• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চাকরি নিয়ে পরিবারসহ অভিবাসী হওয়ার সুযোগ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৪৮
ইউরোপের দেশগুলোতে বসবাস কিংবা উচ্চশিক্ষা অনেকের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নগুলো মলিন হয়ে যায় বিভ্রান্তিকর নানা তথ্যের কারণে। অনেকে সে ভুল তথ্যের কারণে বিপদেও পড়েন।

whirpool
সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ, চাকরি, যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে এখন এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। আর অভিবাসন প্রত্যাশীদের পছন্দের তালিকায়ও অস্ট্রেলিয়া এখন শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ। তবে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ-সুবিধা বেশি ইউরোপের অন্যতম বিখ্যাত দেশ কানাডায়। শীতপ্রধান এই গণতান্ত্রিক দেশে মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাস করে।

অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্সের তথ্যমতে, বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন এই ক্যাটাগরিকে বিভিন্ন সাব ক্লাসে বিভক্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্সের তথ্যমতে, কয়েকটি ভিসার নিয়ম আলোচনা করা হলো- কাজ করার জন্য অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রোগ্রাম সাব-ক্লাস-৪৮২ এবং সাব-ক্লাস ৪০৭(Training Visa)। এই ভিসার ক্ষেত্রে ভিসাপ্রার্থীকে অবশ্যই টিএসএস ভিসার পেশা তালিকার জন্য একটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। এই ভিসার জন্য আইইএলটিএসে কমপক্ষে ৪.৫ অথবা ৫ কিংবা, সমমানের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

এছাড়া দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই এপ্লাই করা যাবে। মূলত দক্ষ ও অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। বাংলাদেশিরা যদি প্রথম থেকেই দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ফাইল প্রসেস করে তবে স্বল্প সময়ে এই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত।

অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্সের তথ্যমতে, অস্ট্রেলিয়া ডিমান্ড লিস্টে ৪৩২টি পেশা রয়েছে। সুতরাং অনেকেই বিভিন্ন সাব ক্লাসে আবেদন করে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগটি নিতে পারেন।

পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়া

ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব সিডনি, মোনান্স ইউনিভার্সিটি, কারটিন ইউনিভার্সিটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয় পুরো পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম। বিবিএ, এমবিএ, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, আইন, আইটি, একাউন্টেন্টসহ বর্তমান সময়ে প্রচলিত সব বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়। পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন চাকরি এবং অতঃপর স্থায়ীভাবে পরিবারসহ বসবাস করার সুযোগ পাওয়া যায়।

ভ্রমণ ভিসায় অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। বছরের যেকোনও সময় পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার এসব স্থানে। ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে এখন নিয়ম অনেকটা শিখিল। সঠিক কাগজপত্র ও প্রকৃত কারণ দেখাতে পারলে এই ভিসা দ্রুত সময়ে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে দক্ষতার সঙ্গে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে, তার মধ্যে অ্যাবরোড সোলুশনস (Abroad Solutions) অন্যতম। ঠিকানা- Level-3, House-3, Road-2, Block-J, Baridhara, Dhaka-1212। যোগাযোগ- ☎ +8802 8837900, +88 01907090030-39।

এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপ এবং এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম:

স্থায়ীভাবে পরিবারসহ এ স্কিমে আবেদন করে বসবাসও কাজ করা যায়। এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় তিন বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অস্ট্রেলিয়ান কোনও কোম্পানি যদি আপনাকে স্পন্সর করতে ইচ্ছুক হয়, তবে আপনার ভাগ্য খুলে গেল। এটি যোগাড় করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণের কোনও বিকল্প নেই।

অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সাব-ক্লাস ১৮৯,১৯০ এবং ৪৮৯:

স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সাব-ক্লাস ১৮৯, ১৯০ এবং ৪৮৯ সম্পূর্ণ পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে। তবে সাব-ক্লাস ৪৮৯ হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ ভিসা সাব-ক্লাস। এ সাব-ক্লাসগুলো প্রতিটিতে মোট ৬৫ পয়েন্ট করে প্রয়োজন হয়। পয়েন্ট পাওয়া যায় বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, ভাষা এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত দখলের ওপর।

মনোনীত এলাকা ভিত্তিক মাইগ্রেশন চুক্তি (DAMA):

যেসব কাজে কম দক্ষতা প্রয়োজন, এমন কাজের পেশাদারদের জন্য নতুন বছরের শুরুতেই সুখবর আনছে অভিবাসন খ্যাত দেশ অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে তাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিয়ে রাজ্যভিত্তিক নতুন ভিসা চালু করছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। শুধু তাই নয়, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা কম হলেও এ ভিসায় আবেদন করা যাবে। এই ভিসার চাহিদার পেশা তালিকায় ১১৭টি পেশা রয়েছে। পেশাগুলো প্রধানত কৃষি ও আতিথেয়তা শিল্পকে কেন্দ্র করে। পেশাগুলোর জন্য উচ্চকর্ম ও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রয়োজন নেই।

প্রারম্ভিক উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ভিসা বা Business Migration Visa:

অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রারম্ভিক উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নতুন ভিসা চালু করেছে। এই ভিসা বিদ্যমান ব্যবসা এবং উদ্ভাবন ভিসার চেয়ে একটু ভিন্ন। প্রারম্ভিক উদ্যোক্তা ভিসা অন্যান্য উদ্যোক্তা ভিসার মতো তহবিল ব্যবস্থা বা Funding Management প্রয়োজন নেই। যোগ্য আবেদনকারীদের এই ভিসার জন্য অস্ট্রেলিয়া দেশটিকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রস্তাব জমা দিতে হয়। এই ভিসায় IELTS score সহ অথবা IELTS score ছারা উভয়ভাবেই  অ্যাপ্লাই করা যায়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে অবস্থিত কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অ্যাবরোড সোলুশনস (Abroad Solutions) নামে কনসালটেন্সি ফার্মটি। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং পার্টনার সজীব শাহারিয়ার বলেন, আমার ব্যক্তিগতভাবে ভিসা কনসালটিংয়ের কাজের অভিজ্ঞতা ছয় বছর। আমরা যা করি অস্ট্রেলিয়া সরকারের নিয়ম মেনেই করি। এখানে প্রতারিত হওয়ার কোনও সুযোগ নাই। এছাড়া আমাদের অস্ট্রেলিয়া অফিস রয়েছে। সেখানে গিয়ে কেউ বিপদে পড়লে আমরা তাদের সাহায্য করি।

সজীব শাহারিয়ার আরও বলেন, এছাড়া আমরা কানাডা, বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া যেকোনো ভিসা সংক্রান্ত কাজ করে থাকি।

অস্ট্রেলিয়াসহ যেকোনো দেশের অভিবাসন বিষয়ে আরও তথ্য জানতে আপনার পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে পারেন এই ঠিকানায় ([email protected]) অথবা, হালনাগাদ তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন (www.facebook.com/abroadsolutionsbd অথবা www.abroadsolutions.net) ওয়েবসাইটে।

ডি/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়