Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শিক্ষার্থীদের উৎসাহ থাকলেও শংকায় অভিভাবক

শিক্ষার্থীদের উৎসাহ থাকলেও শংকায় অভিভাবক

দেড় বছরেরও বেশী সময় পরে সারাদেশের মতো নড়াইলে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতদিন পরে বিদ্যালয় খোলার ঘোষনায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে উচ্ছলতা, শিক্ষকদের কর্মচাঞ্চল্য বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার বিষয়ে শংকায় রয়েছেন অভিভাবক সহ স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

সরকারী নির্দেশনা মেনে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ স্কুলে চলছে নতুন নিয়মে বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি। ছাত্রদের ইউনিক আইডি এবং বোর্ডের আইডি খোলার জন্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে হাজির হচ্ছেন।রক্তের গ্রুপ নির্ণয় সহ মোবাইল নম্বরের জন্য বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে শিক্ষক-ছাত্র কারোরই তেমন গুরুত্ব দেখা যায়নি।

নড়াইল সদরের আউড়িয়া এপিবিএসএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায় দরজা জানালাসহ ভিতরের বেঞ্চগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ক্লাস নেওয়ার জণ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি কামরুজ্জামান খান তুহিন বলেন ক্লাস করানোর জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক ও স্যানিটাইজার যথাযত ভাবেই ব্যবহার করবে ।

এপিবিএসএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক আব্দুস সাত্তার জানান,আমরা তো বাড়ি থেকে সন্তানকে মাস্ক পরিয়ে ঠিকমতোই পাঠাবো। কিন্তু স্কুলে সব ছাত্ররা যদি মাস্ক না পরে কিম্বা স্যাররা যদি স্বাস্থ্য বিধির গুরুত্ব না দেয় তাহলে তো ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে শিক্ষক অভিভাবক সচেতন থাকলে আশা করি সমস্যা হবেনা।

আলোকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা নিজ ক্যাচমেন্ট এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করছে।বিদ্যালয় আঙ্গিনা পরিপাটি করে রেখেছেন প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে।

শিশুদের স্কুলে বরণ করতে বাথরুমে সাবান,হ্যান্ডওয়াশ এবং স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে ছাত্রদের হাত ধোয়ার জন্য ৩টি বড় বালতিতে ট্যাপ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিটা ক্লাসরুমের সামনে রাখা হয়েছে ময়লা ফেলার প্যাডেল বাক্স। শিশুদের জ্বর মাপার জন্য কেনা হয়েছে থার্মার স্ক্যানার। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সারি সারি হ্যান্ডস্যানিটাইজার বোতল,মাস্ক আর টিস্যুসহ রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু সরঞ্জাম। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বানানো হয়েছে আইসোলেশন সেন্টার।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাহফুজা ইয়াসমীন জানান,আমরা করোনার শুরু থেকেই ওয়ার্কশীট এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি,এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু ও তার অভিভাবকদের সচেতন করছি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে। আমাদের কোন ঘাটতি নাই।

জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৩১ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৪৪ মাদ্রাসা, ২৮ কলেজ, ৫ কারিগরি কলেজে প্রায় ৫০ হাজার এবং ৪৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১লক্ষ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিশুশ্রেণি বাদে প্রায় ১লক্ষ ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর ক্লাস চালু হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হবে কি না সে বিষয়ে শংকায় রয়েছে অভিভাবকরা।তবে বিদ্যালয় চালু হওয়াতে তারা খুশি। এদিকে জেলার অনেক স্কুল এখনো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.হুমায়ুন কবীর বলেন,আমাদের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা স্কুল খুলতে পারবো,আলোকদিয়াসহ কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকেরা নিজেরাই অনেক উদ্যোগ নিয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন,ইতিমধ্যে সরকারি ১৯ দফা বিষয়ে আমরা সভা করেছি,আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। আশাকরছি সঠিক নিয়ম এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা বিদ্যালয় খুলতে পারবো।

এমএন

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS