logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ: বিএনপি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৩ আগস্ট ২০১৯, ২২:২২
ডেঙ্গু
ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান ও বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধান করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার সন্ধ্যায় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব রাখছি, সরকার ডেঙ্গু চিকিৎসায় জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেবে এবং জনগণের জন্য ডেঙ্গুজ্বর বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকার এতো টাকা খরচ করতে পারে বিভিন্ন সেক্টরে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কোটি কোটি টাকা জমা হয়, সেটা দেখা যায় যে তাদের পছন্দের ব্যক্তির জন্য চলে যায়। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন তাদের জন্য এই অর্থ(ত্রাণ তহবিলের) ব্যবহার করাটা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের উচিত হবে এ বিষয়ে আরো ফান্ড যোগাড় করে বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।’

ডেঙ্গু রোগীর ব্যাপকতার কারণে হাসপাতালগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মহানগরীর কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের সহযোগিতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবাকেন্দ্র স্থাপন করবেন। সেখান থেকে অনলাইনে ডেঙ্গু রোগীদেরকে ডাক্তাররা পরামর্শ দেবেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘গতকাল আমার একটা বক্তব্যে কনফিউশন তৈরি হয়েছে। জরুরি অবস্থার বিষয়টি নিয়ে আমি আসলে এটি ওইভাবে বলতে চাইনি। আমি যেটা বলতে চেয়েছি তা হলো- আপদকালীন জরুরি ব্যবস্থা। অর্থাৎ ডেঙ্গুতে একটা বড় রকমের সমস্যা তৈরি হয়েছে; যেটা মোকাবিলায় আমি আপদকালীন জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে জরুরি অবস্থার কথাটা বলেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশ যাওয়া এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রদের বক্তব্য মিলিয়ে এটা একটা লেজে গোবরে অবস্থা তৈরি করে ফেলেছে সরকার। তারা এই সমস্যা সমাধান করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এটা এখন এতো বড় আকার ধারণ করেছে যে, এটা এখন ৬৪ জেলায় চলে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে ব্যবস্থা দরকার ছিলো, সে ব্যবস্থা সরকার নিতে পারেনি। অর্থা মশা মারার জন্য যে ‍ওষুধ যেটা তারা আনতে পারেনি এবং এতো অল্প সময়ের মধ্যে আমদানি করার সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।’

নিজের বাসা উত্তরায় মশার উপদ্রুপের কথা বলতে গিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমি যে বাসায় থাকি তার পাশেই একটা বড় পাকা ড্রেন আছে, যা আজ পর্যন্ত আমি দেখিনি পরিষ্কার করা হয়েছে। আর মশার ওষুধ যারা দেয় তাদেরকে গত দেড় মাস আমি দেখিনি। ঢাকা শহরে এই ব্যাপারটা সবাই জানে। আমরা গতকাল একটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি, নিজে নিজের উদ্যোগে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখানে সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তারা সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো এটা এতো অপ্রতুল, সুবিধা পাচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল পরীক্ষার জন্য, সেটা কিন্তু তিনটা পরীক্ষা করতে হয়। ফলে ১৫০০ টাকা এমনিতেই এসে যায়।’

বন্যা পরবর্তী দুর্গতদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির নেতৃত্বে ড্যাব দুর্গত এলাকায় ওষুধপত্র বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা দেবে বলে জানান তিনি।

একই সাথে কৃষকদের কৃষি পুনর্বাসনের জন্য দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে কৃষক দল ও এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ থাকবেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সৌদি আরব যাচ্ছেন- এমন সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবো না। এই সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আসলে প্যারোলের ব্যাপারে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করিনি। কোথাও কোনো চিঠিও দেয়নি। আমরা কোথাও কোনো কথাও বলিনি।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, ঈদের পর খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আরো বেগবান করার জন্য বিভাগীয় সমাবেশগুলো দ্রুত শুরু করা হবে।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। এসময় লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিএনপি এর সর্বশেষ
  • বিএনপি এর পাঠক প্রিয়