logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

শুভ জন্মদিন এম এম বাদশাহ

MM badsha
এম এম বাদশাহ
বাংলা টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর এম এম বাদশাহ’র আজ জন্মদিন। ১৯৭৮ সালের পয়লা জানুয়ারি ঢাকার মান্ডায় তার জন্ম।

বাবা সামছুল হক মোল্লা ও মা মমতাজ বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। পুরো নাম মো. বাদশাহ্ মিয়া। শৈশব থেকেই বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন বিভিন্ন জেলায়। দাদাবাড়ি উজিরপুরের শোলক ইউনিয়নের যুগিহাটি গ্রামে।

শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। এম এম বাদশাহ্ বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমী থেকে এসএসসি, মাদারীপুরের খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ থেকে এইচএসসি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তার দ্বিতীয় মাস্টার্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ে।

স্কুলে পড়া অবস্থাই লেখালেখি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার ঝোঁক। বাদশাহ্ ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক আবদার রহমান সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা (বর্তমানে সাপ্তাহিক) ‘শিক্ষা বিচিত্রা’র মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এর পর কাজের ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে দৈনিক মানবজমিনে নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০০৪ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে দীর্ঘমেয়াদী টেলিভিশন সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৫ সালে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এস’র ঢাকা অফিসে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইসলামিক টিভিতে নিজস্ব প্রতিবেদক(ক্রাইম), ২০০৮ সালের ১ আগস্ট বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভিতে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক (ক্রাইম), পাশাপাশি ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেডিও তেহরান ইরানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি, জাপানের প্রবাসী ম্যাগাজিন ‘দশদিক’র বিশেষ প্রতিনিধি ও ২০১৩ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টেলিভিশনে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে অপরাধ বিষয়ক বিটে যোগ দেন। সেখানে তিনি একইসঙ্গে ক্রাইম চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে এসএ টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে এসএ টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন।  

এম এম বাদশাহ্ তার আলোচিত কিছু প্রতিবেদনের জন্য বেশকিছু স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ২০০৮ সালে টঙ্গীর নিরপরাধ ট্যাক্সি ড্রাইভার সুজনের জেল খাটার বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য হিউম্যান রাইটস এ্যাওয়ার্ড-২০০৮, অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য এ্যাডকোয়েস্ট সম্মাননা স্মারক-২০০৮, লেবাননে মহিলা শ্রমিক পাঠানোর নামে নারী পাচার শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য ‘মানবাধিকার শাইনিং এ্যাওয়ার্ড-২০০৯, দৃষ্টিহীন শিশুদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘অন্তরদৃষ্টি কথা বলে’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য সিএসএফ জার্নালিস্ট ফেলোশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১০, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রজ্ঞা এ্যাওয়ার্ড-২০১১, তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য যাত্রী-টিএফকে ফেলোশিপ-২০১২, ২০১৫ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে সরকারের গড়িমসির পেছনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রজ্ঞা টোব্যাকো কন্ট্রোল জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড-২০১২ পেয়েছেন। একই বছর প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন রিপোর্টের জন্য সিএসএফ-ফ্রেড হলোজ জার্নালিস্ট ফেলোশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১২ পান। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মাদক পাচারসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্ট (আইসিএফজে–ইউএসএ) ফেলোশিপ-২০১৩ নির্বাচিত হন তিনি। নেপালের কাঠমান্ডুতে অংশ নেন দক্ষিণ এশীয় ইয়ুথ জার্নালিস্ট কনফারেন্সে। ২০১৪, ২০১৫ সালে পেয়েছেন ‘লেপরোসি মিশন জার্নালিজম ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড’। ২০১৭ সালে তিনি বন্ধু মিডিয়া ফেলোশীপ ও ২০১৯ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন মিডিয়া ফেলোশীপ অ্যাওয়ার্ড। 

২০১৮ সালে তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে তুরস্ক’র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটিতে নিউ মিডিয়া ও ডিজিটাল জার্নালিজম কোর্সে অংশ নেন। ২০১৯ সালে জার্মান সংস্থা কনরাডের আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়া মোবাইল জার্নালিজম মোজো এশিয়া ২০১৯ এ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রায় ৩৩ দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে স্পীকার হিসেবে অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও মোবাইল জার্নালিজম ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন তিনি।এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসেএফজের ফেলো।  

পেশাগত কারণে সফর করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ভুটান, ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল। সেসব দেশের নানা তথ্য তুলে এনেছেন তার প্রতিবেদনে। এম এম বাদশাহ্ ২০০৩ সালের ৩ জুলাই নাজনীন খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির যমজ সন্তান নাবিদ রহমান তুর্য্য ও নওশিন তাবাসসুম তৃণা। স্ত্রীর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতার নিত্যনতুন অনুসন্ধানী পথে এগিয়ে চলছেন। সামাজিক সংগঠন মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাব’র প্রতিষ্ঠাতা। Film Viewrs Society এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। মিডিয়া মিউজিয়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির আদান প্রদান ও চলচ্চিত্র ডকুমেন্টারি তৈরি প্রদর্শনের কাজও করছেন তারা। সংগঠনপ্রিয় বাদশাহ্ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ২০১৭ সেশনে সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সেশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে ক্র্যাবের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচিত পরিচালক হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জার্নালিস্ট ফোরাম ফর মাইগ্রেশন - জেএফএম'র প্রচার সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। 

তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স এ্যাগেইনস্ট করাপশন – র‍্যাকের স্থায়ী সদস্য। তার পছন্দের রং নীল ও প্রিয় ফুল গোলাপ। আর খেতে ভালোবাসেন রুটি পিঠা ও গরুর মাংস। আর অবসর সময়ে এই সাংবাদিক ইয়ুথ ক্লাবকেন্দ্রিক কাজ করতে, গান শুনতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে পল্লী ভাটিয়ালী আর ভাবতত্ত্বের গান তার খুবই পছন্দের। বিশ্বাস করেন, ‘বিশ্বাস রেখো বুকের ভেতর প্রত্যয় অনুভবে, স্বপ্ন জয়ের যুদ্ধে এবার সফল তুমি হবেই।

জিএ

RTV Drama
RTVPLUS