logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

  ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৪২

শীতকালে পানি পানে কেন আপস নয়?

শীতকালে পানি পানে কেন আপস নয়?
ফাইল ছবি
বছরের শেষ মুহূর্তে জেঁকে বসেছে শীত। বাজারে পাওয়া শীতকালীন ফল এখন সবারই খাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অনেকেই শীত আসায় পানি পান করার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এটা অবশ্য স্বাভাবিক। কেননা, শীতে তৃষ্ণার পরিমাণ কম পায়। শীতেও যে মানবদেহে পানির প্রয়োজন রয়েছে। পৃথিবীর তিন ভাগ পানি ও এক ভাগ স্থলের মতোই শরীরের কোষের প্রধান উপাদান পানি। এ কারণে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে শরীরের নূন্যতম পানির পরিমাণ কমার কোনও সম্পর্ক নেই। তবে শীতে স্বাভাবিকভাবেই পানির চাহিদা কিছুটা কমে যায় বলে জানালেন ভারতের জেরিয়াট্রিশিয়ান কৌশিক মজুমদার।

তার মতে, অনেকেরই বয়স বেশি হলে উচ্চরক্তচাপ, কিডনির অসুখ, লিভারে সমস্যা, হৃদরোগের মতো হাত, পা বা পেটে তরল জমে গিয়ে ইডিমা হয় (ফুলে যায়)। এসব মানুষ অল্প পরিশ্রম করলেই শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্টে ভুগেন। এজন্য শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করতে ল্যাসিক্স জাতীয় ওষুধ খেতে হয়। এক্ষেত্রে তাদের তুলনামূলক পানির চাহিদা বেশি থাকে। মজুমদারের পরামর্শ হচ্ছে, ঠাণ্ডার ভয়ে অনেকে স্বাভাবিক পানি পান কমিয়ে দেন। এতে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এ জন্য রোজ সকাল ঘুম থেকে উঠে পানি খেতে হবে। ঠাণ্ডা পানি খেতে সমস্যা হলে মৃদু গরম পানি খেতে হবে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ দেবকিশোর গুপ্ত জানিয়েছেন, একজন সুস্থ মানুষেরও পানির চাহিদা স্বাস্থ্য, দৈহিক ওজন, কায়িক পরিশ্রমের পরিমাণ ও স্থানীয় আবহাওয়ার উপর অনেকটা নির্ভর করে। অন্যান্য প্রাণির মতোই মানুষের শরীরের মূল উপাদান পানি। শরীরের ওজনের প্রায় ষাট শতাংশ হচ্ছে পানীয় উপাদান। যা শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে।

ওই বিশেষজ্ঞ আরও জানিয়েছেন, ক্রনিক কিডনির অসুখ বা হৃদরোগের মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিমাণ মতো পানি খেতে হবে। কেননা, অতিরিক্ত পানি বা পানীয় জিনিস কিডনি ও হার্টের উপর প্রভাব ফেলে।

ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিন-এর গবেষণাপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন সুস্থ স্বাভাবিক পুরুষের দিনে ৩ থেকে প্রায় চার লিটার ও মহিলাদের ২.৫ থেকে প্রায় ৩ লিটার পানি পান করা উচিত।

এদিকে যে সকল পুরুষ প্রস্টেটের অসুখে ভুগছেন তাদের সন্ধ্যার পর পানি খেলে বারবার প্রস্রাবের জন্য দৌড়াতে হয় বলে জানিয়েছেন ইউরোলজিস্ট অমিত ঘোষ। তাই দিনের বেলা প্রয়োজনীয় পানি পান করে সন্ধ্যার পর হালকা পানি খাওয়া উচিত তাদের। অন্যদিকে কিডনিতে পাথর থাকলে বেশি পানি পান করলে প্রস্রাবের সাথে ছোট ছোট পাথর বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পানি পানের বিষয়ে কোনও আপস করা উচিত নয়। সূত্র : আনন্দবাজার

এসআর/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS