Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দুই আ’লীগ নেতার অডিও ফাঁস (ভিডিও)

দুই আ’লীগ নেতার অডিও ফাঁস
ছবি সংগৃহীত

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের দুইজন নেতার মুঠোফোনের কথোপকথোন ফাঁস হয়েছে। ওই দুইজন নেতা হলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন ও সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব।

৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়। তবে অডিও ফাঁসের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিপ্লব। তিনি বলেন, কল রেকর্ডের সমস্ত কথাবার্তা আমার এবং আমার দলের সভাপতির। কে ফাঁস করেছে, তা জানি না। তবে দলের বিষয়ে সভাপতির কাছে কিছু কথাবার্তা বললাম। এই কথা এমন কিছু না।

তবে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর।

ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

এ কে এম জাহাঙ্গীর : বিপ্লব কেমন আ‌ছ?

বিপ্লব : আসসালামু আলাইকুম, জাহাঙ্গীর ভাই। কেমন আছেন?

জাহাঙ্গীর : ওয়ালাইকুম আসসালাম। জাহাঙ্গীর ভাইর খোঁজ লও?

বিপ্লব : জাহাঙ্গীর ভাইগো তো আমরা ভা‌লোবা‌সি। আমরা তো মুর‌ব্বি‌গো ল‌গে বেয়াদ‌পি করা শি‌খিনাই। আমার বাপ-চাচারা শিখায় নাই। মুর‌ব্বি‌গো ল‌গে আমরা বেয়াদ‌পি ক‌রি না।

জাহাঙ্গীর : জাহাঙ্গীরও ছাত্রলীগ কর‌ছে, বিপ্লবও কর‌ছে।

বিপ্লব : আমরা ৯০ সা‌লে বিএম ক‌লে‌জে বোমা মারা প্লেয়ার। আমরা তো মুর‌ব্বি‌গো সম্মান দেওয়া শিখ‌ছি। আপ‌নে‌রা আমা‌গো মুর‌ব্বি, আপ‌নে‌গো সালাম দিমু না, তয় কা‌গো দিমু? আপ‌নে‌গো আমরা ভুলমু কেয়া?

জাহাঙ্গীর : জবাব নাই আমার।

বিপ্লব : যারা ব‌রিশাল ক্লাব দিয়া বাইরাইয়া কইছে, হাসনাত মেয়ার (মিয়া) দুই গা‌লে জুতা মা‌রো তা‌লে তা‌লে; যারা সা‌র্কিট হাউসে বইয়া কইছে হাসনাতমুক্ত ব‌রিশাল চাই‌, হ্যাগো লইয়া সা‌দিক ব‌রিশা‌ল শহ‌রে আওয়ামী লী‌গের রাজনী‌তি ক‌রে। এহন আমা‌গো মতো লোক সা‌দিকের লাগ‌বে কি‌সে, কন আপ‌নে?

জাহাঙ্গীর : এর কো‌নো উত্তর নাই আমার।

বিপ্লব : আমরা ’৮৭ সাল হইতে এই সংগঠন কর‌ছি, ও সময় সা‌দিক ছি‌ল কই?

জাহাঙ্গীর : আমি তো চি‌নি, কারা কী কর‌ছে।

বিপ্লব : হাজার হাজার টন চাউল দে‌ছে। কো‌টি কো‌টি টাকা দে‌ছে। আমা‌গো এক ছটাক চাউল দেয় নাই। সা‌দিক কাউন্সিল‌র‌গো বিরু‌দ্ধে ক্যান্ডিডেট দেয়। ও দিউক, ওর ক্যান্ডি‌ডে‌টের ল‌গে বুইজ্জা না খাইতে পার‌লে ব‌রিশা‌লে থাকমু না। ও যা ক‌রে করুক, হ্যাতে আপ‌নে‌গো ল‌গে সম্প‌র্কের অবন‌তি হইবে না।

জাহাঙ্গীর : যে যা ক‌রে, তার প্রায়‌শ্চিত্ত ভোগ করতে হইবে।

বিপ্লব : আপনারা সব সময় শ্রদ্ধার জায়গায় থাকবেন। ওর লগে আপস নাই কোনো। আমরা মইরা যামু। জামায়াত-বিএনপি আইয়া এমনেই আমাগো মাইরাই হালাইবে। আমি ব্রিগেডিয়ার জিয়ার ছোট ভাই। তারেক জিয়া ক্ষমতায় আইয়া ব্রিগেডিয়ার জিয়া আর বেনজীররে এমনেই ছাড়বে না।

জাহাঙ্গীর : কেডা মারবে? কী কও?

