logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

হ্যাপি চকলেট ডে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩৫ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২৭
হ্যাপি চকলেট ডে
চকলেট

রোজ ডে, প্রপোজ ডে’র পর এবার আসলো চকলেট ডে। আজ ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব চকলেট দিবস। এ দিনটি ভ্যালেন্টাইন’স সপ্তাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। চকলেট যেমন অভিমান ভাঙতে পারে, তেমনই পারে দেয়া-নেয়ার সম্পর্কও আরও মধুর করতে।

ইংরেজা ভাষায় chocolate শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ ভাষা থেকে। তবে স্প্যানিশ ভাষায় এই শব্দটা কীভাবে এসেছে, তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। ধারণা করা হয়, নাহুয়াতি ভাষা, অর্থাৎ অ্যাটজেকদের ভাষার শব্দ chocolatal থেকে এসেছে chocolate শব্দটি। এই chocolatal এসেছে xocolatl থেকে। xococ এর অর্থ হলো তেতো বা টক এবং atl এর অর্থ হলো তরল বা পানীয়।

পশ্চিমা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইদানীং বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও দিনটি উদযাপন করছেন। যদিও ঐতিহাসিক ভাবে এ দিনটি পালনের কোনও প্রথার নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে 'চকলেট ডে' পালন একটু দুষ্টু-মিষ্টি ভালোবাসার খুনসুটির মতোই।

‘চকোলেট’ এর স্বাদ প্রথম পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার মায়া সভ্যতা। নামটিও এসেছে তাদের ভাষার ‘স্কোকোলেট’ থেকে। যার অর্থ অম্ল পানীয়। কোকো গাছের বীজ থেকে প্রস্তুত এই চকোলেট গোড়ার দিকে মূলত পানীয় হিসাবেই ব্যবহার করা হত। সে আমলে আবার অনেকে তা রান্নার মশলা হিসাবেও ব্যবহার করতেন। তখন কেবল মায়া রাজ পরিবারের সদস্য, প্রশাসক, ধর্মগুরু, সৈনিক এবং সম্মানীয় বণিক সম্প্রদায়ই একমাত্র এর স্বাদ আস্বাদন করতে পারত।

পরবর্তীকালে মায়াদের কাছ থেকে চকলেটের ব্যবহার শিখে নেয় আজটেকরা। তাদের আরাধ্য দেবতা কোয়েটজালকটলই নাকি এই কোকো গাছ পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিলেন। আর এই গাছের ফল খেলে সাম্রাজ্য এবং ক্ষমতা দুই-ই জয় করা যায়। এমনই বিশ্বাস ছিল আজটেকদের। সেই কারণে ওই দেশে কোকো গাছ দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয়। এমনকি দেবতাকে চকোলেট উৎসর্গ করারও নজির রয়েছে।

আধুনিক চকলেটের প্রথম কারখানা গড়ে ওঠে স্পেনে। জানেন কি, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় চকলেট কোনটি? ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক। জানা যায়, জর্জ ক্যাডবেরি (জুনিয়র) স্পেন থেকে ক্যাডবেরি বারের রেসিপিটি শিখে এসে প্রথম এটি তৈরি করেন ১৯০৫ সালে। তবে ক্যাডবেরি কোম্পানির প্রথম সদস্য হিসাবে ধরা হয় জন ক্যাডবেরিকেই। এর আগে বার্মিংহামের বুলস্ট্রীটে তিনি একটি চায়ের দোকান চালাতেন। বর্তমানে অবশ্য পশ্চিম এশিয়ার দেশ যেমন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, সিয়েরা লিওন ইত্যাদি দেশ থেকে উন্নতমানের কোকো বীজ আমদানি করে ক্যাডবেরি প্রস্তুত করা হয়।

চকলেটের কিছু মজাদার তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন চকোলেট তৈরির জন্য খরচ হয় ৩৫ লাখ পাউন্ড দুধ।

মার্কিনিরা প্রতিদিন ২৮ লাখ পাউন্ড ক্যান্ডি খায়। এর মধ্যে অর্ধেকই চকোলেট।

সমগ্র পৃথিবীতে উৎপন্ন অ্যালমন্ডের ৪০ শতাংশ চকোলেট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।

হার্সে চকলেটের নির্মাতা মিলটন হার্সের টাইটানিকে ভ্রমণ করার কথা ছিল। কিন্তু তা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। নাহলে হয়তো গোটা বিশ্বই চকলেটের সুস্বাদ থেকে বঞ্চিত হতো।

মানুষ প্রতিদিন হার্সের ৮ কোটি চকোলেট খায়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চকলেট বারের ওজন ১২,৭৭০ পাউন্ড।

একটি ছোট চকলেটের চিপস ১৫০ ফুট রাস্তায় চলার শক্তি দিতে পারে।

মানসিক অশান্তিতে ভোগা মানুষ যে পরিমাণ চকলেট খান তার চেয়ে ৫৫ শতাংশ বেশি খেলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চকলেট শুধু মন তৃপ্ত করে না, এটি মস্তিষ্ককেও চাপমুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

ডার্ক চকলেট খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায়।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কোকো উৎপাদন করে আইভোরি কোস্ট। যার ৩৭ শতাংশ চকলেট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।

চকলেট খেলে মুখে ব্রণ, একজিমা, ত্বকে অবাঞ্চিত দাগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

এস/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ
  • লাইফস্টাইল এর পাঠক প্রিয়