Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮

কেমন ছিল ঢাকার জমিদারদের ঈদ আনন্দ

কেমন ছিল ঢাকার জমিদারদের ঈদ আনন্দ
কেমন ছিল ঢাকার জমিদারদের ঈদ আনন্দ

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে সভ্যতা পরিবর্তন হয়েছে তার নিজস্ব গতিসীমা নিয়ে। এমন ভাবেই যুগে যুগে এই ঈদ উদযাপনে এসেছে নানান পরিবর্তন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এই উৎসবে যোগ হয়েছে মানুষের মাঝে প্রাণের উল্লাস। আবার দিনের আলো যেমন রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যায়। সেই ভাবে কালের গর্ভে হারিয়েছে নানান আনুষ্ঠানিকতা। ব্যতিক্রম ছিলো না বাংলাদেশের ঢাকা শহরও।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শহর দেখেছে ঈদ উদযাপনের নানান রং। ঢাকা শহরে নানান সময়ের ঈদ উদযাপনের তুলে ধরা হলো আরটিভি নিউজ পাঠকদের জন্য-

ইংরেজ শাসনামলে ঈদ উদযাপন

নবাবী আমলের প্রথম ধাক্কাটা আসে যেদিন ইংরেজরা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের অনুমতি লাভ করে। এর আগে থেকেই মোঘলদের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দিল্লির দরবারে সিংহাসন আরোহণের কূটকচাল, বিদেশি ব্যবসায়ীদের বাড়ন্ত আধিপত্য আস্তে আস্তে মোঘল সাম্রাজ্যের পতনের নিশানা উড়িয়ে দিয়েছিল।

মোঘলদের এমন খারাপ দিনে তাদের নায়েব-নাজিমদের পৃষ্ঠপোষকতায় ভালোই উৎসাহ উদ্দীপনীয় পালিত হত ঈদ। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের অধিকার হারিয়ে নায়েব-নাজিমেরাও হয়ে উঠে আর্থিকভাবে দুর্বল। তারপরে ও ঈদের রেশ খুব একটা কমেনি মানুষের মাঝে। ঢাকার নায়েব-নাজিমেরা শিয়া মতানুসারী ছিল বিধায় তখনো অত্যন্ত জাঁকজমক ভাবে মহরমের মিছিল এবং ঈদের মিছিল বের হত।

বাদশাহি আমলের ঈদ উদযাপন

ঢাকার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এই শহরের ঈদ উদযাপনের ইতিহাস বহু পুরানো। সেই মোঘলদের আমল থেকে এই শহরে ঈদ উৎসব পালিত হচ্ছে। মোঘলদের আগমনের পূর্বে বাংলায় মুসলিমদের আনাগোনা যথেষ্ট কম ছিলো। কিন্তু ১৬১০ সালে সুবেদার ইসলাম খানের আমল থেকে এই বাংলায় মুসলমানদের আগমন বাড়তে থাকে।

সুবেদার ইসলাম খান বাংলায় আসার আগে থেকেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর লোকজন সহ প্রায় ৫০ হাজার মুসলিম নাগরিকের এই বাংলায় আগমন ঘটে। সেই সময় শুধু যে মোঘলরাই এসেছিল তা নয়, তাদের খেদমতের জন্যে বাংলায় এসেছিল আরো প্রায় হাজার-খানেক ব্যবসায়ীসহ নানান শ্রেণী পেশার মানুষ। সেই সময় থেকেই আস্তে আস্তে এই ঢাকা শহর মুখরিত হতে থাকে হাজারো মুসলিম বান্দার পদছায়ায়।

তৎকালীন সময়ে ঢাকা শহরের বিস্তৃতি ছিলো বর্তমান ঢাকা কারাগার থেকে পাটুয়াটুলী বা সদরঘাট পর্যন্ত। পেশাজীবীদের আনাগোনা ছিলো তৎকালীন ঢাকা কেল্লা (বর্তমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন এলাকা) এবং এর আশেপাশের এলাকাজুড়ে।

সেই সময়ের ঈদ উদযাপনের চিত্র ফুটে উঠেছিলো সুবেদার ইসলাম খানের সেনাপতি মীর্জা নাথানের বর্ণনায়। যদিও সেই সময় তিনি ছিলেন বোকাইনগরে কিন্তু তার বর্ণনা থেকে অনুমান করা যায় সেই সময়কার ঢাকার ঈদ উদযাপন কতোটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিলো।

আগের ঢাকার ঈদ উদযাপন

সেই সময়কার অভিজাতশ্রেণীর ঢাকাবাসীর ঈদ উদযাপনে এসেছিল আমূল পরিবর্তন। মোঘল ঐতিহ্যকে ধারণ করা এই অভিজাত শ্রেণির ঈদ উদযাপনে ছিল কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিক। আশির দশকে সেলাই মেশিনের প্রচলন শুরু হলেও তারা হাতে সেলাইয়ের কাপড়কেই বেশি প্রাধান্য দিত। ঈদ উৎসবে তাদের ঘরে পরিবেশিত হত তোরাবন্দি খাবার। সর্বমোট ৪০ রকমের খাবার থাকত এই তোরাবন্দিতে। অর্থনৈতিক কারণে এ তোরাবন্দি খাবার কালক্রমে ‘নিম তোরাবন্দি’ বা ‘অর্ধেক তোরাবন্দি’তে পরিণত হয়ে গত শতাব্দীর বিশ দশকের দিকে এসে বিলুপ্ত হয়ে যায়

ঢাকার নবাব বাড়িতেও ঈদ উদযাপনে তখনো আভিজাতিকচিহ্ন ভালোই বজায় ছিল। সন্ধ্যাবেলায় নাচ গানের আসর বসাতো হিজরার দল। আলোক সজ্জায় আলোকিত হত পুরো আহসান মঞ্জিল। ঈদ মানে আনন্দ আর প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে বেঁচে থাকার নতুন আশা। তাই ঈদকে ঘিরে সকল উৎসবকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখতে হবে। আর পরিবর্তনকে মেনে নিতে হবে আবহমানকাল থেকে হয়ে আসা চিত্ররূপ হিসেবে।

জিএম

RTV Drama
RTVPLUS