• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

ইউরো জয়ের পর বিশ্বকাপের স্বপ্ন পর্তুগালের

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ২৮ মে ২০১৮, ১৯:৫১ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৮, ২০:১৩
পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালের প্রতিনিধি। দলটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (FPF)। ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে দলটি ৪র্থ অবস্থান অর্জন করে। ১৯৬৬ সালে দলটি সর্বপ্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। সেবার দলটি সেমিফাইনাল পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়েছিলো, এবং ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে তারা ঐ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় অবস্থানে থেকে ঐ বিশ্বকাপ শেষ করে পর্তুগাল। পর্তুগালের খেলোয়াড় ইউসেবিও সেবার টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৬ ও ২০০২ সালে পর্তুগাল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো। দুই বারেই দলটি প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।

২০০৩ সালে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কোচ লুইজ ফিলিপ স্কোলারিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। স্কোলারি ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ ছিলেন। স্কোলারির সময় দলটি ২০০৪ সালের উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। যদিও ফাইনালে তারা গ্রিসের কাছে পরাজিত হয়। ২০০৮ সালে স্কোলারি ইংরেজ ফুটবল ক্লাব চেলসির দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। তখন পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ ও ম্যানেজারের দায়িত্ব পান কার্লোস কুয়েরোজ। পরবর্তীতে তার সময়েই পর্তুগাল ২০১০ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : শতভাগ ফিট নন বললেন নেইমার
--------------------------------------------------------

২০০৪ সালে ইউরোর ফাইনালে গ্রীসের কাছে হেরে ১৭ নাম্বার জার্সি পড়ে বাচ্চা শিশুর মতো কাঁদছিলো ছেলেটা। ফুটবলের ভাগ্য দেবতা সেবার সহায় ছিলো। কতগুলো বছর যে অভিশাপে কেটে গেছে তার হিসেব জানেনা ফুটবল বিশ্ব। যুগে যুগে ফুটবল লিজেন্ডরা এসেছেন আবার চলেও গেছেন। তাদের ইতিহাস আর হিসেব গুলো লিখা আছে স্বর্ণাক্ষরের পাতায়। কিন্তু পর্তুগালের লিজেন্ডদের সংখ্যা অনেক কম।

ফুটবল ঈশ্বর যখন ভাগ্য আগে থেকেই নির্ধারণ করেন তখন ভাগ্যগুলোকে বদলে ফেলতে পরিশ্রমের কমতি রাখেন নাই তিনি। ছোট্ট ছেলেটা গুটি গুটি পায়ে বড় হলেও চারদিক থেকে বাধা এলো। ভালো খেলেও দলের কোনো শিরোপা নেই বলে ব্যালন ডি’ওর পুরস্কার অন্যের হাতে। সামনের বেঞ্চে বসে মেসির হাতে পুরস্কার। শ্যাম্পুর বোতল নিয়ে করা কত শত ট্রোলে দুমড়ে মুচড়ে সেই ছেলেটা। কিন্তু একসময় তিনিই যে সবকিছু ছাড়িয়ে যাবেন তা কি জানতো ফুটবল বিশ্ব। ব্যালন ডিঅর যখন চার এক ব্যাবধানে পিছিয়ে ছেলেটা তখন কে-ই বা জানতো সেটা একদিন পাঁচ পাঁচ হয়ে আসবে। মনে আছে ইউরো দুই হাজার ষোলোর কথা?

সেবার অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটা কাঁধে নিয়ে ছেলেটা লড়ছিলো। জার্মান স্পেন ফ্রান্স ইটালির মত দলগুলোকে পিছনে ফেলে ইউরোটা নিজের করে নিলো পর্তুগাল। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ জয়ের নায়ক হ্যা বলছিলাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথা। ফুটবল বিশ্বে পেলে, ম্যারাদোনার খেলা দেখার সৌভাগ্য খুব কম হয়েছে। 

পর্তুগালের একটা নক্ষত্র আছে। উজ্জ্বল নক্ষত্রের দিকে সবসময় তাকিয়ে থাকে পুরো দেশ। শুধু পর্তুগালের নক্ষত্র বল্লেও ভুল হয় ফুটবল বিশ্বের রাজপুত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেই হিসেবেই তাসের তুরূকে আবারো নাম লিখানোর অপেক্ষা মিস্টার রোনালদোর। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে পর্তুগাল নিয়ে স্বপ্ন দেখার শেষ নেই ফুটবল বিশ্বের। ষোলো ইউরো চ্যাম্পিয়নরা কি পারবে বিশ্বকে আরেকবার চিনিয়ে দিতে।

পর্তুগাল এ পর্যন্ত ছয়বার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে। ১৯৬৬ তে প্রথম বিশ্বকাপে আসা পর্তুগাল ছিলো স্বপ্নের ইউসেবিও’র পর্তুগাল। চমকে দেয়া পর্তুগাল সেবার সেমিতে বিদায় নিয়েছিলো। বিশ্বকাপ বলতে সেই ৬৬ টাই পর্তুগালের ঐতিহ্য বলা যেতে পারে। সেবার তৃতীয় হয়ে লিসবন ফিরেছিলো পর্তুগাল দল। এরপর ১৯৮৬ এবং ২০০২ বিশ্বকাপ কোয়লিফাই করলেও বাদ পড়তে হয়েছে প্রথম রাউন্ড থেকেই। তবে চুরাশির ইউরোতে সেবার সেমি পর্যন্ত এগিয়েছিলো পর্তুগাল। সেবার এক্সট্রা সময়ে ফ্রান্সের কাছে ৩-২ এ হেরে ঘরে ফিরেছিলো পর্তুগাল। ঠিক ২০০০ ইউরোতেও সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছিলো লুইজ ফিগোরা।

ডাকনাম

:

 সেলেকসাও দ্যে কুইনোস (ইউরোপের ব্রাজিল)

অ্যাসোসিয়েশন

:

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন

কনফেডারেশন

:

উয়েফা (ইউরোপ)

হেড কোচ

:

ফার্নান্দো সান্তোস

অধিনায়ক

:

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

সর্বাধিক ম্যাচ

:

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (১৪৯)

সর্বাধিক গোলদাতা

:

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৮১)

হোম ভেন্যু

:

 

বর্তমান র‌্যাংকিং

:

সেরা সাফল্য

:

তৃতীয় স্থান ১৯৬৬ বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ

:

১৯৬৬, ১৯৮৬, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮

সেরা খেলোয়াড়

:

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

আরও পড়ুন :

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়