DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬

ঢাকাকে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার কুমিল্লার

মেহেদী হাসান, আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৩
তামিম ইকবালকে খালি হাতে ফেরায়নি বিপিএলের ফাইনাল। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই দেখা পেলেন শতকের, উঁচিয়ে ধরলেন শিরোপা। শতক তো হাঁকালেন, সঙ্গে দেশের হয়ে খেললেন টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ইনিংস! ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে হয়েছেন বিপিএলের ইতিহাসে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক। ১৪৬ রান নিয়ে তামিমের উপরে আছেন ক্রিস গেইল।

ষষ্ঠ বিপিএলের ফাইনালে উঠতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের পথ যতটা মসৃণ ছিল ঠিক তার উল্টো ছিল ঢাকার। রবিন রাউন্ড লিগের শেষদিকে পাঁচ ম্যাচ হেরে বিপর্যস্ত ঢাকা কোনমতে জায়গা করে নিয়েছিল শেষ চারে। এলিমিনেটরে চিটাগং ভাইকিংসকে আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে শক্তিশালী রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো জায়গা করে নেয় ফাইনালে।

এবারের বিপিএলে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল ধরা হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথকে দলে নিয়ে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়ে যে চমকটা দেখিয়েছিল শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে বিদায় নেন তিন ম্যাচ খেলেই। বাকি পথ ইমরুল কায়েসের কাঁধে চড়েই পাড়ি দিয়েছে কুমিল্লা।

অন্যদিকে বিদেশি তারকায় ঠাসা ঢাকা ডায়নামাইটস টুর্নামেন্টের শুরুতে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেও খেই হারায় সিলেট আর চিটাগং পর্বে গিয়ে। খেই হারালেও সাকিবের নেতৃত্বগুণে ফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি।

একদিকে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জয়ের সুযোগ ঢাকার সামনে, অন্যদিকে দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ কুমিল্লার সামনে।

আজ শুক্রবার মিরপুরের শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে কুমিল্লাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ডায়নামাইটস অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

ব্যাটিং করতে নেমে কুমিল্লার শুরুটা হতাশার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রুবেল হোসেনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন এভিন লুইস। এরপর ধীর গতিতে এগুতে থাকা বিজয়কে ২৪ রানে ফেরান সাকিব। এরপর শামসুর রহমানও সাজঘরের পথ ধরেন রানের খাতা খোলার আগে।

অপরাজিত ১৪১ রান করে ম্যান অব দ্য ফাইনাল তামিম ইকবাল

দলের এমন ঘোর বিপর্যয়ে হাল ছাড়েননি তামিম ইকবাল। ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে খেললেন দুর্দান্ত এক শতকের ইনিংস। ৩১ বলে অর্ধশতক তোলার পর ৫০ বলে তোলেন শতক। শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে ১৪১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার । ১৪১ রানের ইনিংসে  ছিল ১০টি চার ১১টি ছয়।

২০ ওভার শেষে কুমিল্লার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৯৯ রান।

ঢাকার হয়ে ১টি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন আর সাকিব আল হাসান।

ম্যাচটা ফাইনাল বলেই হয়তো স্নায়ুচাপ ঠিক রাখতে পারেননি সুনীল নারিন। গোটা টুর্নামেন্টে ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত শুরু করা নারিন আজ প্রথম বলেই ফেরেন শূন্য রানে।

আরেক ওপেনার উপল থারাঙ্গা আর দুই নম্বরে ব্যাট করতে আসা রনি তালুকদার করেন ১০২ রানের জুটি । দুজনেই রান তুলতে থাকেন দ্রুত, সমান তালে।

থারাঙ্গা ২৭ বলে ৪৮ রান করে স্বদেশী থিসারা পেরেরার বলে থামলেও রনির ব্যাটে ছিল চার-ছয়ের ফুলঝুরি।

৩৮ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে যখন রানআউট হয়ে পথ ধরেন সাজঘরের, তখনই মনে হলো আর বুঝি পারল না ঢাকা!

ঠিক সেটাই হলো। সাকিব এদিন ৩ রান করে ক্যাচ তুলে দেন তামিম ইকবালের হাতে। আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ডরা এদিন দু’শ রানের চাপ সামলে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পোলার্ড ১৩ আর রাসেল ফেরেন ৪ রান করে।

ওহাব রিয়াজ আর থিসারা পেরেরার সামনে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠতে পারেনি ঢাকার লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ।

২০ ওভারে ১৮২ রানেই থেমে যায় ঢাকার ইনিংস। ১৭ রানের জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের শিরোপা ঘরে তুলল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। কুমিল্লার হয়ে ৩ উইকেট নেন ওহাব রিয়াজ। ২টি করে উইকেট নেন সাইফুদ্দিন ও থিসারা পেরেরা।

এমআর/এস