logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তা থেকে মঞ্চের গায়িকা জ্যামোরকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৪৬
যুক্তরাষ্ট্র, এমিলি জ্যামোরকা
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএন
এমিলি জ্যামোরকা গৃহহীন এক নারী। তিনি দিনের পর দিন রাস্তায় কাটিয়েছেন। তিনি কখনও ভাবেননি যে তার জীবনে এমন কোনও দিন আসবে যেদিন তাকে চিনবে সারা বিশ্ব।

অথচ তাকে শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্সিলমেম্বার জো বুসকাইনো ‘আমেরিকার নতুন সুইটহার্ট’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গান গাওয়ার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। খবর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনের।

জ্যামোরকা মঞ্চে উঠে বলেন, আমি গানের প্রস্তুতির জন্য তেমন সময় পাইনি। তাই আমার গাওয়া গানটি আমি আবার গেয়ে শোনাচ্ছি।

তার গান শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পাওয়া সঙ্গীত প্রযোজক জোয়েল ডায়মন্ড তাকে একটি রেকর্ডিংয়ের প্রস্তাব দেন।

এই মঞ্চে গাওয়ার জন্য তাকে ৭০০ ডলার প্রদান করা হয়। এই বিষয়ে জ্যামোরকা বলেন, এটি তার কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।

কারণ দুই সপ্তাহ আগেও লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তা ৬০ হাজার মানুষের একজন ছিলেন জ্যামোরকা। তিনি কখনও ভাবেননি তার গাওয়া গান মানুষ এত পছন্দ করবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি জানি না আমার সঙ্গে এসব কী হচ্ছে! এত দ্রুত ঘটনগুলো ঘটে যাচ্ছে যা আমি কখনও কল্পনা করিনি।

তিনি বলেন, আমি কখনও ভাবিনি রাস্তায় গান গাওয়া এক নারী এভাবে এত দ্রুত মঞ্চে গাওয়ার সুযোগ পাবে।

নিজের জীবনের উঠে আসার গল্প বলতে গিয়ে জ্যামোরকা বলেন, গতমাসে আমি একদিন ভুল করে একটি ট্রেনে উঠে পড়ি। মন খারাপ হওয়ায় পরের উইলশায়ার নরমেনডি মেট্রো স্টেশনে নেমে পড়ি। মন ভালো অনুভব করার জন্য স্টেশনের পাশে বসেই গান গাইতে শুরু করি। পাশে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার গান শুনে আমার দিকে এগিয়ে আসেন। প্রথমে আমার দিকে পুলিশের এগিয়ে আসাকে ভালো ভাবে না নিলেও পরে আমি খেয়াল করি তিনি তার ফোন বের করে আমাকে ভিডিও করছেন। আমার গান শুনে পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে আরও কিছু গান গাইতে বলেন। পরে তার ধারণ করা ভিডিও লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে। ভিডিওটি এক মিলিয়নের বেশি মানুষ দেখে। পরের দিন আমি নিজেকে খবরে দেখতে পাই।

জ্যামোরকা প্রশিক্ষিত বেহালাবাদক। তিনি তার ২০ বছর বয়সে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। এখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন। কিন্তু জটিল রোগ এবং হাসপাতালের বিল তাকে নিঃশ্ব করে ছাড়ে।

তিনি বলেন, চিকিৎসা খরচ মেটানোর মতো অর্থ আমার কাছে ছিল না। তাই অর্থের জন্য আমি আমার বেহালা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ি।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে সম্পদ বলতে শুধু কণ্ঠই ছিল। এটাকেই আমি আমার জীবন যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করি।

জ্যামোরকা এখন গানের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন। তিনি এটিকে তার ক্যারিয়ার বানাতে চান। তবে সবার আগে তিনি একটি বাড়ি চান যেখানে তিনি বাস করতে পারবেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের দাতব্য সংস্থা ‘ডাউনটাউন উইমেন’স সেন্টার’ ইতোমধ্যে তাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা জানিয়েছে। গোফান্ডমি ক্যাম্পেইন তার জন্য ৬০ হাজার ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছে।

জ্যামোরকা মনে করেন, তার এই গল্প অসহায় ও গৃহহীন কিন্তু আশাবাদী মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

কে/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়