• ঢাকা শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
logo

ভোটের হাওয়া: পঞ্চগড়-১ ও ২

আওয়ামী লীগে প্রার্থী একাধিক, বিএনপিতে কোন্দল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

  ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর তৎপরতায় সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। বিএনপিতে নিজেদের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলা কমিটি না থাকায় দলীয় কর্মসূচিগুলো আলাদাভাবে পালন করছে দুটি পক্ষ।

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা গঠিত পঞ্চগড়-১ আসন। এর ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৮ হাজার ৮১৬ জন। স্বাধীনতার পর বেশিরভাগ সময়ই এই আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন মজাহারুল হক প্রধান। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু সুযোগ নিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। কারণ ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয় জাসদের নাজমুল হক প্রধান। যিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর জাতীয় পার্টি থেকে এবারও প্রার্থী হবেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়ার লক্ষেই মূলত প্রথমে ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়। আমরা সেই ১৪ দলে এখনো আছি। আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বাংলাদেশ জাসদের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটি এখন নির্বাচন কমিশনে যাচাই বাছাই চলছে। আগামী নির্বাচনও জোটবদ্ধভাবেই হবে আশা করি।
তিনি জানান, মহাজোটের শরিক হিসেবে এবং বর্তমান সাংসদ হিসেবে বাংলাদেশ জাসদের হয়ে এই আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনিত করবেন বলে আশা করি।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সালেক বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হয়েও আমি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার প্রতিহিংসামূলক আচরণে কারণে জাসদের মশাল প্রতীকের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হই। জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে আমি মনোনয়ন পাবো আশা করি। আর মহাজোটে নির্বাচন করলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মহোদয়ের পছন্দের যে আসনগুলি রয়েছে তার মধ্যে আমি অন্যতম। এবার জোট অথবা দলীয় মনোনয়ন পেলে এই আসনে আমি নির্বাচিত হবো।

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা নাইমুজ্জামান মুক্তাও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর পঞ্চগড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যানের পর জনগণের ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পঞ্চগড়-১ আসনে আমি নবীন ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবো বলে আশা করি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে সাধারণ মানুষের সমর্থনে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবো।

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নাইমুজ্জামান মুক্তা বলেন, তরুণ প্রজন্ম এবং স্থানীয় গণমানুষের ভালোবাসাই আমার ভরসা। আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইবো। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা বাস্তবায়নে সারাদেশে যেমন কাজ করেছি, নিজের জেলাতেও এ নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এছাড়া কে মনোনয়ন পেল না পেল সেটা বড় কথা নয় বড় কথা হলো আওয়ামী লীগের তথা নৌকার বিজয়। আমরা পঞ্চগড়-১ আসন থেকেই নৌকার বিজয় আনতে চাই।

পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আমি পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মনোনয়ন চাইব। দলীয় কোন্দলের ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার এবং তার ছেলের মধ্যে কোন্দলের কারণেই দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর থেকে পঞ্চগড়ে জেলা কমিটি নেই। আমি পঞ্চগড় পৌরসভার চার থেকে পাঁচ বারের মেয়র। দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে জড়িত সেক্ষেত্রে আমি কি জেলা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ চাইতে পারি না কি ? বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে এই আসনে আমি বিএনপির মনোনয়নের দাবীদার।

এদিকে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অনুসারী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ও ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের মধ্যেই যেকোনো একজন নিশ্চিত ভাবে মনোনয়ন পাবেন। তবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করুক এটাই পঞ্চগড়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা চায়। কোনও কারণে তিনি যদি নির্বাচন না করেন তাহলে তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির মনোনয়ন নিয়ে আসবেন। ইতোমধ্যে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করছেন। কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলে স্থানীয়ভাবে সব কোন্দল মিটে যাবে।

অপরদিকে নির্বাচনী আমেজ বইছে বোদা-দেবীগঞ্জ নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-২ আসনেও। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সুজন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার শাহজাহান মণ্ডল ও দেবীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী।

বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দুই বারের সাংসদ হিসেবে অবশ্যই আশাবাদী যে আমি মনোনয়ন পাবো। যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে এবং দলে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকায় অনেকেই মনোনয়ন চাইতেই পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং সর্বোপরি দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই চূড়ান্ত হবে।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ ও দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমানের নাম। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এই আসনটি মূলত বিএনপির ছিল। ২০০৮ সালে এটি আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয় তাহলে আমি মনে করি আমাদের সমস্ত বিভেদ ভুলে সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আমি এই আসনটি বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবো।
তিনি বলেন, বিএনপি বৃহত্তর দল এখানে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারেন। তবে আমি মনে করি নির্বাচন আসলে আমাদের সকল বিভেদ দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন :

এসএস

মন্তব্য করুন

daraz
  • রাজনীতি এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল কলেজছাত্রীর মরদেহ
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক দুটি কমিটি গঠন
ঈদের আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল
নোয়াখালীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতার মৃত্যু