logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

ইঞ্জিনে পাখির বাসা, দেড় মাস বসে রইলেন ‍তুরস্কের ট্রাকচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২১ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৭ | আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৯
তুরস্ক, পাখির বাসা
ছবি: সংগৃহীত
আবেগ মাঝে মাঝে মানুষকে এক ভিন্ন রূপ দেয়। আর তাই ভালোবাসা ও স্নেহ কোনো যুক্তিতর্কই মানে না। এজন্য ইঞ্জিনে ডিমসহ পাখির বাসা দেখে আর ট্রাক চালু করতে পারেননি তুরস্কের ট্রাকচালক বাহাতিন গুরসি। নিজের একমাত্র আয়ের উৎস হওয়া সত্ত্বেও ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো উড়ে যাওয়া পর্যন্ত ট্রাক না চালানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।

bestelectronics
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছেই একটি ছোট শহরে বাড়ি বাহাতিনের। বাহাতিনের সংসার চলে ট্রাক চালিয়ে। আশেপাশের বড় শহরগুলোতে মাল পরিবহনের কাজ করেন তিনি। এ বছর ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরেন বাহাতিন। বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় রেখে দেন তার ট্রাক। তখনই ট্রাকের ইঞ্জিনে বাসা বাঁধে একটি ছোট্ট মা পাখি। সেই বাসায় পাড়ে ডিমও।

অবশ্য পুরো বিষয়টাই অজানা ছিল ট্রাকচালকের। ছুটি শেষে ট্রাক নিয়ে বের হতে গিয়েই প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন তিনি। কিন্তু আশেপাশে মা পাখিটিকে দেখতে পাননি তিনি। ট্রাক চালু করলেই ইঞ্জিনের ঝাঁকুনিতে বাসা ভেঙে ডিম নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তখনই মনস্থির করে ফেলেন বাহাতিন। যতদিন না ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উড়ে যাবে, তিনিও ততদিন ট্রাক চালাবেন না। বাহাতিনের এই সিদ্ধান্তে মত দেয় তার পরিবারও।

এরপর শুরু হলো অপেক্ষা। প্রতিবেশীদের ছেলে-মেয়েরা যেন পাখির বাসার কাছে না যায়, সেদিকে ছিল তীক্ষ্ণ নজর। একসময় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। ৪৫ দিন পর বাচ্চাগুলো উড়তে শিখলে তাদের নিয়ে বাসা ছেড়ে উড়ে যায় মা পাখি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বাহাতিন।

তবে এতদিন ট্রাক না চলায় তার আয় বন্ধ ছিল। এসময় ফিরিয়ে দিয়েছেন মোটা অঙ্কের ভাড়ার বায়নাও। তাই এবার ট্রাক নিয়ে আবার বের হতে উৎসাহী তিনি। পাশাপাশি ছোট্ট পাখিগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে পেরেও খুশি বাহাতিন।

বাহাতিনের এই মানবিকতার কাহিনী প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন তিনি। অবশ্য এ নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন বাহাতিন। অনেকদিন পর আবার কাজে ফিরতে পেরে খুশি তিনি।

বাহাতিন বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে সোমবার (১৫ জুলাই) পাখিটা উড়ে গেছে। এবার আমি আবার আয় করতে পারব। আমি খুব খুশি। খুশি বাহাতিনের ছোট মেয়ে আয়সিমাও। পাখিগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে আয়সিমা বলেন, পাখি বাসা বানানোর কারণেই বাবাকে এতদিন কাছে পেলাম। আমি খুব খুশি। বাবাকে আমি ভালোবাসি।

এ/পি

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়