logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

চন্দ্রাভিযান ‘ভুয়া’ মনে করেন ৬ শতাংশ মার্কিনি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪২
চন্দ্রাভিযান
ছবি: সংগৃহীত
মানুষ চাঁদে পা রাখার ৫০ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও অনেকের মনে মানুষের চাঁদের বুকে পা রাখা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অবস্থা এমন যে, যে খোদ মার্কিন মুলুকেরই ছয় শতাংশ মানুষ মনে করে চাঁদে পা রাখার বিষয়টি গালগল্প।

bestelectronics
তাদের দাবি, মানুষের চাঁদে পা রাখার দৃশ্য হলিউডের কোনও স্টুডিওতে ধারণ করা হয়েছে। কারণ নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন যখন চাঁদের বুকের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা রাখেন, তখন সেটিকে উড়তে দেখা যায়। অথচ মহাশূন্যে তা উড়ার কথা নয়। যদিও নাসার যুক্তি হচ্ছে অলড্রিন পতাকার দণ্ড নাড়ানোয় অমন দেখা গিয়েছিল।

মানুষের চন্দ্রাভিযান নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের এ বিষয়ে চলতি বছরের জুনে একটি জরিপ করা হয়। সেখানে ছয় শতাংশ মার্কিনি জানান, তারা চন্দ্রাভিযানকে মিথ্যা বলে মনে করেন। আর এ ঘটনা ‘সত্য না মিথ্যা’ তা বুঝতে পারেন না ১৫ শতাংশ মানুষ।

মূলত নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের বুকে পা দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা ছড়াতে থাকে। তবে এসব গুজব বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পালে হাওয়া লাগে ১৯৭৬ সালে একটি বই প্রকাশ হওয়ার পর। ‘উই নেভার ওয়েন্ট টু মুন: আমেরিকাস থার্টি বিলিয়ন ডলার সুইন্ডল’ নামের ওই বইটির লেখক বিল কেসিং নামের একজন সাংবাদিক।

সেখানে কেসিং লিখেন, মানুষ কখনও চাঁদে যায়নি; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসলে তিন হাজার কোটি ডলারের প্রবঞ্চনা করা হয়েছে। ওই বইয়ে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল যা পরবর্তী বছরগুলোতে চন্দ্রাভিযানের সাফল্যে অবিশ্বাসীদের বিতর্কের ‍মূল যুক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে যারা মানুষের চাঁদে পা রাখার বিষয়টি বিশ্বাস করেন না, তারা প্রায় প্রমাণ হিসেবে আরও একটি বিষয়টির কথা উল্লেখ করেন। তাদের প্রশ্ন, কেন চাঁদে নামার সেই ছবির পেছনের আকাশে কোনও নক্ষত্র দেখা যাচ্ছে না?

বাস্তবে আসলে এই ছবিতে উজ্জ্বল আলো এবং অন্ধকারের একটা বিরাট পার্থক্যই চোখে পড়ে। এ বিষয়ে চেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের অধ্যাপক ব্রায়ান কোবারলিন বলেন, এর কারণ চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়। সে কারণে ছবিতে এত উজ্জ্বলতা চোখে পড়ছে। আর এই উজ্জল আলোর কারণেই পেছনের আকাশের তারকার আলো ম্লান হয়ে গেছে।

এ কারণেই অ্যাপোলো ১১ মিশনের ছবিতে চাঁদের আকাশে কোনও তারা দেখা যায় না। কারণ এসব তারার আলো খুবই দুর্বল। আর ক্যামেরার এক্সপোজার টাইমও হয়তো ছিল অনেক বেশি।

অবিশ্বাসীদের সব যুক্তি খণ্ডন করে নাসার সাবেক এক ইতিহাসবিদ রবার্ট লনিয়াস বলেন, আমরা যদি চাঁদে না গিয়ে থাকি এবং এরকম নাটক সাজিয়ে থাকি; তাহলে সোভিয়েতদের তো সেটা ফাঁস করে দেয়ার সক্ষমতা এবং ইচ্ছা দুটিই ছিল। কিন্ত তারা তো এ বিষয়ে একটি শব্দও বলেনি। সেটাই তো এর পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়