• ঢাকা রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
logo

ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলন নিয়ে বিএনপিতে দ্বন্দ্ব!

আরটিভি নিউজ

  ২৮ মার্চ ২০২৪, ২০:০২

বিএনপি নেতাকর্মীদের ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণার পরও দলীয়ভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না বিএনপি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, বিএনপি এখনও দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি। পরে যথাসময়ে এ বিষয়ে দলের অবস্থান বা প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আর

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মধ্যে নেতৃত্বের যে সংকট চলছে ভারতবিরোধী ইস্যুতে তা প্রকট হয়েছে। একইসঙ্গে দলটিতে যে মতের পার্থক্য রয়েছে তা-ও স্পষ্ট হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের কিছুদিন পরই আওয়ামী লীগবিরোধী কয়েকটি দলের তৎপরতায় শুরু হয় ‘ইন্ডিয়া আউট’ বা ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ও সামাজিকমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। গত ২০শে মার্চ বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিজের ভারতীয় চাদর ছুড়ে ফেলে এই আন্দোলনে সংহতি জানান।

গত সোমবার (২৫ মার্চ) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে এই ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনের’ বিষয়টি নিয়ে ও আলোচনা হয়। এতে রুহুল কবির রিজভীর ওই কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। ভারতীয় পণ্য বর্জনে রিজভীর সংহতি জানিয়ে দেওয়া বক্তব্য ব্যক্তিগত বলে স্থায়ী কমিটিতে জানানো হয়েছে। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, এই আন্দোলন বা কর্মসূচি বিএনপি আহ্বান করেনি। অন্যান্য বিভিন্ন জায়গা থেকে এই আহ্বান করা হয়েছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মানুষ যখন মার্কেটে যায় তারা একটা কোয়ালিটি কাপড় দেখে। সেটা মেইড ইন বাংলাদেশ, মেইড ইন ইনডিয়া নাকি চায়না এটা দেখে না। ইনডিয়ান কাপড় কেনে এমন ও না। এটার কথা স্পেসিফিক করা যাবে না। এটা একটা রাজনৈতিক আবেগ। তবে দলীয়ভাবে এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এ বিষয়ে মঙ্গলবার থেকে দলটির আরো কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সাড়া দেননি তারা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি নেতারা কেন স্ত্রীদের ভারতীয় শাড়ি পোড়াচ্ছেন না এমন প্রশ্ন তোলেন।

ভারতবিরোধী ইস্যুতে বিএনপি এখনও দলীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বরং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য নিয়ে দলের মধ্যেই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাতে এই বিষয়টিকে নেতৃত্বের সংকট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিএনপির মধ্যে নেতৃত্বের সংকট চলছে। ফলে এটি যুগ্ম মহাসচিবের ব্যক্তিগত বক্তব্য নাকি কতখানি বিএনপির সিদ্ধান্ত তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে।

রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘এই কর্মসূচি নিয়ে দেখা যাচ্ছে বিএনপির দলের মধ্যেই দ্বন্দ্ব আছে। রিজভীর চাদর পোড়ানোর মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। আরেক দল বলছে ভারতকে আমরা অসন্তুষ্ট করব না। কারণ, তাহলে ক্ষমতায় আসা যাবে না। আবার আরেকদল ভাবছে তাদের অফিসিয়াল স্ট্যান্ড গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্বের জন্য ফাইট করবো। সুতরাং দলের মধ্যেই এরকম একটা দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে যে লিডারশিপের ক্রাইসিস চলছে। কে মহাসচিব হবে সেটা একটা বিষয়। আরেকটা বিষয় নির্বাচনে যেহেতু পশ্চিমা দেশের সাপোর্ট তা সেভাবে ফলপ্রসূ হয়নি। তাই অ্যান্টি ভারত সেন্টিমেন্ট সামনে নিয়ে এসে সেটাকে কাজে লাগিয়ে তারা সাফল্য পেতে চায়।’

ভারতবিরোধী এই কর্মসূচির কোনো প্রভাব নেই বরং বিএনপি এতে যুক্ত হলে আওয়ামী লীগকে সাহায্য করবে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তিনি বলেন, ‘এটার কোন ইমপ্যাক্ট নেই। স্যাংশন বা বয়কট কোন কাজে দেয় না। বরং তারাই উপকৃত হয়। এটা যেমন আওয়ামী লীগকেই হেল্প করবে।’

বিএনপির ভারতবিরোধী অবস্থান রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কোনো কোনো সময় প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও আবার সতর্ক অবস্থানে চলে যায় দলটি। বিএনপি বরাবরই আওয়ামী লীগকে ভারতের সমর্থনপুষ্ট হিসেবে প্রচার করলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কন্নোয়নের বেশ চেষ্টা করেছিল।

এরপর, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপিকে ভারত ইস্যুতে সরব হতে দেখা যায়। পরের বছরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে বিএনপি ভারতের সমালোচনা করে।

এর আগে ২০১২ সালের অক্টোবরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি সফর করেছিলেন। এরপর থেকে জেলে যাওয়া পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী ভারতের বিরোধীতা বা সমালোচনা করে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।

বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর নিয়ে বিএনপির রক্ষণশীল অবস্থান থাকলেও সে সময় এই বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার ব্যাপারে চুক্তির পর দলটি সতর্কভাবে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে তাদের বক্তব্য দেয়।

২০১৩ সালে ভারতের তখনকার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর ঢাকা সফরের সময় বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে দলটির সাথে ভারতের সম্পর্কের আরো অবনতি হয়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় তার সাথে হোটেলে গিয়ে দেখা করেন খালেদা জিয়া।

সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে যে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিলো সেটিও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে দিল্লির দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

মন্তব্য করুন

daraz
  • রাজনীতি এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দুর্নীতি আছে, তবে বিএনপির মুখে এ অভিযোগ মানায় না : হানিফ
বিএনপি এদেশের সাম্প্রদায়িকতার বিশ্বস্ত ঠিকানা : কাদের
সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও ভয়ংকর বিএনপি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ফখরুলের
X
Fresh