বিপ্লব : সাদিক যে অবস্থায় নিয়া আমাগো রাখছে, তার থেকে মইরা যাওয়াই ভালো। ও গুড়াগারার সামনে বইয়া কয়, কাউন্সিলর কাউন্সিলরের মতো থাক। আরে বেডা, আমি জিলা স্কুলে পড়ালেহা করছি। এই শহরে আমার জন্ম। এই শহরের প্রতিটা গলি আমি চিনি। আমরা সদর রোড যাইয়া বিএনপির আমলে মারামারি করছি। আমার মায় বাসার সামনে আইয়া বইয়া রইছে, আমার পোলাডায় এহনও আয় না কেয়া। বাসার সামনে আইয়া দেহি পুলিশ আর বিএনপি, কোন সময় আমি বাসায় ঢুকমু আর আমারে ধইরা লইয়া যাইবে। আমার বড় ভাই জিয়াউল হক স্যার, বাসায় ঢোকার সময় হ্যারে থাবর (থাপ্পড়) মারছে সেন্টু ওরা আইয়া। আমার বাড়িঘর ভাইঙ্গা দেছে। আমি নান্নুর রুম জ্বালাইয়া দিছি। মেবুলরে ধইরা দিছি অস্ত্রসহ। রাজীব, গ্যাস্ট্রিক বাবু, জিয়া ওই অমুক-সমুক আছিল, কই ওই সময়? হোস্টেল মেসের পোলাপান লইয়া আমরা বরিশাল শহরে কোনো সময় চলছি? আমরা সব সময় লোকাল লোক লইয়া চলছি।

জাহাঙ্গীর : ওরাই তো নষ্ট করল। তুমি যে অভিযোগটা করলা, এইটা আমি দিমু কার কাছে? তোমার সাথে যা করে, তা কি আমার সাথে করে না? আমার শেয়ার করার জায়গা নাই।

বিপ্লব : এহানে আপনের মূল্যায়নডা কী। সাদিক তো চইলা যাইবে ইন্ডিয়া-আমেরিক পলাইয়া। আমরা বোরকা পইরা হইলেও এই দেশেই থাকমু, সুন্দরবন চইলা যামু। তারপরও এই দেশ ছাড়মু না।

জাহাঙ্গীর : ২৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। ৪টায় প্রোগ্রামে থাকবা।

বিপ্লব : প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন আমরা আমাগো মতো পালন করমু। আমরাও আয়োজন করতে আছি। সাদিক আমাগো যেমন মূল্যায়ন করছে, আমরা আমাগো মতো করমু। এডা আমার ব্যাপার। আমি দল করছি না, আমি মহানগর যুবলীগের সদস্য না! সাদিক আব্দুল্লাহরে কইয়েন, আমাগো বরিশাল শহর দিয়া সরাইয়া দেতে। আমার আমি বুইঝা খামু। বহু সহ্য করছি ওর অপমান-অপদস্ত। লেবারের সামনে বইয়া অপদস্ত করত।

জাহাঙ্গীর : অপমান-অপদস্ত তোমরা হইছ, আমি কি হই নাই?

বিপ্লব : আপনে হাসনাত ভাইরে শুনাইয়েন রেকর্ডিংডা।

জাহাঙ্গীর : আমি রেকর্ডিং করি না।

বিপ্লব : হাসনাত ভাইর এহন ‘ই’ (ইঙ্গিত) জাগছে। সাড়ে তিন বছর বরিশাল শহরডারে লুইটা-পুইটা খাইছে ও। পোলাপানরে চাইর আনা পয়সা দেতে পারি নাই। এলাকার একটা স্লাব নিজের টাহায় কইরা দেই। ঈদ কোরবানি করি নিজের পকেটের টাহা দিয়া, বাপের জমি বেচা টাকা দিয়া জনগণরে দেই। সাদিক এহন ঢাকা যাইয়া নাপিতের ধারে মাফ চায়। ও মাফ চাইবে সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাগো ধারে, আপনেগো ধারে পাও ধইরা মাফ চাইবে।

জাহাঙ্গীর : হা হা হা হা।

বিপ্লব : সাদিক কি আমারে মাইরা হালাইবে? হালাউক। জামাত-বিএনপি আইলে এমনেই ফাঁসিতে ঝুলাইবে, নাইলে ক্রসফায়ার দিয়া মাইরা হালাইবে।

জাহাঙ্গীর : আরে বেডা কেডা কারে ফাঁসি দেবে? কী হইছে দেশে। ধৈর্যশীলকে আল্লাহ পছন্দ করে।

বিপ্লব : ধৈর্য তো ধরছি সাড়ে তিন বছর। আর কী ধৈর্য ধরবে, সবকিছু খাইয়া শালায় ফোটবে। ধৈর্য ধরমু আর গ্যাস্ট্রিক বাবু আর রাজীবের মতো লোক সিটি করপোরেশনের গাড়িতে চড়বে। হাসনাতমুক্ত বরিশাল যারা চাইছে হেরা রাজীবের মতো লোকজন সিটি করপোরেশনের গাড়িতে চড়বে হেয়া হইবে না। বরিশাল শহরে চাঁদাবাজি করবে আর আমরা বইয়া বইয়া ধৈর্য ধরমু।

জাহাঙ্গীর : আমি তো রিকশায় চলি, দেহো না?

বিপ্লব : আপনের বিষয় আলাদা। আপনের কথা আমি কই না। আমি প্রথমে কইছি আপনারা সিনিয়র সব সময় সম্মান পাইবেন, আজীবন পাইবেন। কিন্তু বেয়াদপের লগে আমাগো ডাইকেন না।

জাহাঙ্গীর : মাথা ঠান্ডা করো। তুমি তো বেয়াদপি কোনো সময় করো নাই। তুমি মিটিংয়ে আইও।

বিপ্লব : নাহ, আমরা নেত্রীর জন্মদিন আমাগো মতো পালন করমু। আমি ছোটকাল হইতে পালন করি।

জাহাঙ্গীর : তোমার লগে পরে কথা বলমুহানে।

বিপ্লব : সাদিকের আমাগো লাগে না। আমাগো লাগে কিসে?

জাহাঙ্গীর : সবাইরেই লাগে।

বিপ্লব : নাহ নাহ, লাগে কিসে, সাদিক আব্দুল্লাহর কাউরে লাগে নাকি? আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর চাইতেও সাদিক আব্দুল্লাহ বড় নেতা।

জাহাঙ্গীর : আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক আমি তোমারে ফোন দিছি।

বিপ্লব : ভাই, ওয়া আমারে বুঝাইয়েন না। আমি চকলেট খাই না।

জাহাঙ্গীর : তুমি হাসানাত ভাইরে ফোন দেও। কষ্টের কথা বলো ভাই।

বিপ্লব : ওনারে ফোন দিমু কেন, উনি মুরব্বি মানুষ। উনি ফোন দিয়া খোঁজ লইতে পারে না? ওনার পোলায় এইয়া করে, হে এয়া দেহে না?

জাহাঙ্গীর : ফোন দেও। ফোন দেলে খুশি হয়।

বিপ্লব : নাহ নাহ, আমি কাউরে ফোন দিতে পারমু না।

জাহাঙ্গীর : ফোন দেও ভাইরে। হাসনাত ভাইরে ফোন দেও।

বিপ্লব : সাদিকের কত বড় সাহস, ও আমার বাসার সামনে আইয়া আমার পরিবার লইয়া কথা কয়। রাগ না ভাই, অপমান-অপদস্ত হইতে হইতে শেষ।

জাহাঙ্গীর : যদি কেউ কাউরে অপমান-অপদস্ত করে, তাইলে আল্লাহ তার বিচার করে। ওর চাইতে তোমার অভিজ্ঞতা বেশি।

বিপ্লব : ও মেয়র, ওর চেয়ারডা সেগুন কাঠের, আর আমি কাউন্সিলর, আমার চেয়ারডাও সেগুন কাঠের। ওরডা রিভলভিং চেয়ার আর আমারডাও রিভলভিং চেয়ার। ও জনগণের প্রতিনিধি, আমরাও জনগণের প্রতিনিধি। ও এভাবে আমাদের মূল্যায়ন করে নাই সাড়ে তিন বছরে।

জাহাঙ্গীর : নাহ, এটা সত্য। একমত একমত।

বিপ্লব : আমি হাসনাত ভাইর প্রোগ্রামে যামু, কিন্তু সাদিকের যেহানে গুণকীর্তন করবে, দালালি করবে, সেইখানে আমি নাই। আমরা আওয়ামী লীগ করি না তো কারা করে? আমাগো চাইতে বড় আওয়ামী লীগটা কেডা? যারা হিরণ ভাইর লগে বরিশাল ক্লাবে মিটিং কইরা হাসনাতমুক্ত বরিশাল চাইছে, হাসনাত ভাইর গালে জুতা মারো তালে তালে কইছে, হেরা বরিশাল আওয়ামী লীগের এহন বড় নেতা।

জাহাঙ্গীর : দোয়া করো ও যেন আরো বড় হয়। আচ্ছা ভালো থাকো ভাই, পরে কথা বলব নে।

বিপ্লব : ওকে। আসসালামু আলাইকুম।

জাহাঙ্গীর : ওয়ালাইকুম আসসালাম।

জেএইচ/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS