logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘মনিরের ২০০ প্লটের পেছনে জড়িত প্রভাবশালীরা কেন গ্রেপ্তার হবে না’

influential, behind Monir, 200 plots, arrested
গোল্ডেন মনির
রাজধানীতে মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই নেই এমন মানুষের অভাব নেই। অথচ একাই গোল্ডেন মনির ২০০ প্লটের মালিক হয়েছেন। তার বিশাল এই সম্পদের মালিক হওয়ার পেছনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জড়িত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেরানীগঞ্জের কাপড়েরর ফেরিওয়ালা সিরাজ মিয়ার ছেলে মনির দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করে বাবার সাথেই ব্যবসা শুরু করেন। এক সময় ব্যবসার কিছুটা প্রসার ঘটিয়ে মৌলভীবাজার থেকে কাপড় এনে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করতেন। কিন্তু ভাগ্যের চাকা দ্রুত পরিবর্তনের জন্য ধূর্ত মনির ব্যাংকক-সিঙ্গাপুরে ল্যাগেজ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। আর সেই ব্যবসার আড়ালেই শুরু করেন স্বর্ণ চোরাচালান।

গত শনিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নিজ বাসা থেকে গোল্ডেন মনিরকে ৬০০ ভরি সোনার গহনা, বিদেশি পিস্তল-গুলি, মদ, ১০ দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকাসহ আটক করা হয়। তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন ২টি বিলাসবহুল গাড়ি, রাজউক ও ভূমি কর্মকর্তাদের ৩২টি নকল সিল, জাল দলিলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। অটো কার সিলেকশন নামে তার মালিকানাধীন গাড়ির শোরুম থেকেও তিনটি অনুমোদনহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

আজ রোববার (২২ নভেম্বর) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নুর আলম বলেন, যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোল্ডেন মনিরের নামে ২০০ প্লটের বরাদ্দের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। অনিয়ম রোধে রাজউকে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

গোল্ডেন মনির ২০০ প্লটের মালিকের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরটিভি নিউজকে বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। যার প্রকৃত উদাহরণ গোল্ডেন মনির। একজন গোল্ডেন মনির একাই অনিয়ম করতে পারেননি, তার সঙ্গে রাজউকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত জড়িত ছিল। এসব অনিয়মে গোল্ডেন মনির গ্রেপ্তার হয়েছেন কিন্তু তার সঙ্গে যেসব প্রভাবশালী নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তাদেরকে খুঁজে গ্রেপ্তার করলে রাজউক, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা বারবার অনিয়ম করার সাহস পাবেন না।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোল্ডেন মনির নিয়মিত রাজউকে আসতেন। তার জন্য সংস্থাটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পর্ক ছিল। মনির ভিআইপি প্রটোকলের মতো মর্যাদা পেতেন। রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক থাকায় কর্মচারীরা গোল্ডেন মনিরকে দেখা মাত্রই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।

২০০ প্লটের মালিক হওয়ার পেছনে রাজউকের কারও সহযোগিতা বা ইন্ধন আছে কিনা এমন প্রশ্নে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, এতোগুলো প্লটের মালিক একজন ব্যক্তি একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় গোল্ডেন মনির ২০০ প্লটের মালিক হয়েছেন।

রাজউক ভবনে মনিরের একটি অফিসের অনেক কাগজপত্র পাওয়ার বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান সাঈদ নুর বলেন, গতবছরে রাজউকের চেয়ারম্যান ছিলেন সুলতান আহমেদ। সে সময় আমি সদস্য (প্রশাসন) ছিলাম। আমাদের সবার একটি অভিযান পরিচালতি হয়েছিল রাজউকেরই একটি কক্ষে। এ কক্ষটি বাহিরে ভাড়া দেওয়া ছিল। এ কক্ষ থেকে আমরা ৭২টি নথি উদ্ধার করেছি। সেই নথি উদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছি। সেই সময়ই একজন কর্মচারী আটক হন তাকে আমরা থানায় সোপর্দ করি। এ বিষয়টি এখনও বিচারাধীন আছে। সেই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছি এবং মামলা চলমান রয়েছে। তদন্তও চলছে। এর সঙ্গে আর যারা জড়িত আছে, পুলিশ চার্জশিট দিলে এবং শনাক্ত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গোল্ডেন মনিরের ২০০ প্লটের বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান আরটিভি নিউজকে বলেন, সরকারের প্রতিটি সংস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করলেও তাদের দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেনি। বরং আগের তুলনায় দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ ছাড়া কোনোভাবেই গোল্ডেন মনির ২০০ প্লটের মালিক হতে পারতেন না। এই ঘটনার সঙ্গে সরকারের যেসব কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী নেতা জড়িত রয়েছেন তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

এফএ/এমকে

RTVPLUS