Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮
discover

এমপি পদও হারাতে পারেন মুরাদ, তৎপর পুলিশ

এমপি ডা. মুরাদ হাসান: ফাইল ছবি

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়ায় তার প্রতিমন্ত্রিত্ব শেষ হওয়ার পাশাপাশি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর ডা. মুরাদ হাসানের এমপি পদ থাকবে কি না সেটি নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। একই সঙ্গে মুরাদ হাসানকে নিয়ে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ডা. মুরাদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না জানতে চাইলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) হারুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা তদন্তের জন্য মুরাদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। উনি যে ডিবির নাম ব্যবহার করেছেন, সেটা কেন করলেন, সেটাও প্রয়োজনে জানার জন্য আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। পাশাপাশি যাদের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, প্রয়োজন হলে তাদেরও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

দল থেকে বহিস্কার করলে কী তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে এমন প্রশ্নে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেন, আমাদের সংবিধানে আছে, কেউ যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে তার সদস্যপদ যাবে না। আবার কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত হন তাহলেও তার সংসদ সদস্য পদ যেতে পারে। আমি সব সময় কথা বলি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার বিরুদ্ধে। এটা বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমি যত বাজে কথাই বলি না কেন, যত অপ্রিয় কথাই হোক, এটার জন্য ডিজিটাল আইনে মামলা হচ্ছে বলেই তো আমাদের কথাবার্তা অনেক কমে গেছে। কিন্তু উনি যে কাজটি করেছেন, তার জন্য যার মানহানি হয়েছে, তার জন্য তিনি দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন। এ ছাড়া ফৌজদারি মামলাও হতে পারে। এতে ভুক্তভোগীরাই মামলাটি করতে পারেন। যদিও থার্ড পার্টিও এখন মামলা করছে। এটা গ্রামারে পড়ে না। যেটা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মুলে কুঠারাঘাত হয়। আর উনি মস্তিষ্ক বিকৃত বলে যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা করতে গেলে সরকারি কোনো হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার পর চিকিৎসকের সার্টিফিকেট লাগবে যে উনি একটা ‘পাগল'। তাহলে তার সংসদ সদস্য চলে যেতে পারে।

প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুর হাবীব বলেন, ‘উনি যার উদ্দেশ্যে বলেছেন, তিনি তো ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। শুধুমাত্র কটু মন্তব্যের জন্য তার সংসদ সদস্যপদ যাওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়? এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘উনি বেগম খালেদা জিয়া ও তার নাতনি সম্পর্কে ডিজিটাল ফোরাম ব্যবহার করে যেটা করেছে, সেটা তো ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে চরমতম অপরাধ। উনি একজন নায়িকাকে যে ধরনের থ্রেট করেছেন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করার কথা বলে এটা তো ফৌজদারি অপরাধ। মাহি তো স্বীকার করেছে, এটার তো সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে একজন নারীকে তুলে এনে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছেন, এর চেয়ে বড় ফৌজদারি অপরাধ আর কী হতে পারে? তার পদত্যাগ তো কোনো শাস্তি না, তার তো জেলে থাকা উচিত। এটা যদি সরকার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেটা হবে সেটা মন্দের ভালো। মন্ত্রীত্ব যাওয়া তার জন্য খুবই গুরু অপরাধে লঘু দণ্ড। অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত, কারাবাস হওয়া উচিত। মুরাদ হাসান তো একটু শাস্তি পাইলো বুঝলাম, কিন্তু দুই বছর আগে নায়িকাকে তিনি যে হুমকি দিয়েছেন, সেটা তো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানে। রাষ্ট্র তো জানে। জানাশোনার পর তাকে দুই বছর মন্ত্রী রাখার দায়দায়িত্ব কে নেবে? এই টেপটা যে বা যারা ছেড়েছে, তারা তো জানতো, এই ব্যক্তি চূড়ান্ত মস্তিষ্কবিকৃত মানুষ। তাহলে কার শক্তিবলে তিনি এতদিন মন্ত্রী থাকলেন? তার দায়-দায়িত্ব কে নেবে? এক বা একাধিক ব্যক্তি হলেও তারা তো আরও বড় অপরাধী। তাদের বিচার কে করবে?”

সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘উনার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। একটা তো হলো, আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের রায় আছে, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে সংসদেরও একটা ব্যবস্থা থাকা উচিত। উনি যে দল করেন, সেই দলেরও একটা ব্যবস্থা থাকা উচিত। সংসদ থেকে বা উনার দল থেকেও একটা ডিসিপ্লিনারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। পাশাপাশি ফৌজদারি এবং দেওয়ানি আইনেও উনি যে ধরনের মন্তব্য করেছেন বা হুমকি দিয়েছেন, তার জন্য পুলিশ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে। সংসদ থেকে তো এখনও কোনো ধরনের বক্তব্য আসেনি। সংসদ সদস্যরা তো শপথ নেন, সংবিধানের ওপরে। সেই শপথ তো ভঙ্গ হয়েছে। পাশাপাশি সংসদে তো আচরণবিধি আছে। সেটা ভঙ্গ হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা আছে সেটাও দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলার পরও সংসদ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতা আমাদের সবাইকে হতবাক করে দেওয়ার মতো।”

মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলীও মনে করেন, উনি যে অপরাধ করেছেন সেটা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১১ ধারা অনুযায়ি উনার আচরণ একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভুক্তভোগী চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। আমি চাই উনি পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করুন। তা না হলে উনার বিরুদ্ধে দলের উচিত হবে তাকে সংসদ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। সেটা না করলে জনগণের জন্য দুঃখজনক হবে। তা না হলে সমাজ বা জনগণই হয়ত উদ্যোগ নেবে।

গত কয়েক মাস ধরে ডা. মুরাদ হাসানের মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মুরাদ হাসান তাকে সব সময় সহযোগিতা করে এসেছেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তার বক্তব্য সরকার ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিব্রত করেছে।

তবে আগে অস্বীকৃতি জানালেও ডা. মুরাদ হাসান অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন। মঙ্গলবার তার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন, আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মমতাময়ী মা, দেশরত্ন, বঙ্গবন্ধুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল সিদ্ধান্ত মেনে নেব আজীবন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

এফএ/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS