• ঢাকা শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু হলেই বলে টিসি দিয়ে দিব

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৪ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৯
'নো মোর সুইসাইড', 'শাসন করুন অপমান নয়', শিক্ষার্থীদের এমন নানা স্লোগানে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মূলফটকে তালা দিয়ে ফটকের সামনেই দিনভর বিক্ষোভ করে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকে বেইলি রোডের বিভিন্ন স্থানে প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে অরিত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীর শাস্তিসহ ৬টি দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন অভিভাবকরা।

western এসময় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা শারমিন এই প্রতিবেদককে বলেন, অরিত্রী আত্মহত্যা করেনি ওকে মানসিকভাবে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিভাবক নাজমুল তপন বলেন, যার গেছে সে জানে। সন্তানের সামনে বাবা-মাকে অসম্মান করা আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। শুধু বরখাস্ত করলে হবে না আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।

আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের সাথে কথা না বললেও তাদের প্রতিবাদের ভাষা ফুটে উঠেছে তাদের ব্যানার- ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড আর স্লোগানে স্লোগানে অরিত্রী হত্যার বিচার চাই, এ কেমন শিক্ষা যে শিক্ষা শিক্ষার্থীর প্রাণ নিয়ে নেয়? স্কুলে আমরা শিখতে আসি অপমানিত হতে নয়, অরিত্রী আত্মহত্যা করেনি ওকে মানসিকভাবে হত্যা করা হয়েছে, গভর্নিং বোর্ডের পদত্যাগ চাই, সাময়িক নয় পূর্ণাঙ্গ বরখাস্ত চাই, অরিত্রীর বদলে যদি আপনার সন্তানের সাথে এমন ঘটনা ঘটতো? আমাদের অপমান মানতে পারি বাবা-মায়ের অপমান না।

অভিভাবক সেলি আক্তার বলেন, আমরা মনে হয় রাস্তা থেকে উঠে আসছি, পড়াশোনা করি নাই, এমন ব্যবহার করে শিক্ষকরা? শিক্ষকদের সাথে তো কথাই বলা যায় না। কিছু হলেই বলে টিসি দিয়ে দিবে। একদিন আমার মেয়ে দেরি করে স্কুলে গেছে। শিক্ষক বলেন- বয়ফ্রেন্ডের সাথে সময় কাটিয়ে আসলা? টিচাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে যে চাপ দেয় তা কেউ বলতে চায় না, পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনুস্কা রায়ের বাবা বলেন, মেয়েটা অন্যায় করছে তার বিচার করবে। তা না করে কিছু হলেই বলে টিসি দিয়ে দিবে। শিক্ষকরা নিজেদের মস্ত বড় মনে করে, তাদের ইগো প্রবলেম আছে। আগে আমাকে বেশ কয়েকবার লাঞ্ছনা করা হয়েছে। মামলা হয়েছে গতকাল অথচ প্রিন্সিপাল নিশ্চিন্তে বাসায় বসে আছে। আজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করতেও আসেননি।

অভিভাবক মাহমুদা কবির বলেন, শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় শ্রেণিভেদে শিক্ষার্থীদের সাথে আচরণ করে। যেমন- বাবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলে ভালো ব্যবহার করেন অন্যথায় খারাপ ব্যবহার করেন। তিনি আরর বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। ক্লাসে ঠিক মতো পড়ায় না, শুধু কোচিং করতে বলে আর কোচিংয়ে তারা ভালো পড়ান।

গত সোমবার শান্তিনগরে নিজের বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রী অধিকারী। তার আগের দিন পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে তাকে পরীক্ষা হল থেকে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অরিত্রী পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল নিয়ে টেবিলে রেখে লিখছিল। অন্যদিকে স্বজনদের দাবি, নকল করেনি অরিত্রী।

এরপর সোমবার অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে নেয়া হয় স্কুলে। তখন অরিত্রীর সামনে তার বাবা-মাকে অপমান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অরিত্রীর স্বজনরা বলছেন, বাবা-মার অপমান সইতে না পেরে ঘরে ফিরে আত্মহত্যা করে ওই কিশোরী।

তবে অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস অভিভাবকদের অপমান করার কথা অস্বীকার করলেও অরিত্রীর আত্মহত্যার খবরে মঙ্গলবার দিনভর বেইলি রোডে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা।

সি/এসজে
  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়