• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ভারতে বাবার শেষকৃত্য করায় একঘরে চার মেয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৪:৫৪ | আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৫:৪২

বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর মেয়েরাই তার সৎকার করবে। মারা যাওয়ার পর চার মেয়ে বাবার ইচ্ছা পূরণ করে। কুসংস্কার আর নারী-পুরুষ বিভেদের মুখে আগুন দিয়ে বাবার যাবতীয় শেষ ক্রিয়াকর্ম করেছেন চার মেয়েই। খবর আনন্দবাজারের।

কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূলে এমন কুঠারাঘাত সহ্য হয়নি মাতব্বরদের। তাই তাদের একঘরে করে নিয়ন্ত্রণের রশি আরও শক্ত করতে চেয়েছেন ওই গ্রামের পঞ্চায়েত। ভারতের রাজস্থানের বুন্দি জেলার এই ঘটনায় একদিকে যেমন চার নারীর বীরগাথা সামনে এসেছে, তেমনই ভারতে গ্রাম গ্রামান্তরে এখনও যে গোঁড়া সমাজ ব্যবস্থার বেড়ি পরানো, উঠে এসেছে সেই ছবিও।

এ গল্প চার নারীর। বলা যেতে পারে চার বিদ্রোহিনীর। রাজস্থানের বুন্দি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের। ৫৮ বছর বয়সী দুর্গাশঙ্কর রেগার আগেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, তার শেষকৃত্যের ক্রিয়াকর্ম করবে তার চার মেয়েই। মেয়েরাও তাতে কোনও সমস্যা দেখেননি। কিন্তু সেটা জানাজানি হতেই গ্রাম পঞ্চায়েত হুমকি দিতে থাকে, এ কাজ করলে ফল ভালো হবে না।

শনিবার মৃত্যু হয় দুর্গাশঙ্করের। ফতোয়ার ভয়ের চেয়েও বাবার ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি তার চার মেয়ে। বাঁশের মাচায় শোয়ানো বাবার দেহ চারদিকে চার বোন কাঁধে করে নিয়ে গিয়েছেন শ্মশানে। সেখানে মুখাগ্নি থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজকর্ম সেরেছেন। আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউই তার মধ্যে কোনও অন্যায় দেখেননি।

দেখেছেন সমাজ, শাসকরা। ঔদ্ধত্য আর গোঁড়ামিকে সমূলে বিনাশ করার সাহস দেখে তারা বিপদের ছায়া দেখেছেন। কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার ভয়ে তাই ফতোয়া। গ্রামে তাদের একঘরে করে দেয়া হয়। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না। শুধু তাই নয়, গ্রামের কমিউনিটি বাথরুমে স্নান করাও নিষেধ তাদের। আর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও গ্রামের কেউ গেলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।

দেখে নিয়েছেন চার মেয়েও। বাবার শেষ ইচ্ছা পালনের তাগিদ হোক বা সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, পিছপা হতে রাজি নন কেউ। বড় মেয়ে মিনা যেমন বলেছেন, বাবার কাজ সেরে আসার পরই আমাদের ক্ষমা চাইতে বলে মাতব্বররা। কিন্তু আমরা ক্ষমা চাইনি। কারণ আমরা কোনও অন্যায় করিনি। কোনও অপরাধ করিনি।

আরও পড়ুন:

এ/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়