• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

দেশের ‘প্রথম’ পায়ে হাঁটা রোবট লি

শাবিপ্রবি সংবাদদাতা
|  ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১০ | আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪৮
সংগৃহীত
দেশের প্রথম পায়ে হাঁটা রোবট তৈরি করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) একদল শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে ‘লি’ নামে রোবটটি সবার সামনে উন্মুক্ত করা হয়। সামাজিক রোবট ‘রিবো’ উদ্ভাবনের পর এবার ‘লি’ নামে পায়ে হাঁটা রোবট তৈরি করে শাবিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে পাঁচ সদস্যের একটি টিম। 

whirpool
শাবির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রভাষক নওশাদ সজীবের নেতৃত্বে ‘ফ্রাইডে ল্যাব’ নামে পাঁচ জনের একটি টিম এই রোবটটি তৈরি করেন। এটি দেশের প্রথম পায়ে হাটা রোবট বলে দাবি করছেন উদ্ভাবকবৃন্দ।

রোবট ‘লি’ এর বিষয়ে নওশাদ সজীব আরটিভি অনলাইনকে জানান, বাংলাদেশে তৈরি হিউমেনয়েড রোবটটি দেখতে মানুষের মত এবং এর উচ্চতা ৪ ফুট ১ ইঞ্চি  (১২৬ সেমি)। এ রোবটটির প্রধান বৈশিষ্ট্য এটি মানুষের মত হাঁটতে পারে, বাংলায় কথা বলতে পারে, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এটির ওজন ৩০ কেজি। বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের ইনভেশন ফান্ডের ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ রোবট টি তৈরিতে সময় লেগেছে তিন বছর। 

তিনি আরও জানান, ফ্রাইডে ল্যাবের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। গত ২০ এপ্রিল (শনিবার) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি রোবটটি উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শাবি’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। সেসময় রোবট টি প্রতিমন্ত্রীকে ডান হাত উঁচু করে স্যালুট দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে এবং হেটে দেখায়। 

টিমের সদস্য মেহেদী হাসান রুপক বলেন, আইসিটি ডিভিশন থেকে দশ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করা হয় তাহলে আরও ভালো মানের রোবট তৈরি করতে পারবো। ‘আমিসু’ বিশ্বের অন্যতম একটি ইন্টিলিজেন্ট রোবট যেটি ভালোভাবে হাটতে পারে। এটি কিনতে গেলে ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে। আমাদেরকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হলে আমরা এমন রোবট তৈরি করতে পারবো।’

আরেক সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শাবিতে তৈরি আগের রোবট ‘রিবো’ এর সাথে বর্তমান ‘লি’ এর পার্থক্য হচ্ছে লি হাটতে পারি। রোবটকে হাঁটানোর জন্য অনেক দামি মোটর প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কম বাজেট পেয়েছি। আরও বাজেট পেলে উন্নত মানের রোবট তৈরি করতে পারবো।’

টিমের অপর সদস্য জিনিয়া সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘রোবটটি বাংলায় যাতে কথা বলতে পারে অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি নিয়ে আমি কাজ করেছি। রোবটটিকে গান, কবিতা ইত্যাদিও শিখানো হয়েছে। সাধারণত বাসা, বাড়ি -অফিসে ব্যবহার করা হয় এমন সব ভাষা লি’কে শিখানো হয়েছে।’ 

অপর সদস্য মোহাম্মদ সামিউল হাসান বলেন, রোবটটি যদি ভালোভাবে হাটতে পারে তাহলে আমরা যেকোনো সেক্টরে কাজে লাগাতে পারবো। ইন্ডাস্ট্রি, ট্রাফিক কন্ট্রোল কিংবা অফিস সহ যেকোনো জায়গাতে মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ভবিষ্যতে রোবট মানুষের বাসা-বাড়ি অফিসে বিভিন্ন কাজে দেখা যাবে। আর এটিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে উন্নত মানের মোটর প্রয়োজন।’

ফ্রাইডে ল্যাবের সদস্যবৃন্দ: শাবির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রভাষক নওশাদ সজীব, আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রুপক, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাইফুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ সামিউল হাসান এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং জিনিয়া সুলতানা জ্যোতি। পাঁচজন টিম সদস্যের বাহিরে গত তিন বছর সাজিদ, শান্ত, খাইরুল, শোভন, সোহান, জান্নাতসহ আরও অনেকে কাজ করেছে বলে জানান ফ্রাইডে ল্যাবের সদস্যবৃন্দ।

‘লি’র প্রধান বৈশিষ্ট্য: মানুষের মত দুই পায়ে হাটতে পারে। বাংলা ভাষা বুঝতে পারে এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজিন্সের মাধ্যমে মানুষের কথার উত্তর দিতে পারে। ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে মানুষকে মনে রাখতে পারে। হ্যান্ডশেক, নাচা, স্যালুট সহ বিভিন্নরকম অঙ্গভঙ্গি করতে পারে। মুখে মানুষের মত চোখ, চোখের পাতা, ঠোট প্রভৃতির মাধ্যমে ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন করতে পারে।

নামকরণ: বাংলা স্বরবর্ণ থেকে হারিয়ে যাওয়া একটি লিপি হল ‘লি’ যা দেখতে ৯ এর মত ছিল। এ থেকেই নামকরণ করা হয়েছে রোবট টির। রোবটটির নামকরণ করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিন সুলতানা। 

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়