logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

১০ হাজার কোটি টাকা লুট, বিদেশে রাজার হালে পিকে হালদার (ভিডিও)

PK Haldar,
পিকে হালদার
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করে বিদেশে রাজার হালে আছেন ধুরন্ধর ব্যবসায়ী প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার। কানাডার টরেন্টোতে গড়েছেন বাড়ি-গাড়ি। খুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর লুট করা প্রতিষ্ঠানগুলো ধুঁকছে অর্থের অভাবে। অনেকটা বন্ধই হয়েছে গেছে ‘পিপলস লিজিং’-এর মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রায় চার বছর আগে ‘ইন্টারন্যাশনাল লিজিং’-এ পাঁচ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন কোহিনুর ইসলাম। অ্যাকাউন্ট ম্যাচিউর হওয়ার তিন বছর পরও আমানতের টাকা পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী জানান, আমি যদি এখন আমার ছেলের ইন্সটলমেন্টের টাকা দিতে না পারি তাহলে আমার ছেলেকে মেডিকেল থেকে বের করে দিবে। আমার জীবন তো শেষ এখন আমার ছেলের জীবন শেষ। টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় সিএ সাহেবের পায়ে পর্যন্ত ধরছি। কিন্তু তারা এখনও টাকা পরিশোধ করেনি। টাকা চাইতে গেলে শুরু করে না টালবাহানা। আজ দিচ্ছি কাল দিচ্ছি বলে পার হয়ে গেছে তিন বছর।

গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করেই, গেলো বছরের ১৪ জুলাই কার্যক্রম স্থগিত করে দেশের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস লিজিং’। টাকা ফেরত পেতে আমানতকারী এখন নানা জায়গায় ধর্না দিচ্ছেন।

কেবল ‘পিপলস’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল লিজিং’ নয় টাকা লুট করে প্রায় অর্ধ ডজন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পথে বসিয়েছেন বিদেশে পালিয়ে থাকা পিকে হালদার।

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড এর এএমডি তাহের আহমেদ বলেন,  যে পরিমাণ টাকা ডিমান্ড ছিল সেখান থেকে ১০-২০% টাকা পরিশোধ করতে পেরেছি। তবে আমরা  ১০০% টাকা পরিশোধে জন্য আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নিচ্ছি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র বলছে, একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে কাগজে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে পিকে হালদারের সিন্ডিকেট (জিএফএক্স) ‘পিপলস লিজিং’ থেকে লুট করেছেন তিন হাজার কোটি টাকা। ‘রিলায়েন্স’ ও ‘এএএস ফাইন্যান্স’ থেকে চার হাজার ৭০০ কোটি এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল লিজিং’ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

লুট করা টাকা সিঙ্গাপুর, ভারত ও কানাডায় পাচার করেছেন। কানাডায় বাড়ি-গাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন পিকে হালদার। অবাধ বিচরণ করছেন দুবাইসহ কয়েকটি দেশে।

দুদক আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেন, আমাদের করা মামলাটা যখনই আদালতে উঠবে তখন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো সে ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে আসে নাই এবং কোর্টের অর্ডারটা সে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিফাই করেছে। আমরা আদালতকে অনুরোধ করবো যেন তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এরেস্ট করে দেশে নিয়ে আসা হয়।

আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে আইন থাকলেও কঠোর প্রয়োগ না হওয়ায় একের পর এক পিকে হালদার জন্ম নিচ্ছে।

অর্থ আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মো. মোকছেদুল ইসলাম বলেন, বেশির ভাগ সময় দেখা যায় যে উচ্চ পর্যায়ের লোক এইসব কাজে জড়িত থাকে। যারা অনেক বেশি শক্তিশালী ফলে আইনের ধরাছোঁয়ার বাহিরে চলে যায়। যদিও মাঝেমধ্যে দুই একজন ধরা পড়ে কিন্তু এটা আসলে অন্যদের মধ্যে ভয় করতে যথেষ্ট না। তাই এই ধরনের পিকে হালদারার এমন সাহসটা পায়। যুগ উপযোগী আইন নেই বলেই তো এইসব দুর্নীতির সংশোধন হচ্ছে না।

এই আইনজীবীর মতে, আর্থিক দুর্বৃত্তায়ন থামাতে অর্থ আইনের সংশোধন অতি জরুরি।

এম

RTVPLUS