logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭

এবার ভারতে আসছে বুলেট ট্রেন

train, coming soon, bullet
বুলেট ট্রেন
বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। উচ্চগতি সম্পূর্ণ বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে পারে। বিশ্বের সর্বপ্রথম বুলেট ট্রেন চালু হয় জাপানের শিনকানসেন ট্রেন। এবার বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতে বুলেট ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশিদের বুলেট ট্রেন দেখতে আর জাপানে যেতে হবে না। সহজেই পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে গিয়ে বুলেট ট্রেনে দেখতে পাবেন। 

জাপানে ১৯৬৪ সালের ১ অক্টোবর এই ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় এবং সেই সময় ট্রেনটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। সেদিন ট্রেনটি টোকিও থেকে ওসাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বুলেট ট্রেনের জন্য জাপান ৫৫ বছর ধরে রেলপ্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ অবধি এই ট্রেন উন্নত থেকে উন্নততর প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে এটি জাপানের রাজধানী থেকে প্রায় ৩২২ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সর্বশেষ যে বুলেট ট্রেনটি নিয়ে জাপান কাজ করছে তার গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার। এই গতি দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই পর্যন্ত দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু করতে নতুন প্রকল্প শুরু করেছে ভারত। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি রুপি, এর পুরোটাই জোগান দেবে ভারত সরকার। দেশটিতে এটাই হতে চলেছে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

গত বৃহস্পতিবার বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিষয়ে ভারতের ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল করপোরেশন (এনএইচএসআরসিএল) এবং দেশটির অন্যতম অবকাঠামো নির্মাতা লারসেন অ্যান্ড টুবরো (এলঅ্যান্ডটি)-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়েছে। বুলেট ট্রেন প্রকল্পে গুজরাট অংশের ৩২৫ কিলোমিটার রেললাইনের কাজ পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি।

প্রকল্পের মহারাষ্ট্র অংশে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় না থেকে গুজরাট অংশের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নির্মাতারা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই এ কাজ শুরু করতে লোক লাগিয়েছেন।

বুলেট ট্রেন প্রকল্প বিষয়ে ভারতে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাতোশি সুজুকি বলেছেন, করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় এ ধরনের বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প উপহার দেয়া হলো।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতে শুধু জাপানি প্রযুক্তির স্থানান্তরই হবে না, এটি করিডোর বরাবর নগর উন্নয়নেও সহায়তা করবে।

ভারতীয় রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী ভি কে যাদভ বলেছেন, আহমেদাবাদ-মুম্বাই বুলেট ট্রেন প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সরকার আরও সাতটি রুটে এ ধরনের টেন করিডোর চালুর উদ্যোগ নেবে।

উল্লেখ, চার দশক ধরে জাপানিরা বিভিন্ন দেশে বুলেট ট্রেন রপ্তানি করছে। এর ফলে বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই বুলেট ট্রেন পরিবহনব্যবস্থা শুরু হয়েছে। জাপানের মতো ফ্রান্সও এই প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেছে। দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং সর্বশেষ মরক্কো উল্লেখযোগ্য। চীন প্রথম দিকে বুলেট ট্রেন আমদানি করলেও এখন নিজেরাই তৈরি করছে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির (ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার) বুলেট ট্রেন চালু করেছে চীন। এর পাশাপাশি দীর্ঘতম দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কের মালিকও তারা। এই নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার, যা সারা বিশ্বের মোট বুলেট ট্রেন লাইনের যোগফলের দুই-তৃতীয়াংশ। 

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS