logo
  • ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশে দেশে এত বিক্ষোভ কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৪ | আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:০১
ইরাক, মিশর
ছবিতে চিলি, হংকং ও লেবাননের বিক্ষোভ
গত কয়েক সপ্তাহে লেবানন, স্পেন ও চিলিতে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। এসব বিক্ষোভের ধরন, কারণ ও লক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও কিছু বিষয়ে মিল আছে। খবর বিবিসি বাংলার।

হাজার মাইল দূরের কোনও দেশে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখন প্রায় একই বিষয়ে প্রতিবাদ করতে বিক্ষোভকারীরা একে অপরের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পায়। একই ধরনের কিছু বিষয় এসব বিক্ষোভকারীকে পথে নামতে বাধ্য করেছে।

ইকুয়েডরে সহিংস প্রতিবাদ

ইকুয়েডর

এই অক্টোবরে ইকুয়েডরে বড় ধরনে বিক্ষোভ হয়। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারই ফান্ডের পরামর্শে দেশটির সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনেক বছর ধরে চলে আসা জ্বালানিতে দেয়া ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পরই বিক্ষোভ শুরু হয়।

ভর্তুকি বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে পেট্রোলের দাম অনেক বেড়ে যায়। মূল্যবৃদ্ধির এই ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছেন অনেকেই। আদিবাসী বাসিন্দারা আশঙ্কা করছিলেন, জ্বালানির মূল্য বাড়লে দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাবে।

তাই বিক্ষোভকারীরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবং ভর্তুকির দাবিতে বিক্ষোভ করে। দেশটির সংসদে হামলে পড়ে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। অবশেষে, আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হঠে এবং জ্বালানি তেলে ভর্তুকি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।

চিলি

চিলিতে আন্দোলন দানা বাঁধার পেছনেও মূল্যবৃদ্ধি। জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য এবং দেশটির দুর্বল মুদ্রার কারণ দেখিয়ে চিলি সরকার বাস ও মেট্রোর ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ছিল গরিবের ওপর সরকারের আরেকটি আঘাত।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০ দেশের যৌথ মহড়া শুরু
---------------------------------------------------------------

গত শুক্রবার আন্দোলনকারীরা যখন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তখন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরাকে এক ইতালিয়ান অভিজাত রেস্তোরাঁয় খেতে দেখা যায়। অনেকের মতে, চিলির রাজনীতিকদের সঙ্গে জনগণের বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি এটি।

ইকুয়েডরে যেমন জ্বালানি তেলের ভর্তুকি বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার প্রত্যাহার করেছে, চিলিতেও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকার বাতিল করেছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এখন অন্যান্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে আন্দোলন করছে।

বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ লেবাননে

লেবানন

লেবাননেও বিক্ষোভ ছড়িয়েছে কর আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। হোয়াটসঅ্যাপ কলের ওপরে কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় লেবানিজ সরকার। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যা, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ফুঁসে ওঠে।

যদিও ঋণের ভার বাড়ছে, তবু আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্যাকেজ নিয়ে সরকার নানা অর্থনৈতিক সংস্কার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বলছে, সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক নীতির বলি হিসেবে তারা ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার দেশটির সরকার একটি সংস্কার প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। বিক্ষোভ সামাল দেবার উপায় হিসেবে, এই প্যাকেজের আওতায় রাজনীতিবিদদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেবানিজ সরকার।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইরাকে বিক্ষোভ

ইরাক

ইরাকেও চলমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে ইরাকি জনতা। দেশটি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ, মেধার ভিত্তিতে সরকারি কাজে নিয়োগ না দিয়ে জাতিগত ও অন্যান্য বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছে, জনগণের টাকা ব্যয় করে নেতা-নেত্রীরা এবং তাদের অনুসারীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে পাবলিক ফান্ড বা সরকারি কোষাগারের অর্থ কোনও কাজেই আসছে না।

মিসরেও বিক্ষোভ চলছে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে

মিশর

দুর্নীতির অভিযোগে মিশরের সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। স্পেনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর ডাকে গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে বিক্ষোভ হয়। তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সেনাবাহিনীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

সরকারি ফান্ডের টাকা প্রেসিডেন্ট সিসি এবং তার সরকার অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেন আলী। সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষও একই অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে।

হংকং

সরকারি একটি বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে হংকংয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিলটিতে বলা হয়, কোনও অপরাধী ব্যক্তিকে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চীনের মূল ভূখণ্ডে হস্তান্তর করা যাবে। হংকং চীনের অংশ হলেও বিশেষ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।

কিন্তু হংকংয়ের মানুষের মধ্যে এই বোধ তীব্র হচ্ছে যে, বেইজিং তাদের ওপরে আরও বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। চিলি ও লেবাননের মতই হংকংয়ের বিক্ষোভেও কাজ হয়েছে। বিতর্কিত বিলটি প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভ এখনো চলমান।

এখন যারা আন্দোলন করছে, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো সব নাগরিকের ভোটাধিকার। এছাড়া বিক্ষোভে পুলিশের সহিংসতার স্বাধীন তদন্ত এবং গ্রেপ্তার করা আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি আছে।

বার্সেলোনা বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভ

বার্সেলোনা

কাতালানের স্বাধীনতাকামী নেতাকে কারাবন্দী করার প্রতিবাদে স্পেনের বার্সেলোনার রাস্তায় নেমে আসে কয়েক লাখ মানুষ। ২০১৭ সালে বার্সেলোনায় গণভোটের আয়োজন এবং কাতালানের স্বাধীনতা ঘোষণা করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

কিন্তু এই রায় ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই জনপ্রিয় একটি অ্যাপের মাধ্যমে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে, হংকংয়ের প্রতিবাদকারীদের মতো এল পার্ট এয়ারপোর্ট এলাকায় সবাই জড়ো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, বিমানবন্দরটির দিকে আসা তরুণরা বলছিল যে আমরাও দেখাবো আরেক হংকং।

পুলিশ যদি জল কামান বা টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে তাহলে কিভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হবে এই বিষয়ে কাতালান বিক্ষোভকারীরা নিজেদের মধ্যে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে একে অপরকে সতর্ক করেছে। অনেকেই মনে করছে, এখনই সময় মানুষকে রাস্তায় নামার।

বলিভিয়া

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস যখন নির্বাচনে পুনরায় জয় লাভ করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ কয় মেয়াদে থাকতে পারবে এই বিধানকে মোরালেস যখন বাতিলের পরামর্শ দেয়, তখনই গণভোটে এটি প্রত্যাখ্যাত হয়। কিন্তু আদালতে গিয়ে তার দল নিজেদের পক্ষে রায় পায়। এতে তার টানা চতুর্থবারের মতো আবার প্রেসিডেন্ট হবার পথ উন্মুক্ত হয়।

লন্ডনে বিক্ষোভ

এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডে বিক্ষোভ চলছে। গতমাসে কয়েক লাখ মানুষ বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকে অংশগ্রহণ করে।

কে/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ
  • আন্তর্জাতিক এর পাঠক প্রিয়