• ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
logo

তথ্য অধিকার আইনের আওতামুক্ত থাকতে চায় পুলিশ

আরটিভি নিউজ

  ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৭
পুলিশ সদর দপ্তর
ফাইল ছবি

তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ ঠেকানোর লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইনের আওতামুক্ত থাকতে চাচ্ছে পুলিশ। এজন্য আইনটির ধারা-৩২ অনুযায়ী তফসিলভুক্ত হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। অবশ্য শুরু থেকেই এ আইনের আওতামুক্ত রয়েছে সিআইডি, এসবি ও র‌্যাবের গোয়েন্দা সেল। সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআই) বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এ আইনের আওতামুক্ত থাকতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে।

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ধারা-৩২ অনুযায়ী, ‘কতিপয় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নহে।’ এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কাজের ধরন ও প্রকৃতিগত কারণে সব সময় সব তথ্য ইউনিটের পক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। ফলে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর ধারা-৭ অনুযায়ী কিছু বিষয় সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর তথ্যগুলোকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় তথ্য অধিকার আইনের ধারা-৩২ অনুযায়ী তফশিলভুক্ত করে কিছু প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেন, গোয়েন্দা তথ্য সব সময় গোপনই থাকে। সেগুলো যদি প্রকাশ্যে আনা হয় তবে অনেক রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। তদন্ত ব্যাঘাত ঘটবে, ব্যক্তির নিরাপত্তার সমস্যা হয়। অনুসন্ধানের বিষয়গুলো তাই গোপন রাখাই ভালো।

রাষ্ট্রের গোপন জিনিস প্রকাশ হলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো হুমকির মুখে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের কিছু বিষয় আছে, সেগুলো ফাঁস হলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটে। তদন্তের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের অনেকে ঝুঁকিতে থাকে।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তথ্য অধিকার আইন বলে অনেক মামলার আসামি বা বাদী সাক্ষীর জবানবন্দি বা তদন্ত প্রতিবেদন চান। এসব তথ্য গোপনীয় এবং প্রকাশ পেলে সাক্ষীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, সঙ্গে তদন্তেরও ব্যাঘাত ঘটে বলে মনে করছে পিবিআই। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো পিবিআই প্রধানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পিবিআই মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া অথবা ভুক্তভোগী তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর বিধান মতে তথ্য চেয়ে আবেদন করে থাকেন। তদন্তাধীন মামলা ছাড়াও বিভাগীয় তদন্তের কপি এমনকি ফৌজদারি মামলার সাক্ষীর বক্তব্যের কপিও পেতে আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে পিবিআইকে বিব্রতকর পরিস্থিতিসহ আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘বাদী বা বিবাদীরা অনেকে তথ্য অধিকার আইন বলে সাক্ষী ও আসামিদের ১৬১ ধারায় দেওয়া বক্তব্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন চাচ্ছেন। একটা লোক যখন তথ্য চান, আমি দিতে চাই। কিন্তু আমি তাকে তথ্য দিতে গেলে অন্য লোকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তবে তথ্য চাওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, পুলিশ অনেক সময় প্রভাবিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে থাকে। এ প্রেক্ষিতে পুলিশের ওই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও কোনো শাস্তি না হওয়ার নজির রয়েছে। ফলে তদন্তের বিষয়ে জানার অধিকার আছে ভুক্তভোগীদের। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও অনেক ভুক্তভোগী তথ্য পান না বলে দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ধরনের কাজ করে তার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের অনেক সময় তথ্য জানার অধিকার থাকাটা বেশি প্রয়োজন। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে তথ্য প্রকাশ করলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে সেসব হয়তো না দেওয়ার একটা প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে না এটা ঠিক নয়। এমনটা হলে বিদেশিরা তখন আমাদের পুলিশি রাষ্ট্র হিসাবে আখ্যায়িত করবে। বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

পিবিআইর চিঠির জবাবে গত ১৬ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এ খসড়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ চলছে
গুলি করা পুলিশ ভাই কি কাল রাতে ঘুমাতে পেরেছেন: শাওন
টিএসসিতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা
ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ বৃহস্পতিবার