logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭

পাথরের মতো মুখ করে বসে ছিলেন সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৫৩
রোহিঙ্গা সঙ্কট, অং সান সু চি
বিবিসি বাংলা
ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার শুনানির প্রথমদিনে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার ঘটনা একের পর এক তুলে ধরা হচ্ছিল, তখন পাথরের মতো মুখ করে বসে ছিলেন অং সান সু চি। খবর বিবিসি বাংলার।

এসব অভিযোগের জবাব দিতে মিয়ানমারের পাঠানো প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্টেট কাউন্সিলর সু চি। আইসিজেতে এই মামলা করেছে গাম্বিয়া। দেশটির বিচারমন্ত্রী আবুবকর তাম্বাদু শুনানির শুরুতে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যার প্রশ্নে বিশ্ববিবেককে জাগাতে মামলাটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সারা বিশ্ব কেন এখন নীরব দর্শক? কেন আমাদের জীবদ্দশাতে এটা আমরা ঘটতে দিচ্ছি? সবাই মনে করে এখানে মিয়ানমারের বিচার হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এখানে বিচার চলছে আমাদের সামগ্রিক মানবিকতার। এদিন শুধু বাদী পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়।

মিয়ানমার এসব অভিযোগের জবাব দেবে বুধবার। এরপর বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে যুক্তিতর্ক হবে। দ্য হেগ থেকে বিবিসির প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে নোবেল বিজয়ী সু চি যুক্তি দেখাবেন যে এই বিষয়ে বিচার করার অধিকার নেই আইসিজের।

শুনানিতে বক্তব্য রাখার সময় গাম্বিয়ার নিযুক্ত এক কৌঁসুলি অ্যান্ড্রু লোয়েনস্টিন রাখাইনের মংডু শহরে বেশ কয়েকটি খুনের বিবরণ তুলে ধরেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই শহরের কয়েকশ’ রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা এবং নারীকে ধর্ষণ করে।

আইসিজের ওয়েবসাইট থেকে লাইভ স্ট্রিম করা শুনানিতে এসব বিবরণ যখন পড়ে শোনানো হচ্ছিল, তখন সু চির মুখে কোনও অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি কখনও সোজা সামনে তাকিয়ে বা কখনও মাটির দিকে তাকিয়ে তাকে বাদী পক্ষের বক্তব্য শুনছিলেন।

গাম্বিয়ার কয়েকটি লক্ষ্যের একটি হলো, আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ লাভ করা। দেশটির উদ্দেশ্য হলো মিয়ানমারে যেসব রোহিঙ্গা আছেন, তাদের ওপর কোনও ধরনের নির্যাতন না হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা।

পাশাপাশি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ধ্বংস করার বিরুদ্ধে এই আদেশ কার্যকরী হবে বলে আশা করছে বাদী পক্ষ। অক্সফোর্ডের ট্রিনিটি কলেজের আইনের অধ্যাপক মাইকেল বেকারের মতে, আদালত এই রায় দেবে কি দেবে না, তা নতুন বছরের শুরুর দিকেই জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র। এই মামলার নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। কিন্তু শুরুর দিকেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপত্তা বিধানের প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কে/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ
  • আন্তর্জাতিক এর পাঠক প্রিয়