logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি নেতার কাণ্ড!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৬ | আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৬
Brahmanbaria BNP leader's scandal
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর বিএনপি’র এক নেতা নিজ দলের ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরকার দলীয় সাংসদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় তার নিজ দল বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ দেয়া সেই বিএনপি নেতার নাম আনিছুর রহমান মঞ্জু। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। এদিকে সরকার দলীয় সাংসদের কাছে নিজ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নালিশের ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নবীনগর মহিলা কলেজে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় বিএনপি নেতা মঞ্জু কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে হাজির হন। এবং তিনি এমপি’র কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। এতে তিনি নিজ গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অনুরোধ করেন।

বিএনপি নেতা মঞ্জু পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে কথা বলেন। পরে সরকার দলীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল বলেন, সন্ত্রাসী যেই হোক, যতো বড়ই হোক; আমি যতদিন আছি ততদিন কোনও কম্প্রোমাইজ করবো না।

এদিকে জানা যায়, গত ৭ই নভেম্বর বিএনপি’র এই নেতার ওপর হামলা করে পৌর নির্বাচনের আগে দল থেকে পদত্যাগকারী ছাত্রদল ও বিএনপি’র কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযোগ ওঠে, এর নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্রদলের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ও পৌর ছাত্রদলের পদত্যাগী সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রুবেল। 

এ ঘটনার ৪ দিন পর ১১ই নভেম্বর নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির পদত্যাগী সহ-সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিনসহ ২২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন মঞ্জু।

গত ১৪ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে দলের বর্তমান মেয়র মাঈন উদ্দিনকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিনকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি, যুব দল ও ছাত্রদলের ২৭ নেতাকর্মী পদত্যাগ করে। এবং তারা সাবেক মেয়র মো. মাঈন উদ্দিনকে মনোনয়ন বঞ্চিত করার জন্যে মঞ্জুকে দায়ী করেন। ফলে বিএনপি’র নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে বিএনপি’র এই নেতার বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বিক্রির ১ লাখ টাকার হিসেব দিতে না পারা ও কমিটি গঠনে বাণিজ্যের অভিযোগ তোলে পদত্যাগী নেতাকর্মীরা। এছাড়াও মঞ্জু’র বিরুদ্ধে প্রবাসীদের নিয়ে গঠিত অনলাইন যুব দলের সদস্যদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করেন তারা।

তবে বিএনপি নেতা আনিছুর রহমান মঞ্জু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটা কোনও আলোচনার বিষয়ই নয়। দলের পদত্যাগকারীরা আমার ওপর হামলা করেছে। এর প্রতিবাদে আমার গ্রামে সভা হয়। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে এমপি’র কাছে গিয়েছেন। এটা দলের কোনও ব্যাপার নয়। মনোনয়ন ও কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলেও জানান তিনি।

তবে মঞ্জুর এমপি’র দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়ে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন বলেছেন, বর্তমানে প্রেক্ষাপটে তার যাওয়াটা ঠিক হয়নি। তিনি মঞ্জুকে ইমোশনাল মানুষ উল্লেখ করে আরও বলেন, তার মাথায় যেটা ঢুকে সেটাই করে।

জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, জেলা বিএনপি থাকতে কেন সে আওয়ামী লীগ এমপি’র কাছে গেল। সেটি তার কাছে আমরা জিজ্ঞেস করেছি। আমরা দেখবো ব্যাপারটা।

এজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • রাজনীতি এর সর্বশেষ
  • রাজনীতি এর পাঠক প্রিয়