logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬

করোনায় আতঙ্ক নয় চাই সচেতনতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৩ মার্চ ২০২০, ১৮:৩০
করোনায় আতঙ্ক নয় চাই সচেতনতা
করোনায় আতঙ্ক নয় চাই সচেতনতা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন সারাদেশের জনমনে আতঙ্ক হয়ে বিরাজ করছে। বেশ কিছুদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বব্যাপী সকল দেশ ও মানুষের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। 

বাড়ি বা হাসপাতাল যেখানেই কোয়ারেন্টাইন হোক- করোনা ভাইরাস যেহেতু আক্রান্ত এলাকায় ভয়াবহ গতিতে সংক্রমণ ঘটায় সে কারণে যে সব এলাকায় কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে করোনা সন্দেহে মানুষজনকে রাখা হচ্ছে সেসব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। একটা ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

এমন অবস্থায় বেড়েছে উদ্বেগ, বেড়েছে পরিবারগুলোর দুশ্চিন্তা। কিন্তু এই দুশ্চিন্তা কোনও সমাধান নয়। জনসাধারণকে আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করে তুলতে হবে। কারণ এই ভাইরাসের মোকাবেলায় প্রয়োজন দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। এ প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে ভাইরাসটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক।

করোনা সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি। ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে। এর প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর শুকনো কাশি, গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি। এমনকি এক সপ্তাহের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা বুঝতে পারে না সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, নাকি সাধারণ সর্দি-কাশিতে। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত এলাকায় সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও নাক, গলা ও বক্ষের পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে সেটা করোনা ভাইরাস কিনা। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

কিন্তু এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না। কারণ সর্দি-কাশি মানেই করোনা ভাইরাস নয়। সুতরাং ঘাবড়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। করোনা ভাইরাস মূলত শ্বাসযন্ত্রের নিচের অংশ শ্বাসনালি ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। 

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ডা. তৌসিফ আলম করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হবার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আতঙ্কিত মানুষকে আগে আশ্বস্ত করতে হবে। তবেই তো সচেতনতা তৈরি হবে।

নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করে দেখুন প্রাণঘাতী এই ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। 

১. ধূমপান বাদ দিন।
২. অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
৩. প্রতিদিন গোসল করুন। সম্ভব হলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান কিংবা বডিওয়াস (ডেটল, লাইফবয়) ব্যবহার করুন।
৪. ঠাণ্ডা-জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন।
৫. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার/ফল খান। 
৬. সূর্যের আলো ত্বকে নিন। 
৭. ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
৮. ভালভাবে সেদ্ধ করা খাবার খান। যেমন : ডিম, মুরগির মাংস।
৯. অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
১০. আদা চা, তুলশী চা, মধু ইত্যাদি পান করুন।
১১. ইয়োগা বা ব্যায়াম করুন।

করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এটা সবাইকে আক্রমণ করতে পারলেও সবার মৃত্যু ঘটাতে পারবে না। আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তাই আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক হোন। জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, বাসায় থাকুন। 

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ
  • লাইফস্টাইল এর পাঠক প্রিয়