Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

  ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৩
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৬

আজ থেকে দেশের যেসব এলাকায় রোজা শুরু

Fasting starts in the areas of the country from today
আজ থেকে দেশের যেসব এলাকায় রোজা শুরু

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) থেকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরসহ দুই শতাধিক গ্রামের অন্তত চার লক্ষাধিক মানুষ রোজা রেখেছেন। হিজরি চন্দ্র মাস হিসেব করে এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে সোমবার (১২ এপ্রিল) রাতে তারাবির নামাজ এবং মঙ্গলবার ভোরে সেহেরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে এসব জেলার মানুষ পবিত্র রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন।

আরটিভির জেলা প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

শরীয়তপুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর সৈয়দ তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরী। আর মাদারীপুরে রোজা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর খাজা শাহ সূফী সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন।

শরীয়তপুরের পীর সৈয়দ তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরী বলেন, সোমবার (১২ এপ্রিল) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ রোজা রাখছেন। শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার ৪০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দিয়ে রোজা রাখার প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং ভোরে সেহরি খেয়েছেন।

মাদারীপুরের পীর খাজা শাহ সূফী সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন বলেন, ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ রমজানের রোজা রাখা শুরু করছেন।আমরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখি এবং একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করি। সে হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্লুকসহ জেলার ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ মঙ্গলবার ভোরে সাহরি খেয়ে রোজা রাখা শুরু করেছেন।

সুরেশ্বর পীরের ভক্ত সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘ইসলাম ধর্মের সবকিছুই মক্কা শরীফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সুরেশ্বরী (রা.)-এর অনুসারীরা ১৪৮ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছে। সে হিসেবে আমরা আজ মঙ্গলবার প্রথম রোজা রাখা শুরু করেছি।

চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় প্রথম রমজান পালন ও দুটি ঈদ উদযাপন শুরু করেন। তারপর থেকে অনুসারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে হাজীগঞ্জ ছাড়াও পাশের ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি ও মতলব উত্তর উপজেলার অর্ধশত গ্রামের লক্ষাধিক মুসলমান এভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করছেন।

সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা, মতলব উত্তরে নওহাটা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি জানান, যেহেতু শাবান মাসের ৩০ দিন শেষ হয়েছে। সুতরাং পরের দিন থেকে পবিত্র রমজান পালন করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেই হিসেবে আমরা তা পালন করছি।

অপরদিকে পটুয়াখালীর ২২ গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার রোজা রাখা শুরু করেছেন। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ জানান, এ বছরও জেলার সদর উপজেলার বদরপুর, ছোট বিঘাই; গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনিপাড়া; বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা, আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালীর ইটবাড়িয়া, পৌরশহরের নাইয়াপট্টি, বাদুরতলী, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সাফাখালী—এই ২২ গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা শুরু করেছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে একদিন আগে রোজা শুরু হয়েছে। এ দরবারের অনুসারীরা দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে সারা বিশ্বের মুসলমানদের একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে এবং আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে এভাবে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

মির্জাখীল দরবারের বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীনের (ক.) প্রদর্শিত পথে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া, চরতি, মনেয়াবাদ, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ, খাগরিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুঁটিবিলা, চুনতি ও চরম্বা, বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর, জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ, বরুমচড়া, পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়াসহ শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক অনুসারী এক দিন আগে রোজা পালন করেন। এ ছাড়া বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, হাতিয়া, নোয়াখালী, চাদঁপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় যেখানে মির্জাখীল দরবারের অনুসারী রয়েছেন তারাও মঙ্গলবার থেকে প্রথম রোজা পালন শুরু করেছেন।

এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে তারাবির নামাজ ঘরে বসে পড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এমআই/পি

RTV Drama
RTVPLUS