logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

  ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:১০
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৫১

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার শীতল অভ্যর্থনায় ভারতের কূটনীতিক মহলে বিতর্ক

শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি আনন্দবাজার)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান গত অক্টোবরে যখন দিল্লিতে নামে, তখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রথমবারের সাংসদ তথা নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। পরে শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী নেতারা বলেছিলেন, এটা ‘যেচে অপমান নেয়া’। খবর আনন্দবাজারের।

প্রতিবেশী বলয়ে ভারতের ‘পরম মিত্র’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বা কোনও সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন— এটাই ছিল প্রত্যাশা। প্রথমবার জিতে আসা কোনও প্রতিমন্ত্রী নন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শুক্রবার কলকাতায় যান শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁকে স্বাগত জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মন্ত্রী, এমনকি শীর্ষ আমলাকেও পাঠানো হয়নি। যা কি না বাঁধাধরা কূটনৈতিক প্রথা এবং সৌজন্যের বিরোধী।

তবে কেন এমন উদাসীন আচরণ, সে বিষয়ে সরকারিভাবে মুখ খুলতে চাইছে না সাউথ ব্লক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ঘরোয়া রাজনীতির বাধ্যবাধকতাই কারণ। একদিকে তারা যখন দেশজুড়ে এনআরসি করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশছাড়া করার কথা বলছেন, সেই সময়ে এনআরসি-বিরোধী মমতা ব্যানার্জিকে পাশে নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতেই চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা।

কিন্তু সিনিয়র কোনও আমলাকেও কেন কলকাতায় পাঠায়নি মোদি সরকার, তা নিয়ে চুপ সাউথ ব্লকের কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে দিল্লির এই আচরণে প্রতিবেশী বলয়ে ভারতের অস্বস্তি যে আরও বেড়ে গেল, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই কূটনীতিকদের। 

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, বিভিন্ন মঞ্চে এ কথা বার বার বলেছেন খোদ মোদি। পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে আসা জঙ্গিপনায় ভারত যখন চাপে, সেই সময় হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতবিরোধী সন্ত্রাস উৎখাত করবেন। সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবেশীদের মধ্যে একমাত্র ঢাকাকেই বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ে পাশে পেয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি ভারতের অনুরোধে ঢাকা তাদের দেশের ভেতর দিয়ে আসাম-ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহনের জন্য ‘ফি’ এক ধাক্কায় টন প্রতি ১০৫৪ টাকা থেকে কমিয়ে করেছে ১৯২ টাকায়। এমন ‘পরম মিত্রের’ ভারত সফরে দিল্লির এই উদাসীনতা কেন, সে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কিছু না বললেও দিল্লির এই উদাসীনতা যে ঘরোয়া রাজনীতিতে শেখ হাসিনার পক্ষে চাপের, সে কথা ঘরোয়াভাবে জানানো হচ্ছে। এনআরসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হুমকির ফলে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা বাড়ছে। দিল্লির আচরণ তাকে উসকে দিতে পারে।

এদিকে চীনপন্থী গোতাবায়া রাজাপাকসে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পর সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চীনের কাছে ঋণের ফাঁসে কার্যত বন্দি কলম্বো তাদের হাম্বানটোটা বন্দরটি তুলে দিয়েছে বেইজিংয়ের হাতে। ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারতবিরোধী ঘাঁটি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। এবার গোতাবায়ার জমানায় সেই কাজ মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে ডোকলাম পরবর্তী ভুটান এবং নেপালও খোলাখুলিভাবেই বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের জন্য মোটা পর্যটন শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান। আর চীনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ায় দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে নেপালের।

ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত যৌথ সেনা মহড়া থেকে কাঠমান্ডুর সরে দাঁড়ানো, চীনের সঙ্গে পণ্য পরিবহন চুক্তি করা, বেইজিংয়ের মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবর-এ নিজেদের সামিল করার মতো বিষয়গুলি থেকে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সফরকারী রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দিল্লির এমন শীতল ব্যবহারে অবাক অনেকেই।

RTVPLUS