Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:০১
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:১৪

রোহিঙ্গা শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ নিয়ে শঙ্কায় ইউনিসেফ

জাতিসংঘের সবশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। ইউনিসেফের হিসাবে সহিংসতা থেকে বাঁচতে শরণার্থী হয়ে এদেশে এসেছে অন্তত দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু। তবে একাই সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে কয়েক হাজার শিশু। আশ্রয় শিবিরে খাবার মিললেও এদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ কী হবে তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থাটি।

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাবা-মায়ের সঙ্গে সাগর পাড়ি দিয়েছিল শিশু আব্দুল মাসুদ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পথে নৌকাডুবি কেড়ে নিয়েছে এই শিশুটির প্রাণ।

২৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত এলাকায় এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটছে প্রায় নিয়মিত। ইউনিসেফের হিসাবে এরইমধ্যে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে এসেছে দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু। এদের বড় অংশটিই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি।

তাদের দাবি, বাড়তে থাকা শরণার্থীর চাপ ও জল-কাদায় সয়লাব শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে শিশুরা। রয়েছে পাচারসহ শারীরিক নিপীড়ন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের শঙ্কা।

ইউনিসেফ মুখপাত্র ক্রেসটোফে বুলিরাক বলেছেন, ‘শরণার্থী হয়ে আসা অনেক শিশুই একা পাড়ি দিয়েছে লম্বা পথ। তাদের মনে এখনও গেঁথে আছে সহিংসতার স্মৃতি। এসব বিষয় আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু খাবার ও আশ্রয় দিলেই হবে না, এসব শিশুর মনোবিকাশ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ইউনিসেফের গড়া শিশুবান্ধব পরিবেশে এরইমধ্যে থাকছে ১৮ হাজারের বেশি শিশু। আগামীতে আরো বড় পরিসরে এ ধরনের আশ্রয়নের পরিকল্পনা করছে তারা। এতে হারানো শিশুদের স্বজনরা সহজে শনাক্ত করতে পারবেন বলেও জানাচ্ছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক এই সংস্থা।

ইউনিসেফ এর শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবি জানান, খাবারের অভাবে এবং দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসে স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর মায়েরাও সেভাবে তাদের সন্তানের যত্ন নিতে পারছে না। শিশুকে ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়াতে না পারায় তাদের শারীরিক অবস্থা একেবারে হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে।

জ্বরে ভুগলেও কোলে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া রোহিঙ্গা মায়েদের করার কিছুই নেই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকলেও রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে তা একেবারেই কম।

তিনি বলেন, তবে এরইমধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তায় জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্যাম্পগুলোয় বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার বলেও জানান তিনি।

সি/

RTV Drama
RTVPLUS