• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
logo
কৃষিগুচ্ছের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু যেদিন
গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এ পরীক্ষা। তিন ইউনিটে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ১১ মে। এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাছিম আখতার জানান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হয়েছে। এবার মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৩৪৬টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৯৯টি, মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিটে ৯৪ হাজার ৬৩১টি ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ‘সি’ ইউনিটে ৪০ হাজার ১১৬টি আবেদন জমা পড়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল শনিবার ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান), ৩ মে শুক্রবার ‘বি’ ইউনিট (মানবিক) এবং ১০ মে শুক্রবার 'সি’ ইউনিট (বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টা থেকে ১টা এবং অন্য দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২১ হাজার আসন রয়েছে। এই আসনের বিপরীতে এবার আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩৪৬টি। সেই হিসাবে প্রতি আসনের জন্য লড়বেন ১৫ জন ভর্তিচ্ছু।
ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার ফল যেভাবে জানবেন
বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তির ফল প্রকাশ আগামী ১৮ মার্চ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তির ফল প্রকাশ
প্রশ্নফাঁসের গুজবে পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করার চেষ্টা চলছে : ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। একইসঙ্গে এ ধরনের গুজব ও প্রতারকদের থেকে সবাইকে সাবধান থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।   ঢাবি উপাচার্য  বলেছেন, তিনদিন ধরে অনলাইন মাধ্যমে একটি প্রতারক চক্র ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করার চেষ্টা করছে। বাস্তবে কোনও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। এই চক্রের মূল কাজ হলো আমাদের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক যারা এ সম্পর্কে জানেন না, তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এজন্যই তারা প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়াচ্ছে। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।  সাংবাদিকদের ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, প্রতারক চক্রটি সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে। আপনাদের অনেক সাংবাদিকও তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই চক্রটি প্রশ্নের বিনিময়ে আপনাদের কাছ থেকেও অগ্রিম টাকা চাচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত এই চক্রের হাতে প্রতারিত হওয়ার কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি।  তিনি বলেন, আমরা সংবাদ মাধ্যমগুলোতে সবাইকে এই প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হবে। আমরা সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকছি যেন প্রতারক চক্রটি এবারের ভর্তি পরীক্ষাকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে না পারে। উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ হয়েছে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ তথা ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ হয়েছে পরীক্ষাটি।  উপাচার্য বলেন, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। বেলা ১১টায় ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে পরীক্ষা হয়েছে। গতকাল রাত ও আজ সকালে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভর্তি কমিটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্নফাঁস হয়নি।   ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় এবার দুই হাজার ৯৩৪টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে এক লাখ ২২ হাজার ২৭৯টি। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের জন্য ৪২ জন শিক্ষার্থী লড়াই করেছেন।  পরীক্ষায় সময় ছিল এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এর মধ্যে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ অংশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৫ মিনিট। আর বাকি ৪০ নম্বরের লিখিত অংশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৫ মিনিট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ শুরু আজ
'খ' ইউনিটের (কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা।   শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে একযোগে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হবে ৯ মার্চ। এর মধ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, ১ মার্চ (শুক্রবার) বিজ্ঞান ইউনিট এবং ৯ মার্চ (শনিবার) চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) অনুষ্ঠিত হবে। সব ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।  চারুকলা ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ইউনিটে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হয়। 
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ মিথ্যা!
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া নামে এক পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ বেশ আলোড়ন তোলে সম্প্রতি। ঘটনা গড়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী পর্যন্ত। গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। এবার সেই  সেই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চার সদস্যের কমিটি, যাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া এ প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সকল তথ্য উপাত্ত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত  মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছেঁড়ার কোনও ঘটনাই ঘটেনি। বরং, পরীক্ষা দিয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ অসম্ভব বুঝতে পেরে ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার গল্প মঞ্চস্থ করেছেন হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া নামে ওই শিক্ষার্থী।  তদন্ত কমিটি জানায়, অভিযোগকারী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া ও তার বাবা-মায়ের প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, শুরু থেকেই তার উপর পরিবার ও সমাজের ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশার চাপ ছিল। এমনকি এর আগের বছর এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাশই করেননি; পাশ করেনি এ বছরও। অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, সব সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় যে, অভিযোগকারীর সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আরও ভালো ফলাফল করে বাবা-মায়ের কাছে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির মিথ্যা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন হুমাইরা। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষায় ৫৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে তার ব্যর্থতার দায় হল পরিদর্শকের উপর চাপিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজান। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত বছরসমূহের ধারাবাহিকতায় সবার আন্তরিকতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর পরীক্ষা পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে ওই পরীক্ষার্থী তৃতীয় কোনও পক্ষের চক্রান্তে প্রভাবিত হয়েছেন কি না, তা উন্মোচনের সুপারিশ করা হয়েছে। পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের তাদের সন্তানদের এ ধরনের চাপ দেওয়া উচিত না। উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে চলে যাওয়ার সময় হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা মন্ত্রীর পথ আগলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার সময় ওই পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন পরীক্ষাকেন্দ্রের একজন পর্যবেক্ষক। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তাকে নতুন ওএমআর শিট দেন পর্যবেক্ষক। তবে, তখন পরীক্ষা শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি ছিল। অনুরোধ করার পরও পরীক্ষা পর্যবেক্ষক তার জন্য পরীক্ষার সময় বাড়াননি।
ওএমআর ছেঁড়া সেই চিকিৎসক লাপাত্তা, মারধরকারীর নেতৃত্বে কমিটি!
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় নকল না করলেও হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া নামে এক শিক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ নিয়ে চলছে তোলপাড়। একদিকে পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত যে পরিদর্শকের দিকে সন্দেহের তীর, ঘটনার পর থেকে তিনি লাপাত্তা, আরেকদিকে অভিযোগ জানাতে গিয়ে যে চিকিৎসকের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। সব মিলিয়ে সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর অভিবাবকরা।   ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়ার চিঠির প্রেক্ষিতে জানা যায়, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২৩ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার পাশের এক পরীক্ষার্থী ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করছিলেন। এক ঘণ্টা পরীক্ষার ৪০ মিনিট পর দায়িত্বরত এক নারী পরিদর্শক ডিভাইস ব্যবহার করা শিক্ষার্থীকে ধরে ফেলেন। হুমাইরার দাবি, এ সময় নকল করা শিক্ষার্থীর মতো সন্দেহবশত তারও ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন ওই নারী পরিদর্শক। পরে, হুমাইরার দাবির মুখে যাচাই করে তার উত্তরপত্র সঠিক ছিল বলে প্রমাণ হয়। পরে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে নতুন একটি ওএমআর শিট দেওয়া হয়। তবে তখন পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল শেষ পর্যায়ে। এতে শেষ হয়ে যায় হুমাইরার সব স্বপ্ন। ঘটনাটি ঘটেছে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে। ঘটনার পর শুরুতে শেরেবাংলা কেন্দ্র এবং পরে মেডিকেল কলেজে এসেও কোনো সুরাহা পায়নি হুমাইরার পরিবার। শেষমেষ ১১ ফেব্রুয়ারি ফলাফল ঘোষণার দিন স্বাস্থ্য অধিপ্তরে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেই অভিযোগ জানান হুমাইরা ও তার পরিবার। মন্ত্রী চলে যাবার পর ঘটে মারধরের ঘটনা। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ওই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন তিনজন চিকিৎসক। যাদের মধ্যে দুজন নারী, অপরজন পুরুষ। দুই নারী চিকিৎসকের একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ের। হুমাইরা বলছেন, যিনি তার ওএমআর ছিঁড়েছেন তিনি বাঙালি। নথি বলছে, ডা. নাফিসা ইসলামের সঙ্গেই হুমাইরার ওই কাণ্ড ঘটে। এদিকে ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা নাফিসা ইসলাম। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের কোথাও পাওয়া যায়নি তাকে। বন্ধ পাওয়া গেছে পরিদর্শন নথিতে দেওয়া তার মোবাইল নম্বরটিও। হাসপাতালে থাকা তার সহকর্মীরাও অবস্থান জানাতে পারেননি। ফলে নাফিসা ইসলামের কাছ থেকে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধাক্ষ্য ডা. সোহেল মাহমুদ অবশ্য দাবি করছেন, অভিযোগকারী যা বলছে তা সত্য নয়। সেদিন এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর হল সুপারদের আমি ডাকাই। তাদের তিনজনের সাক্ষাৎকার নেই। তারা বলে, এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’ এমন অবস্থায় অভিযোগকারী সেই শিক্ষার্থী এবং তার পরিবার অভিযোগের ইতিবাচক ফল নিয়ে পড়েছেন সংশয়ে। তারা বলছেন, কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এমন অভিযোগ জানানো হয়েছে 'সেই অপরাধে' যিনি মারধরের নেতৃত্বে ছিলেন তাকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটির প্রধান করেছে। এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে কমিটির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি মেলেনি। সাংবাদিকদের সামনে পড়লেও তাদের এড়িয়ে যান কমিটির চার সদস্য। সব শুনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলছেন হুমাইরার সঙ্গে কোনো অন্যায় ঘটবে না। তিনি বলেন, আমি খুবই দুঃখিত। একটা পরীক্ষার্থী কোনওভাবে কারো গাফলতিতে বঞ্চিত হোক, সেটা কোনোভাবেই কাম্য না। আমি দেখবো মেয়েটির সঙ্গে যেন কোনও অন্যায় না হয়।   হুমাইরার পরিবারের দাবি, পরিদর্শক ডা. নাফিসার সঙ্গে হুমাইরার সাক্ষাৎ করানো হোক এবং বাকি পরীক্ষার্থীদের কাছেও শোনা হোক সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।    
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তরপত্র ছেঁড়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় নকল না করলেও এক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র ছেঁড়ার ঘটনা তদন্তে  চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তর। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. টিটো মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক কাজী আফজালুর রহমানকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সদস্যসচিব করা হয়েছে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আলম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামাল হোসেন। এর আগে রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সেদিন দুপুরে ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ জানাতে অধিদপ্তরে ছুটে আসেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরীক্ষার হলে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায় আচরণের সুরাহা চাইতে এসে লাঞ্ছিত হন ওই পরীক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় জড়িতরা খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ৩টার দিকে ব্রিফিং শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অধিদপ্তর ত্যাগ করার ঠিক পরপরই সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে অধিদপ্তর ভবনের নিচ থেকে উপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। বিষয়টি নজরে আসে সাংবাদিকদের। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রেহাই পান ওই ব্যক্তি।  জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম ডা. রেদোয়ান। তিনি জানান, মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে স্ত্রীর ছোটবোন হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া অন্যায় আচরণের শিকার হন। সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন তিনি। পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন অধিদপ্তর ত্যাগের সময় তার হাতে এ বিষয়ে অভিযোগও তুলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই তার ওপর হামলে পড়েন কয়েকজন ব্যক্তি। তারা নিজেদের অধিদপ্তরের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে ডা. রেদোয়ানকে টানতে টানতে দোতলায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুমাইরার পিতামাতাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সাহায্য চান।   ভুক্তভোগীরা জানান, হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শেখ কামাল ভবনের অষ্টম তলার ৮২৩ নম্বর কক্ষে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৪০ মিনিট পর হুমাইরার পাশে বসা এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। এ সময় হলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা হুমাইরার উত্তরপত্রও কেড়ে নেন এবং ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় দাবির মুখে যাচাই করে হুমাইরার উত্তরপত্র সঠিক ছিল বলে প্রমাণ হয়। পরে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে নতুন একটি ওএমআর শিট দেওয়া হয়। তবে তখন সময় বাকি ছিল অল্প। এতে হুমাইরার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। কক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ভুলের শিকার হন ওই ভর্তিচ্ছু। হুমাইরার চাচা আবু নাসের সেলিম বলেন, ‘ডিভাইস জব্দের ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকলেও আমার ভাতিজির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন শেষ। এ বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে অভিযোগ দিতেই রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসেছিলাম।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে অবস্থিত কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ দিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া এ ঘটনায় জিডি করতে শেরে বাংলা নগর থানায় গেলে সেখান থেকেও অধিদপ্তরে যোগাযোগের কথা বলা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। মহাপরিচালক বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর অভিযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে আমরা ভর্তি কমিটির সঙ্গে কথা বলবো। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত করে দেখবে আসলে পরীক্ষার দিন শেকৃবির হলে কী ঘটেছিলো।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনাক্রমে এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।     
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ শুরু আজ
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আজ। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিইউপি নিজস্ব ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিইউপির ভর্তি বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদ এবং বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদ এবং বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ করা হয়।  শিগগিরই সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আর্মড ফোর্সেস ও আর্মি মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ৯ মার্চ চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। ৫-৭ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং ২-১০ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২১ জানুয়ারি কোর কমিটির সভায় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হতে পারে। চলতি শিক্ষাবর্ষে সাধারণ গুচ্ছ, কৃষি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত হচ্ছে নতুন তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।