউক দুই ঘণ্টা সময় দিয়েছিল, যা ১২টায় শেষ হয়। পরে বিজিএমইএ এর অনুরোধে বিকেল পাঁচটা অবদি সময় বেধে দেয় রাজউক। পরে মালামাল সরাতে দেরি হওয়ায় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফের সময় দেয় সংস্থাটি। এর পরেই সিলগালা করা হয়।

এর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, দুইটি বেজমেন্টসহ ১৬ তলা ভবন। এটি ভাঙতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ডিনামাইট রেবুলেশন ব্যবহার করে ভবন ভাঙতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। ভাঙার প্রক্রিয়াটি হচ্ছে পার্ট বাই পার্ট ডেকোরেশন খুলে নেয়া হবে, এরপর ডিনামাইট ব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার ওলিউর রহমান বিকেলে বলেন, আইনের ভিত্তিতে আমরা বিজিএমইএ ভবনের অফিস অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা যে ভবন অপসারণ শুরু করেছি এটাও ভবন ভাঙার অংশ। তাছাড় এখানে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্টের বিষয় আছে, এগুলো শেষ হলেই আমরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করবো। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে পারবো। এ কাজে মূল সহযোগী হবেন চায়না এক্সপার্টরা।

সকালে ১৬ তলা ভবনটি ভাঙতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য নিয়ে ভবনটির সামনে অবস্থান নেন রাজউক কর্মকর্তারা। সেসময় তারা ভবনের ভেতরে পরির্দশনও করেন।

জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করায় হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস এবং পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি, যার তারিখ ছিল চলতি বছরের ১২ এপ্রিল। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।

কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি দুটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলা। বিজিএমইএ ব্যবহার করে চারটি তলা। বাকি জায়গা দুটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। ভবনের ওপরের দুই তলা নিয়ে বিলাসবহুল ‘অ্যাপারেল ক্লাব’ করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগার, রেস্টুরেন্ট ও সভাকক্ষ আছে। বড় আকারের একটি মিলনায়তনও আছে।

রাজধানীর উত্তরায় ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩ তলা (পার্কিংয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ দুই তলা ছাড়া) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের ৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএর নিজস্ব ভবনের উদ্বোধন করেন। ভবনের দুটি ফ্লোরে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়