• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ঘটনায় বিসিবি অনুতপ্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১৭ মার্চ ২০১৮, ২১:৪৮ | আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৮, ২১:৫৫
শ্রীলঙ্কার ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে নিদাহাস ট্রফি। যেখানে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ছাড়াও খেলছে বাংলাদেশ ও ভারত। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে এখন ফাইনালের অপেক্ষা। শ্রীলঙ্কাকে দর্শক বানিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত।

গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে উত্তেজনাকর ম্যাচ হয়ে গেলো শুক্রবার। যেখানে বাংলাদেশের মোকাবিলা করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ২ উইকেটের ব্যবধানে জয়লাভ করে। 

একটি ‘নো’ বলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম হয় ম্যাচে। এক পর্যায়ে সাকিব আল হাসান মাঠের দুই খেলোয়াড়কে ম্যাচ ছেড়ে উঠে আসার জন্যও বলেন। মাঠে স্বাগতিক অধিনায়কের সঙ্গে সোহানকেও ঝগড়া করতে দেখা যায়। এজন্য এক বিবৃতিতে বিষয়গুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৬০ রানের লক্ষ্যে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ইসুরু উদানার করা প্রথম দুই বল বাউন্সার হওয়ার পর টি-টোয়েন্টির নিয়ম অনুযায়ী ‘নো’ বল কল করার কথা।

ম্যাচ জেতানোর নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ লেগ-আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ‘নো’ বলের ইঙ্গিত দেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের প্রতিবাদের পর মূল আম্পায়ারের সাথে আলোচনা করে তা তুলে নেন। এ নিয়েই যত বিপত্তি।

প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন মাহমুদুল্লাহ। মাঠের বাইরে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মেজাজ হারান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের মাঠ ছেড়ে উঠে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দলকে অবিস্মরণীয় জয় উপহার দেন মাহমুদুল্লাহ। প্রথম দুই বল ডট হওয়ার পর ৪ বলে দরকার ছিল ১২। শেষ দুই বলে ৬। ছক্কা হাঁকিয়ে ১ বল হাতে রেখে দলকে নিয়ে যান ফাইনালের মঞ্চে। খেলেন ১৮ বলে ৪৩ রানের অবিস্মরণীয় এক ইনিংস। রোববার (১৮ মার্চ) শিরোপা লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ভারত। 

এই ঘটনাকে দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত বলছে বিসিবি। বিবৃতিতে বলা হয়, নিদাহাস ট্রফিতে শুক্রবারের (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশ টিমের এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য ছিল বলে মানছে বোর্ড। আমরা বুঝতে পেরেছি ম্যাচের গুরুত্ব ও প্রেসারের কারণে এমনটা হয়েছে। কিন্তু অনুভূতি হচ্ছে, ম্যাচে এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্বের লেভেল প্রদর্শিত হয়নি। সব সময়ই ক্রিকেটীয় চেতনা ধরে রাখার দায়িত্ব স্মরণ করে বাংলাদেশ টিমের সদস্যরা।

বাংলাদেশ ও লঙ্কান বোর্ডের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্কের কথাও তুলে ধরা হয়েছে বিবৃবিতে, ‘বিসিবি ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) মধ্যে একটা সুদৃঢ় বন্ধন রয়েছে। সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে দু’দলের খেলোয়াড়রা চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখবে যেটি দিনকে দিন মজবুত হবে।’

এ ধরনের সিরিজ আয়োজন করায় লঙ্কান বোর্ডের প্রতি প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেনি বিসিবি, ‘আমরা নিদাহাস ট্রফি শেষ হওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। এটি চমৎকারভাবে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্ট। খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট সমর্থকরা তা ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। এসএলসি প্রতিটি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে বাংলাদেশ দল গর্বিত।’

উল্লেখ্য মাঠে অখেলোয়াড় স্বরূপ আচরণ করায় বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও সোহানকে শাস্তি প্রদান করে আইসিসি। সাকিবকে ম্যাচে ২৫ শতাংশ জরিমানার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয় আইসিসি। 

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়