Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

People of all walks of life pay homage to fiction writer Rabia Khatun
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

নন্দিত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। সোমবার সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মরদেহ আনা হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, কবি-লেখকসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আওয়ামী লীগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ে। দুপুর তিনটায় চ্যানেল আইয়ের তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। রোববার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান।

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্ম ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে বিক্রমপুরে মামার বাড়িতে। ‘নিরাশ্রয়া’ (অপ্রকাশিত) উপন্যাস দিয়ে তার লেখালেখি শুরু। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘মধুমতী’ (১৯৬৩)। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামে৷ তার বাবা মৌলভী মোহাম্মদ মুল্লুক চাঁদ এবং মা হামিদা খাতুন। আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (মাধ্যমিক) পাস করেন ১৯৪৮ সালে। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বিদ্যালয়ের গন্ডির পর তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চিত্রপরিচালক এটিএম ফজলুল হকের সাথে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। ফজলুল হক বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্রের জনক। তাদের চার সন্তান ফরিদুর রেজা সাগর (প্রখ্যাত লেখক এবং চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক), কেকা ফেরদৌসী (রন্ধনশিল্পী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থ নিরাশ্রয়া (অপ্রকাশিত), বিদায় (অপ্রকাশিত), অশোক-রেবা (অপ্রকাশিত), মধুমতী (১৯৬৩, চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ২০১১ সালে), সাহেব বাজার (১৯৬৫), অনন্ত অন্বেষা (১৯৬৯), রাজারবাগ শালিমারবাগ (১৯৬৯), মন এক শ্বেত কপোতী, ফেরারী সূর্য, অনেকজনের একজন, জীবনের আর এক নাম, দিবস রজনী, সেই এক বসন্তে, মোহর আলী (১৯৮৫), নীল নিশীথ, বায়ান্ন বাজার এক গলি (১৯৮৪), পাখি সব করে রব, নয়না লেকে রূপবান দুপুর, মিড সামারে, ই ভরা বাদর মাহ ভাদর (১৯৮৮), সে এবং যাবতীয়, হানিফের ঘোড়া, হিরণ দাহ (১৯৯৫), এই বিরহকাল (১৯৯৫), মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র, হোটেল গ্রীন বাটন (১৯৯৫), চাঁদের ফোটা, নির্বাচিত প্রেমের উপন্যাস, বাগানের নাম মালনিছড়া, প্রিয় গুলশানা (১৯৯৭), বসন্ত ভিলা (১৯৯৯), ছায়া রমণী, সৌন্দর্যসংবাদ (১৯৯৯), হৃদয়ের কাছের বিষয় (১৯৯৯), ঘাতক রাত্রি (১৯৯৯), শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, মালিনীর দুপুর, রঙিন কাচের জানালা, মেঘের পর মেঘ (চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ২০০৪ সালে), যা কিছু অপ্রত্যাশিত, দূরে বৃষ্টি, সাকিন ও মায়াতরু, রমনা পার্কের পাঁচবন্ধু, শুধু তোমার জন্য, ঠিকানা বি এইচ টাওয়ার, কখনও মেঘ কখনো বৃষ্টি (চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় ২০০৩ সালে), প্রথম বধ্যভূমি, কমলিকা, দশটি উপন্যাস, শঙ্খ সকাল প্রকৃতি, যা হয় না, আকাশে এখনো অনেক রাত, শহরের শেষ বাড়ি, নষ্ট জ্যোস্নার আলো, মাইগো, সমুদ্রবণ ও প্রণয় পুরুষ, এই দাহ, রাইমা ইত্যাদি।

তিনি যেসব পুরস্কার পান তা হলো, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, (১৯৭৩), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক, (১৯৯৩), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ (১৯৯৪), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), জসিমউদ্দিন পুরস্কার (১৯৯৬), শেরে বাংলা স্বর্ণপদক (১৯৯৬), শাপলা দোয়েল পুরস্কার (১৯৯৬), টেনাশিনাস পুরস্কার (১৯৯৭), ঋষিজ সাহিত্য পদক (১৯৯৮), অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার (১৯৯৮), লায়লা সামাদ পুরস্কার (১৯৯৯), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯), মিলেনিয়াম এ্যাওয়ার্ড (২০০০), টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড (২০০১), বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড (২০০২), শেলটেক পদক (২০০২), মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (২০০৫), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (২০০৫) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭)।

পি

RTV Drama
RTVPLUS