Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শহীদনূর আহমেদ, আরটিভি নিউজ

  ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৯:৩৬
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ১১:৫২

বিশ্ব ক্রিকেটে আলো ছড়ানো নাসুমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি সুনামগঞ্জে

নাসুম আহমেদ

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক নাসুম আহমদ। নাসুমের বলের জাদুতে নাস্তানাবুদ অজির বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান। একে একে ৪টি উইকেট শিকার করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়।

নাসুম আহমেদের ক্রীড়া অঙ্গনে ঝলকে আনন্দের উচ্ছ্বাস হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। কেননা, এই প্রথম দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে জাতীয় পর্যায়ে চমক দেখাচ্ছেন সুনামগঞ্জের কেউ। নাসুমের এমন কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও জেলা ক্রীড়াঙ্গনে নাসুমের আজীবন নিষেধাজ্ঞার সংবাদে বিষাদ আর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ জেলার ক্রিকেট প্রেমীদের মনে। এমন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞাদেশে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। নিষেধাজ্ঞাদেশ প্রত্যাহার করে নাসুমকে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদানের দাবি জেলার সর্বস্তরের মানুষের।

জানা যায়, এক যুগ আগে সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন নাসুম। বাঁহাতি দুন্ধুমার ব্যাট করতেন তিনি। সঙ্গে অফ-স্পিন বোলিংয়েও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেন। তবে বোলারের চেয়ে তখন ব্যাটসম্যান পরিচয়ই মুখ্য ছিল তার। নাসুম সুনামগঞ্জের সন্তান হলেও সপরিবারে বসবাস করতেন সিলেট শহরে। সাধারণ পরিবারের সন্তান নাসুম ক্রিকেট নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে নিজ জেলার বদলে বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির আশায় সিলেট জেলা দলের খেলোয়াড় হয়ে ক্রিকেট খেলেছিলেন। এ কারণে ২০১৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটি তাকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০২০ সালে জেলা দলের হয়ে খেলতে আসলে এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেই আক্ষেপ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নাসুম। মাথায় নিয়ে ঘুরছেন নিজ জেলায় শাস্তির খড়গ।

প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাব ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিরাই উপজেলার হাওরঘেরা দুর্গম গ্রাম মধুরাপুরের সন্তান নাসুম আহমদ। সপরিবারে সিলেটে অবস্থান করলেও ক্রিকেট পাগল নাসুম ২০০৯ সালে সুনামগঞ্জ জেলা দলের হয়ে খেলার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে আসেন। ডাক পান জেলার অন্যতম ক্রিকেট ক্লাব প্যারামাউন্টে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ওই ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলেন। পরে তিনি বয়সভিত্তিক সিলেট জেলা দলের হয়ে খেলেন। এতে সুনামগঞ্জ ক্রিকেটের সঙ্গে ছেদ পড়ে তার। এ কারণে সুনামগঞ্জের ক্রিকেট বিভাগ তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। এই বহিষ্কারাদেশ এখনো ঝুলছে।

প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড় তাসলিমুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, নাসুম ভাই ছিলেন আমাদের আদর্শ খেলোয়াড়। তিনি ব্যাটিং-বোলিংয়ে সমান নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। আমরা ছোটরা তার খেলা মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। জেলার তরুণরা তার সংস্পর্শ পেলে তার মতো আরও অনেক নাসুম সুনামগঞ্জ থেকে বের হবে।

ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ আরটিভি নিউজকে বলেন, নাসুম আহমদ আমাদের ক্লাবের উজ্জ্বল নক্ষত্র। আজ বিশ্ব তাকে চিনে একজন অফ-স্পিনার হিসেবে। কিন্তু আমাদের ক্লাবে ২০০৯ সালে ছোট্ট নাসুম বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ পেয়েছিল। পরে সে অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে আমাদের মুগ্ধ করেছিল। যখন ক্রিকেট লীগ শুরু হয় তখন সে আমাদের জানায় সুনামগঞ্জ জেলা টিমে সুযোগ-সুবিধা কম। তাই সিলেট দলে খেলবে। ক্রিকেট নিয়ে তার স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সে সিলেট জেলার হয়ে খেলে। এই তুচ্ছ কারণে তাকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আজীবনের জন্য যখন নিষিদ্ধ করে তখন আমি সেই সভায় ছিলাম। তখন এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটের প্রতি তার নিষ্ঠা আজ দেখিয়ে দিলো। সে পরিশ্রম করে এই অবস্থানে এসেছে। আমরা অবিলম্বে তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে লজ্জা থেকে মুক্তির দাবি জানাই। যদি এই নিষেধাজ্ঞা তোলা না হয় তাহলে আমাদের পরের প্রজন্মের জন্য লজ্জার উদাহরণ হয়ে থাকবে। তার সংস্পর্শে আমাদের এই জেলার তরুণদের যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

নাসুমের জন্মস্থান ভাটিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সইদুর রহমান তালুকদার জানান, নাসুম একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার। সুনামগঞ্জের ক্রিকেটের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার জন্যে সে সিলেটের হয়ে খেলেছে। তাই বলে তাকে বহিষ্কার করতে হবে? এমন সিদ্ধান্ত জেলাবাসীর জন্য চরম লজ্জার। নাসুমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তার যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়ার দাবি করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী আরটিভি নিউজকে বলেন, নাসুম জেলা টিমে না খেলে অন্য জেলার টিমে খেলায় তাকে আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটি বহিষ্কার করেছিল। আগামী মিটিংয়ে আমরা বৈঠক করে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেব।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS