• ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

কেন নিষিদ্ধ হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষকদের রাজনীতি?

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন
|  ১১ মে ২০১৯, ১৮:২৮ | আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ১৯:০০
ফাইল ছবি
কোনো ধরনের রাজনীতিতেই অংশ নিতে পারবেন না মাদরাসা শিক্ষকরা। ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-২০১৮’আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। চূড়ান্ত খসড়াটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য আইনি এই বাধ্যবাধকতা ছিল না। এই প্রথম বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতি করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আনা হচ্ছে। এছাড়া নতুন আইনে সরকার স্বীকৃত ইসলামি শাস্ত্র শিক্ষা ও চর্চার জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও রাজনীতি করতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, মাদরাসা শিক্ষার পরিচালন, তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি সাধনে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-২০১৮’আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। ১৯৭৮ সালের মাদরাসা শিক্ষা অর্ডিনেন্সকে আইনে রূপান্তর ও যুগোপযোগী করতে এই উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আইনের খসড়া যাচাই-বাছাই কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উত্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়- মাদরাসার কোনো শিক্ষক রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে, যোগ দিতে ও সহায়তা করতে পারবেন না। সরকারের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার গণঅসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারবেন না। জনগণের বিভিন্ন অংশের মধ্যে শত্রুতা বা বিভেদ সৃষ্টি হয় কিংবা জনশান্তি নষ্ট হয়; বিঘ্নিত হয়— এমন কোনও কাজে জড়িত হতে পারবেন না। কোনও শিক্ষক ও কর্মচারী স্থানীয় সরকার পদ্ধতির কোনও নির্বাচনী প্রচারণায়ও অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি কিংবা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কেউ এই শর্ত ভঙ্গ করলে চাকরিচ্যুতসহ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদরাসা) রওনক মাহমুদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ১৯৭৮ সালের মাদরাসা শিক্ষা অর্ডিনেন্সকে আইনে রূপান্তরের পাশাপাশি তা যুগোপযোগী করা হচ্ছে। চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসায় সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সুযোগ রয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষক সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতেই প্রস্তাবিত আইনে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এসজে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়