logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মৃতদেহ ধর্ষণে অভিযুক্ত মুন্না ধরা পড়লো যেভাবে

caught, accused, rape
মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করতেন মুন্না
সারাদেশে ধর্ষণ, হত্যা, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুসহ যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল থেকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। কিন্তু গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সিআইডি’র ডিএন পরীক্ষায় কয়েকজন নারীর মরদেহ থেকে একজন পুরুষের শুক্রানুর উপস্থিতি পায়। এতে অবাক হয় সিআইডির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। কিভাবে নারীদের ডিএনএ পরীক্ষায় একজন ব্যক্তির শুক্রানু উপস্থিত রহস্যের সৃষ্টি করে। এতে শুরু হয়ে যায় সিআইডি’র অনুসন্ধান। বেরিয়ে আসে ধর্ষণের প্রকৃত আলামত। 

সিআইডি'র বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ যেসব ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়, সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল তৈরি করে থাকে সিআইডি।

২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের আগাস্ট পর্যন্ত সৌহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাওয়া মৃত নারীদের দেহে পুরুষ শুক্রানুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। কিন্তু একাধিক নারীর মরদেহে একজন পুরুষের শুক্রানুর উপস্থিতি তাদের চমকে দেয়। তারা সেই পুরুষকে চিহ্নিত করার জন্য মাঠে নামে।

বিবৃতিতে সিআইডি বলেছে, মরদেহে পাওয়া শুক্রানুর ওপর ভিত্তি করে সেই পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যায় ।

প্রাথমিকভাবে সিআইডি’র ধারণা ছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে অথবা হত্যার পর ধর্ষণ করেছে। তবে পরে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের পর সিআইডি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে কোনো একজন ব্যক্তি মরদেহের ওপর ‘বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ’ করছে। পরে সিআইডি’র গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে প্রত্যেক ভুক্তভোগীর মরদেহের ময়নাতদন্ত একটি নির্দিষ্ট হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে।

হাসপাতালটির মর্গের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে সিআইডি জানতে পারে যে, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরের দিন মর্গে রেখে দেয়া হতো। মর্গের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় যে মর্গের ডোমদের কেউ অপরাধ সংঘটন করে থাকতে পারে।

সারাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যুর আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল সংগ্রহে আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। সেই ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষায় নারীদের মরদেহ থেকে একজন ব্যক্তির শুক্রানু পাওয়া যায়। ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য সব লাশই মর্গে রেখে দেওয়া হয। আর সেই মর্গে নিয়মিত লাশ পাহারা দিতে মুন্না ভগত। তখন সিআইডি ভাবনা কোনো একজন বিকৃত মানুষ মৃত নারীদের মরদেহ ধর্ষণ করতেন।  

সন্দেহের ভিত্তিতে ঐ নির্দিষ্ট হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা। ঐ তদন্তের সময় জানা যায় যে হাসপতালটির একজন ডোম পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মরাদেহ পাহারা দেয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল। এরপর বিস্তারিত তদন্তের পর তথ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্ত ডোম এই অপরাধের সাথে জড়িত। অভিযুক্ত যুবক তদন্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গাঁ ঢাকা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি মুন্না ভগতকে গ্রেপ্তার করে।

এফএ

RTVPLUS