Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

স্টার্টআপ স্টুডিও নিয়ে আসছে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশন’ 

তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়তা পাওয়া স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ কার্যক্রম এবার পূর্ণরূপে নতুন প্লাটফর্ম নিয়ে হাজির হচ্ছে। দেশের ইনোভেশন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন মাত্রা যোগ করার জন্য নতুন বছরের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ ঘটবে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশনের (এসটুএস ফাউন্ডেশন)।

নতুন উদ্যামে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ আইডিয়া ও উদ্ভাবনগুলোকে সামনে এগিয়ে নিতে এসটুএস ফাউন্ডেশনের আগমন প্রসঙ্গে এর আয়োজকরা জানান, স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ কার্যক্রমে সারাদেশের শিক্ষার্থীদেরকে যুক্ত করে তাদের প্রশিক্ষণ, যাচাই-বাছাই ও তাদেরকে সহযোগিতা প্রদানসহ সার্বিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের কাজ করেছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলো সরকারি অনুদান সংগ্রহের পর কী করবে, কীভাবে নিজেদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, তাদের লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে নির্ধারণ করবে এমন অনেক প্রশ্নই তাদের কাছে অজানা থেকে যায়। স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপের পূর্বের দুটো অধ্যায়ের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রায় ১২ হাজারের বেশি আবেদন এসেছিল। কিন্তু অনেক সম্ভাবনাময় আইডিয়াই সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ঝরে পড়েছে। অনুষ্ঠান শেষে সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের থেকে যেই স্টার্টআপগুলো বাছাই করা হয় তাদের অনেকেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি; যার মূল কারণ সঠিকভাবে ‘ইনকিউবেশন’ না করা এবং কনসেপ্ট ও রোডম্যাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে কার্যকর করে গড়ে তুলতে সঠিক কনসেপ্টগুলোর চর্চা ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা তৈরির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্টভিত্তিক স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। আর এই লক্ষ্য পূরণের জন্য অনেকগুলো নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে ২০২২ সালের শুরুতেই আমরা যাত্রা শুরু করছি। যারা নতুন স্টার্টআপ বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্যও থাকছে নতুন নতুন চমক, যা বাংলাদেশে এর আগে কেউ করতে পারেনি।

স্টার্টআপ সংস্কৃতি ও ইকোসিস্টেম তৈরিতে এই ফাউন্ডেশন অনন্য এক মাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্ল্যাটফর্মের সাবেক সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীরা। এ উপলক্ষে এসটুএস কোর্ডিনেশন সেলের সদস্যদের নিয়ে ‘হোমকামিং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশনের নতুন আঙ্গিকে যাত্রার কথা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, আশিকুর রহমান রূপকের তত্ত্বাবধায়নে ২০১৮ সাল থেকে কাজ শুরু করে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ কোর্ডিনেশন সেল। এ সময় আইসিটি ডিভিশনের আইডিয়া প্রকল্প ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) তারুণ্যের প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার সঙ্গে একত্রে কাজ করে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ টিম। এ ছাড়াও সরকারি বেসরকারি কিংবা যৌথ উদ্যোগের একাধিক স্টার্টআপ-ইনোভেশন প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই তরুণ টিম।

গণমাধ্যমকে তিনি জানান, করোনাভাইরাস ও সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রায় দুইবছর পর আজ আমরা একত্রিত হয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা বিগত ১ বছর নিজেরা বিভিন্ন মিটিং, রিসার্চ ও ব্রেইনস্টর্মিং সেশনের মাধ্যমে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্মটির জন্য একটি সাস্টেইনেবল পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমরা সিক্সপি(6P) মডেলের মাধ্যমে ইকোসিস্টেমের অন্তর্গত পিপল, প্রোসেস, প্ল্যাটফর্ম, প্রোপাগেশন, পলিসি ও প্যারাডাইম নিয়ে কাজ করব। এই পুরো ফাউন্ডেশনটিকে মূলত একটি বৃহৎ স্কেলের স্টার্টআপ স্টুডিও হিসেবে পরিচালনা করা হবে যেন যেকোনো শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক কিংবা স্টেকহোল্ডার এটার অংশ হতে পারে যা বাংলাদেশে এই প্রথম। তাছাড়া প্ল্যাটফর্মটিকে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিন্তা না করে একটি এনপিও হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যেন ইকোসিস্টেমে সাপোর্ট প্রদানকারীর ভূমিকা পালনের অগ্রাধিকারে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি না সৃষ্টি হয়। আমরা চাই, সকলের অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি ইনক্লিউসিভ ও স্ট্যান্ডার্ড নলেজভিত্তিক ইকোসিস্টেম যেন গড়ে তুলতে। এবং যেভাবে আমরা সকলের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া ও সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।

এসএ/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS