DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ২২ আ. লীগ নেতার নাম জানালো বিএনপি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:২৮ | আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৯
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন ২২ জনের নাম চিহ্নিত করেছে বিএনপি। এমনটা জানিয়েছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

আজ নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের দাবি ও তাদের অতীত সম্পর্কে তুলে ধরেন তিনি। 

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময় বক্তৃতায় বলেছেন- আওয়ামী লীগে রাজাকার থাকলে দেখিয়ে দেন, আমরা তাদের বিচার করবো। আওয়ামী লীগের ২৩ জন যুদ্ধাপরাধী বা তাদের পরিবার কোন না কোনভাবে ৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এসব নেতা ঘৃণিত ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতেতে সক্রিয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বনে গিয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা। 

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত যুদ্বাপরাধী ও যুদ্বাপরাধী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকায় প্রথম যার নেতৃত্বেই শান্তি কমিটি গঠন করা হয় সেই নেজামে ইসলামি পাটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলামের ভাই ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মিতে কর্মরত সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্ণেল (অব) ফারুক খান, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি ময়মনসিংহের  অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সেকেন্ড ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের শ্বশুর মুসা বিন শমসের, জামালপুর–-৩ আসনের সংসদ সদস্য যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা মির্জা গোলাম কাশেম, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচএন আশিকুর রহমান, চাঁদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম, কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের ভাই আজিজুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা ও গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাঁড়িয়ার বাবা মালেক দাঁড়িয়া, গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আমির হোসেনের বাবা মোহন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাঁড়িয়ার বাবা মুন্সি রজ্জব আলী দাঁড়িয়া, কোটালিপাড়া উপজেলার সাবেক পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এইচএম অহিদুল ইসলামের ভগ্নিপতি রেজাউল হাওলাদার ও অহিদুল ইসলামের বাবা বাহাদুর হাজরা, গোপালগঞ্জ জজ কোর্টের এপিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার এবং তার বাবা হাসেম সরদার ও জামালপুর বকশিগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি অবুল কালাম আজাদের বাবা আবদুল কাইয়ুম মুন্সী প্রমুখ। অভিযুক্তদের ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলা ও নানা বইপুস্তকের রেফারেন্স দেন রিজভী। 

রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কুৎসা, ঘৃন্য অপপ্রচারের ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে। আইএসআই নাকি বিএনপি’র মনোনয়নে ভূমিকা রেখেছে। এটি ডাহা মিথ্যাই নয়, নোংরা অপপ্রচার। 

আরও পড়ুন :

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়