Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

‘ধর্ষণ’ মামলায় মামুনুল হককে নিয়ে পুলিশের যে পরিকল্পনা

Police will seek remand after showing the arrest of Mamunul Haque in the 'rape' case
ফাইল ছবি

হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্মমহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে জান্নাত আরা ঝর্ণার দায়ের করা ‘ধর্ষণ’ মামলা পর তাকে কেন্দ্র করে কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি। মামনুল হক বতর্মানে ঢাকায় নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে রয়েছেন। এরপরই তাকে ধর্ষণ মামলায় নারায়নগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম আরটিভি নিউজকে বলেন,‘ধর্ষণের মামলায় মামুনুল হককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আদালত খুললেই তাকে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

এসপি আরও জানান, সোনারগাঁ থানায় শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে মামলা করার পর জান্নাত আরা ঝর্ণাকে তার ছেলে আনোয়ার হোসেনের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে মাধ্যমে করা হবে। সেখানে ঝর্ণাকে হাজির করা হবে।

মামলা করার পর ঝর্ণাকে সোনারগাঁ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালে যাওয়ার পর ঝর্ণা জানান, ‘মামুনুল হক সরলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করেছে। বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে অনেক জায়গায় নিয়ে গেছে। সেখানে রাত্রি যাপন করেছে। রয়্যাল রিসোর্টে বিয়ের ব্যাপারে কথা বলার অজুহাতে ৫০১ নাম্বার রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। সে আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে, প্রতারণা করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে তার বিচার চাই।’

সোনারগাঁ থানায় এসে ঝর্ণা শুক্রবার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ১ ধারায় মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হন মামুনুল। সেই নারীই ঝর্ণা, যাকে কথিত নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী জানিয়ে মামুনুল বলেছিলেন, তার নাম আমিনা তাইয়্যেবা।

রিসোর্টে মামুনুল যখন বেকায়দায় পড়েন, তখন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জড়ো করে হামলে পড়ে রিসোর্টে। ব্যাপক ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেয় মামুনুল হককে।

রিসোর্টে স্থানীয় লোকজনের হাতে ঘেরাও হওয়ার পর মামুনুল ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও তার প্রকৃত নাম, শ্বশুরবাড়ি, শ্বশুরের নাম সম্পর্কে যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে সেই নারীর দেয়া তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

মামুনুল জানান, তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম আমেনা তইয়্যেবা। বাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম।

মামুনুলের সঙ্গীনি জানান, তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা, বাবার নাম অলিয়র, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

দুইজনের তথ্যের এই গরমিলের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়।

এর একটিতে বোঝা যায় মামুনুল তার ৪ সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে তাকে স্ত্রী পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে সেই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছে, তখন তিনি বলেছেন, এটা জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায় মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর (আমিনা তাইয়্যেবা) সঙ্গে। তিনি তাইয়্যেবাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শ্বাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

এরপর মামুনুল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, তিনি বিয়ে করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রীকে। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে হয়েছে।

পরদিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে মামুনুল একে একটি ‘মানবিক’ বিয়ে উল্লেখ করে লেখেন, সেই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ির আগে তিনি সংসার টেকানোর চেষ্টা করেছেন। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি দুর্দশায় পড়ে যায়। সে সময় তিনি বিয়ে করে নিয়েছেন তাকে।

প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে ঝর্ণাকে বিয়ে করার ব্যাখ্যায় ইসলামি শরিয়তের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তের মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে যে, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য, স্ত্রীকে খুশি করবার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, সীমিত ক্ষেত্রে সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’

এরমধ্যে ফেসবুকে ভিডিও লাইভে আসেন ঝর্ণা ও শহীদুলের বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি। বাবা-মায়ের বিয়ে বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামি বলেন, ‘আরও আগের ঘটনা, যখন ডিভোর্স হয়নি। আমি সেই সময় অনেকটা ছোট, আমার ছোটভাই অনেক ছোট। ও দুগ্ধ শিশু ছিল। তখন একবার আমার বাবা বাসায় ছিলেন না, তখন আমি ছিলাম। আমি ঘুমায় ছিলাম বা বাহিরে ছিলাম। তখন নাকি আমার মা আমার ছোট ভাইকে দুগ্ধ পান করাচ্ছিল। তখন উনি (মামুনুল) আমার মায়ের রুমে হুট করে ঢুকে যায় এবং একটা কুপ্রস্তাব দিয়েছিল।’

মামুনুলের অসৎ উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো ঝগড়া হবেই। সে (মামুনুল) তখনই নক করছে। তখনই দুজনের (শহীদুল-ঝর্ণা) মধ্যে আরও ডিস্ট্যান্স বাড়ায় দিছে। এভাবে করে সে একটা পরিবারের খুশি, ভালোবাসা, একটা পরিবারের মধ্যে যে মিলমিশ একটা সম্পর্ক পুরোপুরি সে ধ্বংস করে দিছে। আরও এভাবে কত মানুষের, পরিবারের ভালোবাসা সে ধ্বংস করছে এর কোনো ঠিক নাই।’

এসব ঘটনার মধ্যেই গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে আর অনেক মামলা পাওয়া যায় তার নামে। এসব মামলায় দ্বিতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন মামুনুল হক।

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS