logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভাস্কর্যকে মূর্তি বলায় সম্মিলিত ইসলামী জোটের হুঁশিয়ারি

Image of the press conference at the National Press Club
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের চিত্র
যারা ভাস্কর্য ও মূর্তি শব্দের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট। মূর্তি ও ভাস্কর্য শব্দের অর্থকে ভুল ব্যাখ্যা করে মাঠ গরম না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রোববার (২২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান এ কথা বলেন।

ভাস্কর্য বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, দেশের মানুষ আপনাদেরকে ৭১ সালেও চিনতে ভুল করেনি, এখনও করবে না। প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। বিশ্বের অনেক ইসলামি দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে। হেফাজাতিরা যদি ভাস্কর্য বিরোধী হয়, হাটহাজারীর কাছে খাগড়াছড়ি শহরের দ্বারপ্রান্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বৃহদাকার ভাস্কর্য রয়েছে। এই ভাস্কর্য ভেঙে প্রমাণ করতে পারেন এ বিষয়ে তারা কতটা সিরিয়াস।’

‘মহান আল্লাহ- পবিত্র কুরআন- মহানবীকে (সা.) কটূক্তির প্রতিবাদের সীমারেখা এবং আমাদের করণীয় ও ভাস্কর্যকে মূর্তি পূজার সঙ্গে তুলনা করার পোস্টমর্টেম’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে কুরআন ও হাদিসের আলোকেও তিনি বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, বুখারী শরিফের হাদিস অনুযায়ী মূর্তি মানেই শিরকের উপকরণ নয়। হযরত আয়শা (রা.)- এর ঘরে খেলনার ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল। কই রাসূল (সা.) তো নিষেধ করেননি। এই ছোট পুতুল বা মূর্তি পূজার জন্য ছিল না বরং খেলার জন্য ছিল। তাই রাসূল (সা.) নিষেধ করেননি। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্য চর্চা ও রুচিশীলতার পরিচয় বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার স্মৃতিফলক হিসাবে স্থাপিত হয় তা ইসলামী শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়।

তিনি বলেন, ভাস্কর্য এবং প্রতিমা পূজা মূর্তি এক জিনিস নয়। মূর্তি ও ভাস্কর্য শব্দের অর্থকে ভুল ব্যাখ্যা করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এ দেশের মানুষ আপনাদেরকে ৭১ সালেও চিনতে ভুল করে নাই, এখনো করবে না। ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের নামে স্থাপিত স্মৃতি ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বাংলাদেশের কোনো মুসলমান একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২৬ শে মার্চ যখন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তখন তারা কেউ সেখানে বোখারী এবং মুসলিম হাদিস ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত এর শিক্ষা অনুযায়ী ইবাদতের নিয়তে, প্রার্থনা করার নিয়তে আমরা কেউই স্মৃতিসৌধে এবং ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করি না।

ধর্মীয় এই নেতা আরও বলেন, কট্টর ওয়াহাবীপন্থী হুজুররাও এটি জানে, প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। সৌদি আরবে জেদ্দার মূল কেন্দ্রে দি ফিস্ট নামে একটি ভাস্কর্য আছে, এটি একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। আরও আছে ঘোড়ার ও মাছের ভাস্কর্য। একইভাবে মুসলিম অধ্যুষিত দুবাই, ইরান ইন্দোনেশিয়া ও মিশরে রয়েছে ঘোড়া ও অন্যান্য জীবের ভাস্কর্য। প্রমাণিত হল ভাস্কর্য জীব দেহের হোক বা জীব দেহের কোন অংশের হোক তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয় তবে এতে কোন বারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহ-সভাপতি মুফতি জোবাইদ আলী, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আব্দুস সোবহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন ফোরকান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জিএ

RTVPLUS