• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় রাহুল, চলছে নতুন নেতার খোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২৮ মে ২০১৯, ১২:৪৫ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ১৩:০৪
ছবি: সংগৃহীত
লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রাহুল গান্ধী। এখনও তিনি এই সিদ্ধান্তে অনড় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

whirpool
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কংগ্রেসের দুই বর্ষীয়ান নেতা আহমেদ প্যাটেল এবং কে সি বেণুগোপালের সঙ্গে বৈঠকে আবারও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন রাহুল। দলের একটি শীর্ষ সূত্রের দাবি, এমনকি নতুন নেতা খোঁজার জন্যও দুই নেতাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন তিনি।

লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর শনিবার দলের কার্যকরী কমিটির বৈঠকেই কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রাহুল। কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। বরং ওয়ার্কিং কমিটির নেতা-নেত্রীরা মনে করেন, দলের দুঃসময়ে এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে চাপে ফেলতে পেরেছেন রাহুলই।

তাই দলের সভাপতি পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তারা। এমনকি সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কাও তাকে বুঝিয়ে তখনকার মতো শান্ত করেন।

সে দিনের মতো বিষয়টির সমাধান হলেও পরে ফের কঠোর অবস্থান নেন রাহুল। সূত্রের খবর, সোনিয়া-প্রিয়াঙ্কা আরও এক দফা বুঝিয়েও রাজি করাতে পারেননি এবং তারাও শেষ পর্যন্ত রাহুলের সিদ্ধান্তেই সায় দিয়েছেন। অসংখ্য নেতা-নেত্রী ফোনে বা দেখা করে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এই দুদিনে। কিন্তু দলের একাধিক সূত্রে খবর, রাহুল আর কোনোভাবেই কংগ্রেস সভাপতির পদে ফিরতে রাজি হননি।

কংগ্রেসের নবনির্বাচিত সাংসদরা তার সঙ্গে দেখা করার আর্জি নিয়ে ফোন করেছিলেন। কিন্তু রাহুল কারও সঙ্গেই সাক্ষাতে রাজি হননি। তার সব অ্যাপয়েনমেন্ট, বৈঠক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সবকিছুই বাতিল করেছে দল। সেটাও যে রাহুলের নির্দেশেই হয়েছে, দলের অন্দরমহলে খবর তেমনই।

রাহুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, পদ ছাড়ার ব্যাপারে আর কোনো দ্বিমতই নেই। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শুধু নতুন কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন করা পর্যন্ত দায়িত্বভার সামলাবেন তিনি। সেই সময়টুকু দলকে দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যেও দলের সাংগঠনিক বা অন্য কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নেবেন না বলেই সূত্রের খবর।

এদিকে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, রাহুলের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছেন। পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি কে হবেন- তা নিয়েও দলের ভেতরে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা সিডব্লিউসি-র পরবর্তী বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুলের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করা হতে পারে।

অন্যদিকে শনিবারের কার্যকরী বৈঠকে ইস্তফার কথা ঘোষণার পর এই প্রথম টুইট করলেন রাহুল। সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুবার্ষিকীতে শান্তিবনে গিয়ে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রাহুল।

এরপর এক টুইটে তিনি লিখেন, একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশকে শক্তিশালী করার জন্য তার মৃত্যু দিবসে চলুন আমরা জওহরলাল নেহরুর অবদানকে স্বীকার করি। তার সেই অবদানের জন্যই ভারতবর্ষে ৭০ বছর ধরে গণতন্ত্র জীবিত।

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়