• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

বাজার মনিটরিংয়ে সারা বছর ভ্রাম্যমাণ আদালত চান ক্রেতারা (ভিডিও)

মিথুন চৌধুরী
|  ২২ জুন ২০১৮, ১৬:২০ | আপডেট : ২২ জুন ২০১৮, ১৯:৪৬
ঈদের পর বাজারে সবজির দাম আকাশচুম্বী। বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও রমজানের চেয়ে নিত্যপণ্যের দাম বেশি হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে আছেন ক্রেতারা। তাই দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে রমজানের মতো  সারা বছর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। এসময়  ক্রেতারা এ দাবি জানান। 

ক্রেতারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস এলেই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপর হয়ে ওঠে বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। বছরের অন্য ১১ মাস তেমন উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না।

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহিদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কেবল রমজানে না করে সারা বছর বাজার মনিটরিং টিম কাজ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভেজাল রোধ ও ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট বন্ধ হবে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী
--------------------------------------------------------

এদিকে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খুব একটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে না বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর। ফলে বছরজুড়ে উপেক্ষিত থাকে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার।

হাতিরপুল বাজারে বাজার করতে আসা ব্যাংকার মইনুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কেবল রমজানে অভিযান না চালিয়ে সারা বছর বাজার মনিটরিং করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে অস্থির ছিল চাল ও পেঁয়াজের বাজার। রমজানে মনিটরিং থাকায় কিছুটা স্বস্তি ছিলো বাজারে। কিন্তু মনিটরিং না থাকলে এক শ্রেণির অসাধু বিক্রেতা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দেন। কাঁচাবাজারেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হাতিরপুর বাজারে বাজার করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী কামরুন নাহার নামে একজন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বছরের কোনও না কোনও সময়ে কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। গত বছর পেঁয়াজের দাম একনাগাড়ে অনেকদিন বেশি ছিল। চালের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখেছি। সবজির বাজারেও লম্বা সংকট ছিল। সংকট হলেই দাম বেড়ে যায়। আসলে সংকট থাকে নাকি সংকট তৈরি করা হয়! সংকট তৈরি হলে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছে এমন বার্তা দেন, দাম আরও বেড়ে যাবে। তাড়াতাড়ি স্টক করেন। এসব বলে দাম বাড়ানোর একটা ফন্দি করেন। ওই বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা উচিত বছরজুড়ে।

এদিকে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ঈদের ছুটির আমেজ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তাই বাজার অনেকটা ফাঁকা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গেল শুক্রবারের তুলনায় এ শুক্রবার বেচাকেনা সামান্য। তবে পর পর কয়েকদিন বেচাকেনা ভালো না হলেও আজ কিছুটা বেড়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিক্রি বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার সবজির বাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা, ধনেপাতা ১৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, টমেটো (আমদানি) ১২০ টাকা, মজুদকৃত ৬০ টাকা, গাঁজর ৫০-৬০, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং বরবটি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বয়লার প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, লেয়ার (লাল) ২২০ টাকা, লেয়ার (সাদা) ২০০ টাকায়, পাকিস্তানি মুরগি ৫০০ গ্রাম সাইজের হালি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায় ৫০০ টাকা কেজি দরে আর খাসি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়