Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮

গাঁ'জার কেক ‘ব্রাউনি’ নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রি'মান্ডে

3 university students remanded for cannabis cake 'Brownie'
ফাইল ছবি

ভয়ঙ্কর নেশা জাতীয় দ্রব্য গাঁজার কেক ‘ব্রাউনি’ নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

রিমান্ড যাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- কাফিল ওয়ারা রাফিদ, কাজী রিসালাত হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সাইফ।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, দেশে গাঁজার কেকের চালান এবারই প্রথম ধরা পড়েছে। গতকাল বুধবার (০৯ জুন) রাজধানীর মোহাম্মাদপুর ও পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেড় কেজি ওজনের ৩০টি গাঁজার কেক জব্দ করে ডিবির রমনা জোনাল টিম। অভিযানকালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) ছাত্র কাফিল ওয়ারা রাফিদ, ধানমন্ডির অ্যাডভান্সড প্রফেশনালসে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পড়ুয়া কাজী রিসালাত হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের (ইউডা) চারুকলা শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাইফকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির সংশ্লিষ্ট টিম। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুলহাস উদ্দিন তাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ডে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান মণ্ডল। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সামিয়া আরা মিনা ও আবু সায়েম। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন রাজধানীতে একাধিক চক্র গাঁজার নির্যাস দিয়ে কেক বানিয়ে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা গত বুধবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের শাহাজাহান রোডের একটি জায়গা থেকে প্রথমে রাফিদ ও সাইফকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১৮টি গাঁজার কেক পাওয়া যায়। তারা সেগুলো ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্টন এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে রিসালাত হোসেনকে ১২ পিস গাঁজার কেকসহ আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাকৃত ৩ জনই মাদকাসক্ত বলে স্বীকার করেন। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি তারা নিয়মিত গাঁজা সেবন করে আসছেন। বছর দেড়েক আগে ইউটিউবে দেখে তারা গাঁজার কেক বানানো শিখেছেন। প্রথমে নিজেরা খেলেও পরে বন্ধুদের মধ্যেও এর ব্যপক চাহিদা তৈরি হয়। ব্যবসাটা শুরু করে তখনই।

ডিবি জানায়, গাঁজার পাতা থেকে তরল নির্যাস বের করে তৈরি হয় এ কেক এবং অন্য সাধারণ কেকের মতোই খাওয়া যায়। এ কেক যারা খায় তারা বলছে, সিগারেটের খোসায় গাঁজা ভরে সেবনের চাইতে গাঁজার পাতার নির্যাসে তৈরি কেকে কয়েকগুণ বেশি আসক্তি হয় এবং খাওয়ার পর এর প্রতিক্রিয়া শুধু ভয়ঙ্করই নয়, মারাত্মক ক্ষতিকরও বটে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের বিস্ময়করভাবে আত্মহননের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইডের (এলএসডি) সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি’র বর্ণনা অনুযায়ী এলএসডির ভয়াল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় স্মৃতিকাতর ও কল্পনাপ্রবণ হয়ে পড়েন হাফিজুর এবং নিজের গলা ধারালো দা দিয়ে কেটে ফেলেন। এর ফলে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এর পরই এলএসডি মাদকটি নিয়ে বিরাট এক প্রশ্ন দাঁড়ায় তদন্তকারীদের সামনে।

হাফিজুর রহমানের আত্মহননকাণ্ডের জেরে তার বন্ধু নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ছাত্র সাদমান সাকিব ওরফে রূপল (২৫), আসহাব ওয়াদুদ ওরফে তুর্জ এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র আদিব আশরাফকে (২৩) গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২০০ ব্লট এলএসডি, মাদকের নিষিদ্ধ বাজারে যার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

তবে এলএসডি সেবনের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০১৯ সালে এলএসডিসহ ২ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

সর্বশেষ, এই এলএসডির সন্ধানে অভিযানে নেমে বেরিয়ে আসে নতুন তথ্য, প্রথমবারের মতো গাঁজার কেকের বিষয়ে জানতে পারে ডিবি পুলিশ। ফেসবুকের একটি ক্লোজড গ্রুপের মাধ্যমে এলএসডি বিক্রি করা হতো। ওই গ্রুপ থেকেই প্রথম গাঁজার কেকের বিষয়ে জানতে পারে গ্রেপ্তার ৩ তরুণ। পরে তারা ইউটিউবে একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে সেভাবে গাঁজার কেক তৈরি করেন। গ্রেপ্তার কাফিল ও রিসালাত গাঁজার কেক বিক্রির জন্য গড়ে ওঠা চক্রের অন্যতম হোতা আর সাইফ ছিলেন তাদের ডেলিভারি ম্যান।

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS