logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

জ্যাম আছে, জ্যাম নেই, গরম ‘চরমে’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৩৭
ছবি সংগৃহীত
বেসরকারি চাকরিজীবী আব্বাস উদ্দিন। শনির আখড়া থেকে গুলিস্তানে আসেন। এরপর গুলিস্তান থেকে আরেক বাসে করে কর্মস্থল কারওয়ান বাজারে। গুলিস্তানের পর এইটুকু পথ আসতেই বড় জোড় আধা ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু এখন লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। মাঝে মাঝে তারও বেশি।  তার মাঝে আবার অস্বস্তির ভ্যাপসা গরম।

একই অবস্থা যারা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফার্মগেট হয়ে বাসে সকাল বেলা পল্টন, মতিঝিলে পাড়ি জমান।

বুধবার সকাল থেকে এ চিত্র যেন ছিল একটু বেশি অস্বস্তির। কারণ হঠাৎ বৃষ্টি, বজ্র বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের পর গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা যেন বেড়েছে। আরও বাড়বে বলে আশঙ্কার কথা বলছেন আবহাওয়াবিদরা।

আব্বাস আরটিভি অনলাইনকে বলেন, অনেক সময় তীব্র জ্যাম হলেও কিছুটা সহ্য করে নেয়া যায়, কিন্তু গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জীবন। একদিকে পুলিশি অভিযানের কারণের রাস্তায় বাস কম, অন্যদিকে গাদাগাদি করে উঠতে হয়। চারপাশের পরিবহনের গরম, ভিড়ে মানুষের গরম, রাস্তায় হর্ণ একেবারেই অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে।

মূলত এই রোডে জ্যাম বাড়ার অন্যতম কারণ মেট্রোরেল নির্মাণ। সড়কের অর্ধেকটা দখল করে এখন চলছে এই নির্মাণযজ্ঞ। এতে বেড়েছে যানজট। খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্গম হয়েছে মানুষের চলাচল। কোথাও কোথাও রয়েছে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাও।

আব্বাস বলেন, আজ শুধু শাহবাগের সিগন্যালই পার হতে সময় লেগেছে প্রায় ৩৫ মিনিট। এরপর বাংলামোটরেও একই অবস্থা। সেখান থেকে হেটে অফিসে এসেছি। তবে হাটারও উপায় নেই। তীব্র গরম, চারদিকে হর্ণে চেচামেচি ও ফুটপাতে মোটরসাইকেল উৎপাতে শান্তি নেই।  

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব এমএনএন ছিদ্দিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে ঢাকার এমন একটি সড়কে, যেখানে ২৪ ঘণ্টাই যানবাহন ও মানুষের চলাচল থাকে। এমন একটা জায়গায় মেট্রোরেলের মতো একটা বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জনদুর্ভোগ হওয়াটা অস্বাভাবিক না। তবে এর মাত্রা যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেজন্য আমরা শুরু থেকেই সচেষ্ট আছি।

এদিকে দুপুরের দিকে উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজারে এসেছেন তামিম রহমান। তিনি আরটিভি অনলাইনকে জানান,অন্যদিনের মতোই সময় লেগেছে। সাধারণত এই পথে আসতে সোয়া ঘণ্টা লেগেছে। আজই তেমনই। তেমন জ্যাম ছিল না। তবে গরম চরমে।

বৈশাখের শুরু থেকে বাড়তে শুরু করেছে এই তাপমাত্রা। ঝড়-বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত হচ্ছে অস্বস্তির গরম।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুক্রবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যেতে পারে তাপপ্রবাহ।

মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।  ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনার অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। তবে রাজশাহী, রংপুর ও সিলেটে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে।

বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন বলেন,চৈত্রের শেষে কালবৈশাখীর দাপটের সঙ্গে বজ্রঝড় ও শিলা বৃষ্টি ছিল। এখন তাপমাত্রা বাড়ছে। আরও কয়েকদিন তা অব্যাহত থাকবে। বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি রয়েছে জনজীবনে।

তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে বয়ে যেতে পারে তাপপ্রবাহ। চলতি মাসের শেষ দিকে ফের কালবৈশাখীর দাপট থাকবে; সাগরে নিম্নচাপেরও শঙ্কা রয়েছে।

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়