• ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬

পাটকল শ্রমিকদের দাবি আদায়ে বিএনপির কর্মসূচি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৯ মে ২০১৯, ১৫:১১ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ১৫:৫৫
ফাইল ছবি
কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া-বেতনসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

whirpool
রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ২১ মে (মঙ্গলবার) বিএনপির উদ্যোগে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৩ মে (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন।

এসময় কৃষক রক্ষা না করলে অভিশাপ নেমে আসবে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে।

তিনি জানান, ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী, জয়পুরহাট, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষক পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছেন, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছেন।

বিএনপির এই মুখপাত্রের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ থেকে ৩০০ টাকা কমে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার টাকা।

তিনি বলেন, পুঁজিপতিরা তো বিশাল ঋণ মওকুফ পাচ্ছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে খাচ্ছেন। মেগা প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে হরিলুট চলছে। অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা অসহায় কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না। বরং ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

রিজভী বলেন, সরকার প্রতি মণ ধান কেনার জন্য এক হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকি টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, মিলমালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে।

তিনি বলেন, একদিকে চাল রপ্তানি, অন্যদিকে দেদারসে আমদানি করার এ ভানুমতির খেল বন্ধ করতে হবে। মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান না কিনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে।

বিএনপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। দেশের ২৬টি পাটকলে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহার ও অনাহারে জীবনযাপন করছেন। ২০১৫ সাল থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকরা মজুরি থেকে বঞ্চিত, শোষিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন।

এসজে/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়